বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল dailyvobnews@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • তেলের নতুন দাম আজ: এপ্রিলে সংকটের ভয় নেই, ডিজেলের বড় মজুদের সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
  • গুম হওয়া ব্যক্তিদের ‘জুলাইযোদ্ধা’ স্বীকৃতির দাবি: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন তাহসিনা রুশদীর লুনা
  • তেলের বাজারে অস্থিরতা: সাশ্রয় করতে 'হোম অফিস' ও স্কুল-কলেজে অনলাইন ক্লাসের কথা ভাবছে সরকার
  • সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগের পরই সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি রেজাউল হাসান
  • ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ আর নয়, নতুন পে স্কেলের দাবিতে উত্তাল হচ্ছে সরকারি কর্মচারীরা
  • এবার বেতন পাবেন খেলোয়াড়রা: ১২৯ ক্রীড়াবিদকে কার্ড দিলেন প্রধানমন্ত্রী, লক্ষ্য ৫০০ জনের কর্মসংস্থান
  • এক নজরে সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠক
  • তেলের দাম বাড়বে না, তবে পাচার করলেই কঠোর ব্যবস্থা
  • সংসদ অধিবেশনে নাহিদ ইসলামের হুঙ্কার: জুলাই সনদের ভিত্তিতেই এ সংসদ, গণভোটের রায় অমান্য করা যাবে না
  • ফুরিয়ে আসছে পেট্রোল, বাড়ছে অস্থিরতা: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞের ভয়াবহ পূর্বাভাস

গোমূত্র নিয়ে শ্রীধর ভেম্বু ও কেরালা কংগ্রেসের বাকযুদ্ধ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪:০৮

আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক ভি কামাকোটি পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হওয়ার পর তাকে নিয়ে কটাক্ষ এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তীব্র বাকযুদ্ধে জড়িয়েছেন জোহো কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু ও কেরালা কংগ্রেস। ২০২২ সাল থেকে আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ভি কামাকোটি শিক্ষা ও গবেষণায় অবদানের জন্য পদ্মশ্রী পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। পুরস্কার ঘোষণার পর এক বিবৃতিতে কামাকোটি বলেন, ‘পদ্মশ্রী আমার কাছে একটাই অর্থ বহন করে- ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। এই সম্মান কোনো একক ব্যক্তির নয়; এটি একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।’ এরপরই কেরালা কংগ্রেস এক্সে কটাক্ষ করে লিখেছে, ‘ভি কামাকোটিকে অভিনন্দন। আইআইটি মাদ্রাজে তার যুগান্তকারী ‘গোমূত্র গবেষণা’র জন্যই দেশ তাকে সম্মান জানাচ্ছে, গোমূত্রকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার জন্য।’

এই মন্তব্যটি মূলত কামাকোটির সেই বক্তব্যকে ইঙ্গিত করে, যা গত বছর ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। তিনি দাবি করেছিলেন, গোমূত্রে ‘এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল’ ও ‘এন্টি-ফাঙ্গাল’ গুণ রয়েছে এবং তা আইবিএস (ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম)সহ নানা রোগ নিরাময়ে কার্যকর হতে পারে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন যিনি বৈজ্ঞানিক মনন ও যুক্তিবোধ গড়ে তোলার দায়িত্বে আছেন, তিনি কীভাবে এমন দাবি করতে পারেন? জবাবে কামাকোটি বলেন, গোমূত্রের এন্টি-ফাঙ্গাল, এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও এন্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ বৈজ্ঞানিকভাবেই প্রমাণিত।

কেরালা কংগ্রেসের কটাক্ষের জবাবে শ্রীধর ভেম্বু বলেন, প্রফেসর কামাকোটি ডিপ টেক-এ কাজ করেন, মাইক্রোপ্রসেসর ডিজাইন তার ক্ষেত্র। তিনি আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক। এটি ভারতের সেরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য। এই সম্মান তিনি সম্পূর্ণভাবে প্রাপ্য। ভেম্বু আরও বলেন, তিনি বৈজ্ঞানিক যুক্তির ভিত্তিতেই কামাকোটিকে সমর্থন করে যাবেন। তিনি বলেন, আমি আগেও বৈজ্ঞানিক কারণে তাকে সমর্থন করেছি, আবারও করব। গোবর ও গোমূত্রে অত্যন্ত সমৃদ্ধ মাইক্রোবায়োম রয়েছে, যা মানুষের জন্য মূল্যবান হতে পারে। তিনি আরও যোগ করেন, এগুলোকে গবেষণার যোগ্য মনে না করার পেছনে রয়েছে এক ধরনের দাসসুলভ ঔপনিবেশিক মানসিকতা। একদিন যখন হার্ভার্ড বা এমআইটি এ বিষয়ে গবেষণা প্রকাশ করবে, তখন এই মানসিকতার মানুষরাই সেটাকে ধর্মগ্রন্থের মতো মানবে।

এর পাল্টা জবাবে কেরালা কংগ্রেস বলে, গবেষণা মানে পশ্চিমা গবেষণাপত্র থেকে খাপছাড়া উদ্ধৃতি দেয়া নয়। এই গোবর ও গোমূত্র গবেষণার বাস্তব ফলাফল কী? আর কেন শুধু গরুর মলমূত্র? মহিষ, ছাগল কিংবা মানুষের বর্জ্য নিয়ে গবেষণা নয় কেন? তারা আরও দাবি করে, সম্প্রতি এমনই এক গোবর গবেষণার ফল সামনে এসেছে। মধ্যপ্রদেশ সরকার ক্যানসার চিকিৎসায় পঞ্চগব্য (গোবর, গোমূত্র, দুধ, দই ও ঘি) ব্যবহারের একটি গবেষণায় অর্থ দিয়েছিল।

তদন্তে দেখা গেছে, গোমূত্র ও গোবর কেনার নামে ১.৯২ কোটি রুপি খরচ দেখানো হয়েছে। যেখানে প্রকৃত খরচ ছিল মাত্র ১৫-২০ লক্ষ রুপি। প্রকল্পের মোট বরাদ্দ ছিল ৩.৫ কোটি রুপি। বাকি অর্থ খরচ হয়েছে গাড়ি কেনা, জ্বালানি এবং গোয়া ও বেঙ্গালুরু ভ্রমণে। গবেষণার ফল কী? কেরালা কংগ্রেস দাবি করে, এ ধরনের প্রকল্প খতিয়ে দেখলে আরও কেলেঙ্কারি সামনে আসবে। তারা আরও বলে, ক্যানসার গবেষণার প্রয়োজন অবশ্যই আছে। কিন্তু কেন জোর করে বলা হচ্ছে যে শুধু গোমূত্র বা গোবরই ক্যানসার সারাতে পারে? কোভিডের সময় আমরা দেখেছি, কীভাবে প্রতারকরা গোমূত্র ও গোবর দিয়ে ভাইরাস মারার চেষ্টা করেছিল। ফল কী হয়েছিল?

শেষে কেরালা কংগ্রেস শ্রীধর ভেম্বুকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়, আপনি যদি সত্যিই গোমূত্রের অলৌকিক গুণে বিশ্বাসী একজন বিলিয়নিয়ার হন, তবে আপনার কোম্পানি কেন গোমূত্র ও গোবর নিয়ে প্রকৃত গবেষণায় বিনিয়োগ করছে না? যদি গোমূত্র ক্যানসার সারাতে পারে, তবে তা হবে বিশ্বের জন্য ভারতের সবচেয়ে বড় অবদান। কথা নয়- কাজে দেখান, নিজের পকেট থেকে রুপি দিন।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর