শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল dailyvobnews@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • চুক্তি বাতিল ৯ সচিবের, ওএসডি ৩ — প্রশাসনে পুনর্বিন্যাসের বার্তা
  • অন্তর্বর্তী সরকারকে কাঠগড়ায় রাষ্ট্রপতি, ‘প্রাসাদবন্দি’ থাকার দাবি
  • বেইজিং-ঢাকা সম্পর্কে নতুন গতি, চীনের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর জন্য
  • মহিলা নেত্রীদের নাম আলোচনায়, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বিবেচনা
  • ভোরের পোস্ট, দিনে ভাইরাল: শফিকুর রহমানের স্ট্যাটাসে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া
  • একুশের আবহে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও বইমেলার উদ্বোধন ২৬ ফেব্রুয়ারি
  • স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং শোকপ্রস্তাব নিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন সংসদ কার্যক্রম
  • শূরা বৈঠকে জামায়াতের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি, নির্বাহী পরিষদে ২১ সদস্য
  • বিদায়ী উপদেষ্টাদের অধিকাংশই কূটনৈতিক পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছেন
  • ঈদের পর ধারাবাহিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসি

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড

বাংলাদেশ কেন তালিকায়, কাদের জন্য জামানত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭:৫১

যুক্তরাষ্ট্র ভিসা বন্ডের আওতাধীন কয়েকটি দেশের তালিকা প্রকাশ করে গত বছরের আগস্টে। মঙ্গলবার সে তালিকায় বাংলাদেশকেও যুক্ত করা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অবস্থান ও ভিসার মেয়াদ শেষেও বাড়তি সময় থাকার (ওভারস্টে) প্রবণতা কমাতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যেসব দেশের শিক্ষার্থী ও অভিবাসীরা অতিরিক্ত সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন তাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের হার উল্লেখযোগ্য।

নতুন দেশের তালিকা সংক্রান্ত যে বিজ্ঞপ্তি যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট বা পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশ করেছে সেখানে কেবল বি১ ও বি২ ধরনের ভিসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলোকে বলা হয় ভিজিটর ভিসা। যারা সাময়িকভাবে ব্যবসার উদ্দেশে, শিক্ষামূলক, পেশাগত বা বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ, চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান তাদের ভিসার ধরণ হয় বি১। আর যাদের উদ্দেশ্য থাকে ভ্রমণ, বিনোদন কিংবা চিকিৎসা তাদের দেওয়া হয় বি২ ভিসা। এই ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে একটানা ৯০ দিনের বেশি থাকা যায় না।

কাদের জামানত দিতে হবে:
বাংলাদেশি কেউ যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য এই দুই ধরনের ভিসার আবেদন করলে আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে ভিসা বন্ড নীতির আওতায় পড়বেন। যখন কেউ বি১/বি২ ভিসা পাওয়ার উপযুক্ত বিবেচিত হবেন তখন তাদের জামানত হিসেবে ৫ হাজার, ১০ হাজার কিংবা ১৫ হাজার ডলার জমা দিতে হবে। কাকে কত ডলার জামানত দিতে হবে তা নির্ধারিত হবে ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়।

বুধবার দুপুরে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ১২২ টাকা ৩১ পয়সা। সে হিসেবে কারও ১৫ হাজার ডলার জামানত ধার্য হলে জমা দিতে হবে প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের ‘স্টাডি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ’ ক্যাটাগরির তথ্য অনুযায়ী, পড়াশোনার জন্য কেউ যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চাইলে ভিসার ধরন হয় ‘এফ’ বা ‘এম’। ভিসা বন্ড সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দুই ধরনের ভিসার কথা উল্লেখ নেই। অর্থ্যাৎ, শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনকারীরা জামানত দেওয়ার বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়বেন না। ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের একটি সূত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কেন জামানতের বাধ্যবাধকতা:
গত বছরের ১৬ জুলাই মার্কিন কংগ্রেসে একটি বার্ষিক প্রতিবেদন তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই প্রতিবেদন তাদের ওয়েবসাইটেও আছে। এর পরের মাসেই (আগস্ট) কয়েকটি দেশের তালিকা প্রকাশ করে স্টেট ডিপার্টমেন্ট। তখন বলা হয়, তালিকাভুক্ত দেশের পাসপোর্টধারীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ভিসার মেয়াদ শেষেও দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান (ওভারস্টে) করেন। এই উচ্চ হার কমানোর লক্ষ্যে ভিসা বন্ড বা জামানত আদায় করা হবে। প্রাথমিকভাবে তখন বি১ ও বি২ ধরনের ভিসাকে এই নিয়মের আওতায় আনা হয়।

মঙ্গলবার নতুন করে যেসব দেশ এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে, সেগুলোর পাসপোর্টধারীদেরও যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত সময় বসবাসের হার বেশি। বাংলাদেশসহ বর্তমানে তালিকাভুক্ত দেশের সংখ্যা ৩৮টি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আছে ভুটান ও নেপাল। বাকিগুলো আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের।

বাংলাদেশ কেন তালিকায়:
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ওভারস্টের হার সবচেয়ে বেশি ব্যবসা ও ভ্রমণ ভিসাধারীদের। ধারণা করা হচ্ছে, এই দিকটি বিবেচনায় বাংলাদেশকে ভিসা বন্ড নীতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গত বছর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ উচ্চ হারের ওভারস্টে সংক্রান্ত যে প্রতিবেদন প্রকাশ করে, সেটির তথ্য ২০২৪ অর্থবছরের। সেখানে বলা হয়, ওই বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৮ হাজার ৫৯০ বাংলাদেশি বি১/বি২ ভিসাধারীদের প্রস্থানের কথা ছিল। তাদের মধ্যে ২ হাজার ১৬২ জনের প্রস্থানের কোনো তথ্য নেই। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া ৫১ জন অন্য দেশে চলে গেছেন। মোট ওভারস্টে ৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এই ধরনের ভিসা নিয়ে ২০২৩ অর্থবছরে ২৯ হাজার ৪১ বাংলাদেশির প্রস্থানের কথা থাকলেও মোট ওভারস্টের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯৯৩ জন।

ব্যবসা বা ভ্রমণ ভিসায় সবচেয়ে বেশি ওভারস্টের হার মিয়ানমারের ৩৮ দশমিক ১৫। কিন্তু তাদের প্রত্যাশিত প্রস্থানকারীদের সংখ্যা কম- ৫ হাজার ৪৫৫। ওভারস্টে করেন ২ হাজার ৮১ জন। ভিসা বন্ড তালিকাভুক্ত দেশে তাদের নাম নেই।

একই অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা নন-ইমিগ্র্যান্ট (অস্থায়ী অভিবাসী) বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও এক্সচেঞ্জ ভিজিটরদের (এফ, এম, জে ভিসাধারী) ওভারস্টের মোট হার ছিল ৯ দশমিক ০৯। সাত হাজার ৪১৩ জনের প্রস্থানের কথা থাকলেও সন্দেহভাজন বসবাসকারী ছিল ৬১১ জন। অন্যান্য ধরনের ভিসাধারীদের মধ্যে সন্দেহভাজন বসবাসকারী ছিল ৮৭ জন।

জামানত দিলেই কি ভিসা মিলবে:
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলছে, বন্ড জমা দিলেই ভিসা মিলবে এমন নিশ্চয়তা নেই। যদি কোনো কারণে কারও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন প্রত্যাখান হয় তাহলে বন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এবং ওই ব্যক্তি অর্থ ফেরত পাবেন। তবে কেউ কনস্যুলার অফিসারের নির্দেশ ছাড়া ফি জমা দিলে তা ফেরত পাওয়া যাবে না।

ভিসা আবেদনকারীকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ফর্ম আই-৩৫২ জমা দিতে হবে। শর্ত মেনে বন্ডের অর্থ জমা দিতে হবে ডিপার্টমেন্ট অব দ্য ট্রেজারির অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম পে ডট জিওভি (Pay.gov) ব্যবহার করে। তৃতীয় পক্ষের কোনো ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যাবে না।

বন্ডের মাধ্যমে ভিসা পাওয়া ব্যক্তিরা কেবল তিনটি বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থান করতে পারবেন। সেগুলো হলো- ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি এবং ওয়াশিংটনের ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এগুলোর বাইরে অন্য কোনো বিমানবন্দর ব্যবহারের চেষ্টা করলে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর