বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অপতথ্য, ভুল তথ্য, গুজব এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন তিনি—এমনটাই জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সুইডেনের রাষ্ট্রদূত। এ সময় ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিকেল পৌনে ৩টার দিকে রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস নির্বাচন কমিশনে পৌঁছান। বৈঠকটি ছিল নির্বাচন সংক্রান্ত সার্বিক প্রস্তুতি, পরিবেশ এবং স্বচ্ছতা বিষয়ে মতবিনিময়মূলক।
ইসি সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে রাষ্ট্রদূত নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে কমিশনের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে আগ্রহ দেখান। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য, ভুল তথ্য ও গুজব কীভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে—সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানতে চান। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রস্তুতির বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত আমাদের সঙ্গে আলোচনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন। অপতথ্য রোধ এবং সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে যদি কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন হয়, সে ক্ষেত্রে সুইডেন আগ্রহী বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত।
আখতার আহমেদ আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। নির্বাচন ঘিরে বিভ্রান্তি বা গুজব ছড়ানোর সুযোগ যাতে কেউ না পায়, সে জন্য কমিশন বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করছে। গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইসি সচিব জানান, আগামী ২৫ জানুয়ারির পর বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি মিশনগুলোর প্রতিনিধিদের জন্য আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হবে। ওই ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচন সংক্রান্ত সব বিষয়, প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অপতথ্য মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানানো হবে।
নির্বাচন কমিশন মনে করে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও তথ্য বিনিময় নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এ ধরনের কূটনৈতিক বৈঠক ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ইসি কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের এই সাক্ষাৎকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন: