প্রকাশিত:
২১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬:৫৭
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ সংকটে বিপর্যস্ত কিউবার পাশে দাঁড়িয়েছে চীন। কিউবায় চলমান চরম খাদ্য ও জ্বালানি সংকট নিরসনে বেইজিং থেকে বিশাল এক চালের চালান দেশটিতে পৌঁছেছে।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিউবার জনগণের জন্য পাঠানো চীনের এই জরুরি কর্মসূচির আওতায় মোট ৩০,০০০ টন চালের প্রথম কিস্তি সোমবার হাভানা বন্দরে এসে পৌঁছায়। সোমবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত হুয়া সিন এই সহায়তার হস্তান্তর করেন।
কিউবা বর্তমানে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবথেকে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটিতে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর ফলে রাজধানীসহ বিভিন্ন প্রদেশে দৈনিক ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাট (ব্ল্যাকআউট) ঘটছে। এছাড়া গত বছরের শেষের দিকে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘মেলিসা’র আঘাতে দেশটির অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কিউবা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কিউবার সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। কিউবার উপ-প্রধানমন্ত্রী অস্কার পেরেজ-অলিভা ফ্রাগা এই সহায়তার জন্য চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘এই দান দুই দেশের মধ্যকার গভীর বন্ধুত্বের প্রতিফলন এবং প্রতিকূল সময়ে চীনের নিঃস্বার্থ সহযোগিতার প্রমাণ।’
চীন মোট ৩০,০০০ টন চাল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। খাবারের পাশাপাশি চীন ইতিমধ্যে ৫,০০০টি সোলার পাওয়ার সিস্টেম, ওষুধের সরঞ্জাম এবং নির্মাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে যা হারিকেন মেলিসা পরবর্তী পুনর্গঠনে সহায়তা করবে। এই চাল কিউবার ১,৪০০টিরও বেশি দুর্গম এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, লাতিন আমেরিকায় মার্কিন প্রভাবের বিপরীতে চীন তার কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে কিউবার মতো ঘনিষ্ঠ মিত্রদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। চীন এবং কিউবা উভয় দেশই এই সহযোগিতাকে একটি ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের সমাজ’ গড়ার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
মন্তব্য করুন: