প্রকাশিত:
১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬:৩৫
এভারেস্টের আশপাশে দেখা মিলল বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ ও ভয়ংকর বিষধর সাপ কিং কোবরার। বিষয়টি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, তবে সাপের আক্রমণের আশঙ্কায় নয় বরং এর পেছনের কারণ নিয়েই গভীর উদ্বেগে বিশেষজ্ঞ মহল।
সম্প্রতি এভারেস্ট সংলগ্ন এলাকায় মোট ১০টি বিষধর সাপের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৯টি কিং কোবরা এবং ১টি মোনোক্লিড কোবরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিং কোবরা সাধারণত সমতল ও উষ্ণ এলাকায়, বিশেষ করে নেপালের তরাই অঞ্চলে বসবাস করে। ঠান্ডা ও উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে এই সাপের উপস্থিতি অত্যন্ত বিরল।
কিং কোবরা এমন একটি সাপ, যার একবারের ছোবলেই প্রবেশ করা বিষ একটি পূর্ণবয়স্ক মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে। এমনকি এতটাই শক্তিশালী এই বিষ যে তা একটি হাতির প্রাণনাশেও সক্ষম। তবু বিশেষজ্ঞদের আতঙ্কের মূল কারণ সাপের বিষ নয়, বরং তাদের অস্বাভাবিক আবাসস্থল পরিবর্তন।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, নেপালে দ্রুত পরিবর্তনশীল জলবায়ুই এই অস্বাভাবিক ঘটনার মূল কারণ। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে এভারেস্ট সংলগ্ন এলাকাতেও তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়ছে। ফলে আগে যেখানে তীব্র শীতের কারণে কিং কোবরা টিকে থাকতে পারত না, এখন সেই এলাকাই তাদের বসবাসের উপযোগী হয়ে উঠছে।
উদ্বেগ আরও বেড়েছে কারণ, শুধু সাপের উপস্থিতিই নয় এভারেস্টের কাছাকাছি কিছু এলাকায় কিং কোবরার ডিমও দেখতে পেয়েছেন গবেষকেরা। এর অর্থ, এই অঞ্চলকে তারা স্থায়ী আবাসস্থল হিসেবে বেছে নিতে শুরু করেছে।
পরিবেশবিদ ও বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট ও বিপজ্জনক ইঙ্গিত। প্রাকৃতিক ভারসাম্য দ্রুত বদলে যাওয়ার ফলে ভবিষ্যতে আরও এমন অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে পারে, যা মানুষ ও পরিবেশ উভয়ের জন্যই বড় হুমকি হয়ে উঠবে।
মন্তব্য করুন: