প্রকাশিত:
৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৩৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার উপদেষ্টা দল গ্রিনল্যান্ড দখলের সম্ভাবনা নিয়ে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছেন। তারা সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিকল্পও পুরোপুরি বাতিল করেনি। ওয়াশিংটনের ধারণা, আর্কটিক অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলায় এই দ্বীপটি জাতীয় নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প এবং তার দল বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন। অবশ্য, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ব্যবহার করাও সবসময় কমান্ডার‑ইন‑চিফের হাতে একটি অপশন হিসেবে রয়েছে। এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প আশা করছেন তাঁর বর্তমান মেয়াদে এই ভূখণ্ডটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আসবে। প্রশাসন গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে “ফ্রি অ্যাসোসিয়েশন” মডেলও বিবেচনা করছে, যা পূর্বে মার্কশেল দ্বীপপুঞ্জের মতো অঞ্চলের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছিল।
তবে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ট্রাম্প প্রশাসন প্রকাশ্যে দাবি করছে, তারা গ্রিনল্যান্ডকে স্বাধীনতা অর্জনে সমর্থন করে, আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। মার্কিন বিশেষ দূত জেফ ল্যান্ড্রি বলেছেন, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের স্বাধীনতা সমর্থন করেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাণিজ্যিক সুবিধা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চান।
ল্যান্ড্রি আরও বলেন, ট্রাম্প ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দেখেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শক্তিশালী বাণিজ্যিক অংশীদার চেয়েছেন। শুধু বাণিজ্য নয়, গ্রিনল্যান্ডের সামরিক ও কৌশলগত গুরুত্বও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অপরিসীম। বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এই দ্বীপে সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এবং এখনো আছে।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করে বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা করে, তাহলে এটি ন্যাটোর অস্তিত্বকেও প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। গ্রিনল্যান্ড একটি কৌশলগত ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ অঞ্চল, যা ন্যাটোর নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ।
এখনো পর্যন্ত কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক দিকগুলিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সংক্ষেপে বলা যায়, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র ভূরাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানচিত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সম্পর্কেও নতুন আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন: