প্রকাশিত:
৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭:৩১
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ‘জোরপূর্বক আটক’ করার পর প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই সফল অভিযানের নেপথ্য কারণ এবং ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। হেগসেথ এই অভিযানকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে পরিশীলিত ও সফল ঝটিকা অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হেগসেথ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই পদক্ষেপ কেবল ভেনেজুয়েলার শাসন পরিবর্তন নয়, বরং আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থ রক্ষার একটি অংশ। তিনি বলেন, এই বিপজ্জনক বিশ্বে শক্তি প্রদর্শন ছাড়া শান্তি আনা সম্ভব নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্বাস করেন ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’ প্রতিষ্ঠায় এবং এই অভিযান তারই বহিঃপ্রকাশ। তার মতে, আমেরিকার নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এই ধরনের সাহসী সিদ্ধান্ত অপরিহার্য ছিল।
অভিযানটি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন বা আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ একে একটি ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এটি এমন কোনো যুদ্ধ ছিল না যার জন্য আগাম অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে, তবে আমরা অবশ্যই কংগ্রেসকে পরবর্তী ধাপগুলোতে সম্পৃক্ত রাখব।
তিনি আরও বলেন, এই অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদ পুনরুদ্ধার করা, যা এক সময় আমেরিকার স্বার্থের পরিপন্থীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
ভেনেজুয়েলার জনগণের ভবিষ্যৎ কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ বলেন, ভেনেজুয়েলার ভাগ্য শেষ পর্যন্ত দেশটির জনগণই নির্ধারণ করবে, তবে শর্তগুলো নির্ধারণ করবে আমেরিকা। তিনি দাবি করেন যে, মাদুরোর ‘ভয়াবহ নেতৃত্ব’ থেকে মুক্তি পেয়ে ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষ এবং আমেরিকা উভয়ই লাভবান হবে। মার্কিন কোম্পানিগুলো শীঘ্রই ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগ শুরু করবে এবং দেশটির ধ্বংসপ্রায় তেল অবকাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন: