প্রকাশিত:
২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:১৩
নিজ দেশে দীর্ঘদিনের সংকট থেকে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া আফগান নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্প্রতি জোরদার করেছে পাকিস্তান ও ইরান। এর ফলে লাখো আফগানকে সীমান্ত পেরিয়ে এমন এক দেশে ফিরতে হচ্ছে, যা ইতোমধ্যেই চরম দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত। কাবুল থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারসহ কিংবা একা—যেভাবেই তারা দেশে ফিরুক না কেন, প্রত্যাবাসিত আফগানদের নতুন করে জীবন শুরু করতে হচ্ছে ভয়াবহ দারিদ্র্য, কর্মসংস্থানের অভাব এবং পরিবেশগত সংকটের মধ্যে।
আফগানিস্তানে ফিরে আসা এসব মানুষের জীবনযাত্রা ও চ্যালেঞ্জের চিত্র তুলে ধরেছে এএফপি। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ইরান ও পাকিস্তান থেকে অর্ধকোটির বেশি আফগান নিজ দেশে ফিরে এসেছেন। আইওএমের আফগানিস্তান কার্যালয়ের উপপ্রধান মুত্যা ইজোরা মাসকুন বলেন, এই সংখ্যা আফগানিস্তানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশের সমান।
শুধু গত বছরই প্রায় ৩০ লাখ মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ফিরেছেন, যাদের অনেকেই কয়েক দশক ধরে বিদেশে বসবাস করছিলেন। মাসকুন বলেন, এত বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রত্যাবাসন সামাল দেওয়া যেকোনো দেশের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ।
আইওএমের এক জরিপে দেখা গেছে, আফগানিস্তানে ফেরার কয়েক মাস পরও ৮০ শতাংশ প্রত্যাবাসনকারীর কোনো স্থায়ী বাসস্থান নেই। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরা ১ হাজার ৩৩৯ জন অভিবাসীর ওপর এই জরিপ চালানো হয়। জরিপ অনুযায়ী, অনেকেই পাথর বা কাদামাটির মতো উপকরণ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী ঘরে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।
অন্যদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর গত বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশে ফেরা আফগানদের আবাসন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে। ১ হাজার ৬৫৮ জন প্রত্যাবাসনকারীর ওপর করা ওই জরিপে দেখা যায়, ভাড়াটিয়া পরিবারগুলোর চার ভাগের তিন ভাগই নিয়মিত ভাড়া পরিশোধে অক্ষম। একই সঙ্গে অধিকাংশ পরিবারকে একটি কক্ষে চারজন পর্যন্ত গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান ও ইরান থেকে ফেরা প্রাপ্তবয়স্কদের মাত্র ১১ শতাংশের পূর্ণকালীন চাকরি রয়েছে। ইউএনএইচসিআরের হিসাবে, গত বছরের প্রথম কয়েক মাসে দেশে ফেরা মানুষের গড় মাসিক আয় ছিল মাত্র ২২ থেকে ১৪৭ মার্কিন ডলারের মধ্যে।
আইওএম আরও জানায়, প্রত্যাবাসনকারী পরিবারের অর্ধেকের বেশি স্থায়ী বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে নারীপ্রধান পরিবারগুলো ‘উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ঝুঁকিতে’ রয়েছে। এসব পরিবারের প্রায় অর্ধেকই নিরাপদ পানির সংকটে ভুগছে।
এ বিষয়ে আফগান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, সারা দেশে প্রত্যাবাসনকারীদের মধ্যে তিন হাজারের বেশি পরিবারকে জমির প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকের পর এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আফগানিস্তানে পৌঁছানোর পর প্রত্যাবাসনকারীরা সাধারণত যাতায়াত সহায়তা, একটি সিম কার্ড এবং সীমিত পরিমাণ নগদ অর্থ সহায়তা পান। তবে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রয়োজনের তুলনায় এই সহায়তা যে অপ্রতুল, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে বাস্তবতায়।
মন্তব্য করুন: