প্রকাশিত:
১০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬:৫৫
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশে আদৌ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রয়েছে কি না— এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে স্পষ্ট কোনো আত্মবিশ্বাস নেই বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তার মতে, নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় ঐকমত্যও এখনো তৈরি হয়নি।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) চিফ ইলেকশন অবজারভার আইভার্স ইজাবসের নেতৃত্বে আগত নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। বৈঠকে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সেল প্রধান সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়াসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নাহিদ ইসলাম জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ইইউ একটি বড় ও শক্তিশালী পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে যাচ্ছে। ইইউ চায় এই নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক হয় এবং ফল ঘোষণার পর সব পক্ষ তা গ্রহণ করে নেয়। এতে দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়াও নির্বিঘ্ন হবে বলে তারা আশাবাদী।
তিনি বলেন, ইইউ প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি ও উদ্বেগ সম্পর্কে জানতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। তারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে এবং সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে। একই সঙ্গে এনসিপিকেও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, সরকার বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি ঝুঁকে পড়ায় নির্বাচন প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও বিশেষ প্রোটোকলের মাধ্যমে পক্ষপাতের বার্তা যাচ্ছে, যা নির্বাচনী মাঠে অসম প্রতিযোগিতার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এ কারণে দেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে— এমন আত্মবিশ্বাস এনসিপির নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মিডিয়ার ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, কিছু মূলধারার গণমাধ্যম এনসিপিকে লক্ষ্য করে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করছে, যা দলের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
তিনি আরও জানান, এসব বিষয় নির্বাচন কমিশনকে নিয়মিতভাবে জানানো হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে যেসব বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে, সে সম্পর্কেও কমিশনকে অবহিত করা হবে। এনসিপি ধারাবাহিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে পরিস্থিতি সম্পর্কে আপডেট দেবে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আরও কঠোর অবস্থান প্রয়োজন। প্রাথমিকভাবে অনেক ঋণখেলাপির মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি পোস্টারিংসহ বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রমে আইন লঙ্ঘনের চেষ্টাও চলছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব ক্ষেত্রে কমিশনের কঠোর আইনগত ব্যবস্থা প্রত্যাশা করে এনসিপি।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শহিদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় মাঠপর্যায়ে একটি নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে। সরকার কিছু উদ্যোগ নিলেও সেই আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। তবুও এনসিপি মাঠে সক্রিয় থাকবে এবং ২১ তারিখের পর আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা আরও জোরদার করা হবে।
আসন সমঝোতা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপির অবস্থান খুব শিগগিরই স্পষ্ট করা হবে। আগামী ১১ বা ১২ জানুয়ারির মধ্যে এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। তিনি জানান, জামায়াত ও এনসিপির জোট নির্বাচনী প্রস্তুতিতে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে এবং গণভোটের পক্ষে ইতোমধ্যে প্রচারণা শুরু হয়েছে। আসন সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ থাকবে না বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন: