প্রকাশিত:
১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩:০৯
বাংলাদেশের চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকায় ঢোকা ও অবস্থান নিষিদ্ধ করে তিন শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে পুলিশ, যা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ইতিহাসে নজিরবিহীন একটি ঘটনা। গত শনিবার ওইসব ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা উল্লেখ করে একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম যেমন রয়েছে, তেমনি দেখা যাচ্ছে একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতাদের নাম।
তাদের মধ্যে বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সংখ্যাই বেশি, যাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে জুলাই হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তালিকায় বিএনপির কয়েকজন স্থানীয় নেতার নাম রয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে, কারাগারে বন্দি ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস (ইসকন) নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নামও।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান সিএমপি কমিশনার।সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, এগুলো হচ্ছে সন্ত্রাসী। এদের বিরুদ্ধে তো নিয়মিত মামলাসহ নানান ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তো আমি চিন্তা করলাম যে, এটা এমন একটা এক্সট্রা কাজ যেটা করে রাখলে ভালো।
এর আগে, গত নভেম্বরে ‘অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারের নির্দেশ’ দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন সিএমপি কমিশনার।
তার এবারের পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন মানবাধিকারকর্মীরা। মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, পুলিশ যদি কাউকে জননিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে বা কারো বিরুদ্ধে যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে পুলিশের উচিৎ তাকে আটক করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো। কিন্তু সেটা না করে যেভাবে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, সেটি রীতিমত হাস্যকর এবং আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো।
গ্রেফতারের পরিবর্তে এলাকায় অবস্থান ও প্রবেশ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে বলেও আশঙ্কা করেছেন কেউ কেউ।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসীদের মধ্যে যারা এতদিন চট্টগ্রামে অবস্থান করছিলেন, সিএমপির এমন আদেশের ফলে শঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, এখন তারা অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারেন। তখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে।
তালিকায় কারা?
সিএমপির গণবিজ্ঞপ্তিতে প্রথম দফায় ৩৩০ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
এর মধ্যে তালিকার ২২৭ নম্বরে থাকা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর আতাউল্লাহ চৌধুরী আগেই মারা গেছেন। ফলে তার নামটি কেটে দিয়ে পরবর্তীতে ২২৯ জনের সংশোধিত আরেকটি তালিকা প্রকাশ করে পুলিশ।
তাদের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, মেয়র ছাড়াও রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কয়েক ডজন সাবেক কাউন্সিলরের নাম। এর মধ্যে এক নম্বরে নাম রয়েছে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মো. জাহেদের নাম। সাতকানিয়া উপজেলার বড় দুয়ারা গ্রামের বাসিন্দা জাহেদ স্থানীয়ভাবে ‘পিচ্চি জাহিদ’ নামে পরিচিত বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এরপর মুন্না খান, রাজীব দত্ত, শওকত আজম এবং মো. মোস্তফা নামের আরও চার সন্ত্রাসীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের সবার বয়স ৩৫ বছর থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে।
চট্টগ্রামে সম্প্রতি গুলির ঘটনায় আলোচনায় আসা সন্ত্রাসী ‘বড় সাজ্জাদ’ এবং তার সহযোগী ‘ছোট সাজ্জাদ’-এর নামও রয়েছে। এর মধ্যে ‘বড় সাজ্জাদ’ দেশের বাইরে রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে তার সহযোগী ‘ছোট সাজ্জাদ’ বর্তমানে রাজশাহী কারাগারে বন্দি আছেন।তার স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্নার নামও তালিকায় রয়েছে, যিনি বর্তমানে ফেনী কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
সিএমপিরর তালিকায় চট্টগ্রামের অনেক রাজনৈতিক নেতার নাম রয়েছে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন: