প্রকাশিত:
১১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩:৩৪
চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে বহুল আলোচিত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি গনেশ প্রকাশ শ্রী গনেশকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭। গনেশ সেবক কলোনীর শেরীপ দাশের ছেলে। আলিফ হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে নাম থাকা ৩৯ জন আসামির মধ্যে ২৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছে এবং এখনো পলাতক ১৬ জন।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেন র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন।
তিনি বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যায় কোতোয়ালী থানার লালদীঘী কোর্ট রোডে জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে গনেশকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিএমপির কোতোয়ালী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ইসকন থেকে বহিস্কৃত চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন। আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময়কে কারাগারে নিয়ে যায়।
বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কে রাখা যানবাহন ভাঙচুর করে। এরপর আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীরা মিলে তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় গত বছরের ২৯ নভেম্বর নগরীর কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন।
মামলায় ৩১ জনের নাম তুলে ধরে অজ্ঞাত আরো ১৫/১৬ জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় সব আসামি ছিল নগরীর রঙ্গম কনভেনশন হল সংলগ্ন বান্ডেল সেবক কলোনির বাসিন্দা।
গত বছরের ১ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালী) মাহফুজুর রহমান মোট ৩৯ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তাতে প্রধান আসামি করা হয় চিন্ময় দাসকে। পরে ২৫ অগাস্ট চিন্ময়সহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে বাদির উপস্থিতিতে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত।
এই ৩৯ জনের মধ্যে ১৭ জন আসামি পলাতক।
মামলার বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৭ জানুয়ারি আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা বিচারের জন্য চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে। মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম এ আদেশ দিয়ে আগামী ১৪ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির তারিখ রেখেছেন।
মন্তব্য করুন: