প্রকাশিত:
১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৪:৪৫
কুর্মিটোলা শাহীন দ্বীপে যাওয়ার রাস্তার দুই পাশে হকির বীরদের ছবিযুক্ত ব্যানার। যেখানে শোভা পেয়েছে জুনিয়র হকি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ স্কোরার আমিরুল ইসলাম, মেহেরাব হাসান সামিন, রাকিবুল হাসান রকির মতো তারকাদের হাস্যোজ্জ্বল ছবি। প্রধান সড়ক থেকে একটু ভেতরে যেতেই অন্যরকম দৃশ্য। নানা রূপে সাজানো হয়েছে শাহীন লেকের মাঝখানের জায়গাটিকে।
সোমবার সেখানে পা রাখতেই দেখা গেল ক্যারম খেলায় ব্যস্ত অনূর্ধ্ব-১৮ নারী দল, যারা এশিয়ান কাপে ব্রোঞ্জ জিতেছে। ঠিক পাশেই স্টিক আর বল নিয়ে কারিকুরি করছেন হুজাইফা-জয়রা। কেউ আবার লেকের পাশে গিয়ে সেলফি তুলছেন। সাফল্য এনে দেওয়া দুটি দলের জন্য গতকালের দিনটি ছিল পিকনিকের মতো। হাসি-আনন্দের এই দিনে জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে ১৭তম হওয়া আমিরুল-সামিনদের সংবর্ধনার সঙ্গে দেওয়া হয় ৬০ লাখ টাকার পুরস্কার। বড় ভাইদের অর্থ নিতে দেখা মেয়েরা কিছুটা মন খারাপ করে। সেটা বুঝতে পেরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে তৎক্ষণাৎ ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন হকি ফেডারেশনের সভাপতি ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মধ্যমণি ছিলেন অনূর্ধ্ব-২১ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৮ গোল করা আমিরুল ইসলাম। ফরিদপুর থেকে উঠে আসা এ তরুণকে আলাদা প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ফেডারেশন সভাপতি। মূল অর্থ থেকে ১৮ খেলোয়াড় পাবেন ৩ লাখ করে ৫৪ লাখ। বাকি ৬ লাখ দেওয়া হয়েছে ছয় টিম অফিসিয়ালকে। হকি ফেডারেশনের এমন সংবর্ধনা এবং আর্থিক পুরস্কারে উচ্ছ্বসিত খেলোয়াড়রা। কিন্তু এত আয়োজনের মধ্যেও সবার মন খারাপ। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে আসেনি পুরস্কারের ঘোষণা। ক্রিকেটের পর হকিই দ্বিতীয় খেলা, যা বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে নিয়ে গেছে। আর চেন্নাইয়ে চ্যালেঞ্জারস ট্রফি জিতে তো রীতিমতো ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ জুনিয়র হকি দল। অথচ সাফল্যের এক সপ্তাহের বেশি সময় পার হলেও ঘুম ভাঙেনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের।
অথচ গত ১৮ নভেম্বর এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচে জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতকে ১-০ গোলে হারানোর পরই বাংলাদেশ দলের জন্য ২ কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেন সদ্যই সাবেক হওয়া ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমদু সজীব ভূঁইয়া। সেই অর্থও পেয়েছেন জামাল ভূঁইয়া-তপু বর্মণরা। হকিতে সাফল্য পাওয়ার পর আসিফ মাহমুদ অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছিলেন; কিন্তু কোনো পুরস্কারের অঙ্ক ঘোষণা করেননি। সোমবার হকি দলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আলোচনা ছিল যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নীরবতা নিয়ে।
যদিও আমিরুলের বিশ্বাস মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষণা আসবে, ‘আমি দেখেছি ফুটবলেও আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। নারী ফুটবল দলকেও দিয়েছে। আমি আশা করি, মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের জন্য ভালো একটা সুখবর আসবে। যেহেতু বাংলাদেশ হকি টিম ভালো রেজাল্ট করেছে।’
হকির হামজাখ্যাত এ তারকা দেখা করতে চান ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গেও, ‘আমরা ক্রীড়া উপদেষ্টা স্যারের সঙ্গে দেখা করতে চাই। যদি উপদেষ্টা স্যারের সঙ্গে একবার দেখা করতে পারি, তাহলে দেখা যাবে আমরা আমাদের সমস্যাগুলো শেয়ার করতে পারব। আমরা আশা করি, তিনি আমাদের সঙ্গে দেখা করতে রাজি থাকবেন।’
হকি খেলোয়াড়দের এই হতাশা আর কষ্ট জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কর্তাদের কানে গেছে কিনা, তা জানা যায়নি। তবে জুনিয়র হকি দলের বিশ্বকাপে সাফল্যের বিষয়টি অবগত থাকা এনএসসির নির্বাহী পরিচালক কাজী নজরুল ইসলাম গতকাল সমকালকে বলেন, ‘হ্যাঁ আমরা পুরো বিষয়টি জানি। বিষয়টি দেখব।’
মন্তব্য করুন: