শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল dailyvobnews@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • চুক্তি বাতিল ৯ সচিবের, ওএসডি ৩ — প্রশাসনে পুনর্বিন্যাসের বার্তা
  • অন্তর্বর্তী সরকারকে কাঠগড়ায় রাষ্ট্রপতি, ‘প্রাসাদবন্দি’ থাকার দাবি
  • বেইজিং-ঢাকা সম্পর্কে নতুন গতি, চীনের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর জন্য
  • মহিলা নেত্রীদের নাম আলোচনায়, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বিবেচনা
  • ভোরের পোস্ট, দিনে ভাইরাল: শফিকুর রহমানের স্ট্যাটাসে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া
  • একুশের আবহে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও বইমেলার উদ্বোধন ২৬ ফেব্রুয়ারি
  • স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং শোকপ্রস্তাব নিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন সংসদ কার্যক্রম
  • শূরা বৈঠকে জামায়াতের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি, নির্বাহী পরিষদে ২১ সদস্য
  • বিদায়ী উপদেষ্টাদের অধিকাংশই কূটনৈতিক পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছেন
  • ঈদের পর ধারাবাহিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসি

বাজারে এসেছে নতুন আলু, দাম কত

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত:
৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৭:৫৩

শুরু হয়েছে আলুর নতুন মৌসুম। নভেম্বর মাসের শেষ দিকেই কৃষকেরা জমি থেকে নতুন আলু তোলা শুরু করেছেন। সেই আলু সরাসরি চলে আসছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার খুচরা বাজারে। নতুন আলুর চাহিদা বেশি থাকে; এ জন্য দামও পুরোনো আলুর চেয়ে বেশি হয়।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নতুন আলুর দাম এখন কেজিপ্রতি ৫০-৬০ টাকা। দুই সপ্তাহ আগে যখন প্রথম বাজারে এসেছিল নতুন আলু, তখন ১২০-১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

আলু পচনশীল পণ্য। তবে নতুন অবস্থায় মাস দুয়েক এটি ভালো থাকে। এরপরে আলু সংরক্ষণের জন্য হিমাগারে রাখতে হয়। সাধারণত জমি থেকে নতুন মৌসুমের আলু উত্তোলন শুরু হয় নভেম্বরের শেষ বা ডিসেম্বরের শুরু থেকে। মার্চ-এপ্রিল মাস পর্যন্ত বাজারে এসব নতুন আলু কিনতে পাওয়া যায়। পাশাপাশি পুরোনো আলুও বিক্রি হয়।

অন্যদিকে হিমাগার থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে সব পুরোনো আলু বের করে দেওয়া হয়। এরপর হিমাগারের রক্ষণাবেক্ষণকাজ শেষে ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন মৌসুমের আলু সংরক্ষণ শুরু হয়। মার্চ মাসে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ শেষ হয়। সেই আলু আবার আমরা সারা বছর খাই।

আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি সবজির দোকানেই পুরোনো আলুর পাশে বিক্রির উদ্দেশ্যে নতুন আলুও রাখা আছে। কোনো ক্রেতা এলে পুরোনো আলুর চেয়ে নতুন আলু বেচতে বেশি আগ্রহ দেখান বিক্রেতারা। তাঁরা বলেন, নতুন আলু বিক্রি করলে লাভ বেশি।

আদাবর এলাকার বাসিন্দা সাদমান ইসলাম আজ সকালে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে সবজি ও মাছ কিনতে আসেন। সবজির দোকানে আলুর কথা বলতেই বিক্রেতা আব্বাস আকন্দ তাঁকে বলেন, ‘স্যার, নতুন আলু আসছে, নতুন আলু নেন। খেয়ে মজা পাবেন।’ বিক্রেতার কথায় নতুন আলু কেনেন সাদমান।

পরে সাদমান ইসলাম বলেন, ‘দাম একটু বেশি; কিন্তু বাসা থেকেও বলেছে নতুন আলু পেলে আনতে। তাই দুই কেজি আলু কিনলাম।’

নতুন আলুর দাম কেমন

সাধারণত মৌসুমের শুরুতে যেকোনো পণ্যের দাম বেশি থাকে। বাজারে প্রায় ১৫ দিন ধরে নতুন আলু উঠছে। শুরুর কয়েক দিন প্রতি কেজির দাম ছিল ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। এরপর দাম কমতে থাকে। সপ্তাহখানেক আগে কেজি ছিল ৮০-১০০ টাকা। এখন খুচরা বাজারে এক কেজি নতুন আলু কেনা যাচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এগুলো সাদা আলু। আর নতুন লাল আলুর দাম আরেকটু বেশি, কেজি ৭০-৮০ টাকা।

অবশ্য পাইকারি কিংবা কারওয়ান বাজারের মতো বড় বাজারে নতুন আলুর দাম আরও কিছুটা কম। যেমন আজ সকালে কারওয়ান বাজারে এক কেজি নতুন আলু বিক্রি হয়েছে ৩০-৪০ টাকায়।

বিক্রেতারা জানান, ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ নতুন আলুর সরবরাহ আরও বাড়বে। তাতে দামও কমে আসবে। তখন কেজি ৩০-৪০ টাকায় নামতে পারে।

পুরোনো আলুর দাম বাড়েনি

কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে আরেকটি প্রবণতা হলো, মৌসুমের শেষ দিকে এসে সবজির দাম বাড়ে। বাজারের এ স্বাভাবিক প্রবণতা এ বছর আলুর ক্ষেত্রে খাটেনি। রাজধানীর বাজারগুলোতে এখন প্রতি কেজি পুরোনো আলু বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকায়। আর বিভিন্ন উৎপাদন এলাকায় ১৫ টাকা কেজি দরেও পুরোনো আলু বিক্রি হচ্ছে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালের এই সময়ে বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে আলুর দাম দুই-তৃতীয়াংশ বা তিন গুণের বেশি কম রয়েছে। পুরোনো আলু কম থাকার কারণ, গত বছর চাহিদার তুলনায় বেশি পরিমাণে আলু চাষ হয়েছিল।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, দেশে বছরে আলুর চাহিদা প্রায় ৯০ লাখ টন। গত অর্থবছরে মোট ১ কোটি ২৯ লাখ টন আলু উৎপাদিত হয়। আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আলু উৎপাদিত হয়েছিল ১ কোটি ৬ লাখ টন। অর্থাৎ গত বছর আলুর উৎপাদন বেড়েছিল। মূলত গত দু-তিন বছরে বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় আলু চাষ করে লাভবান হয়েছিলেন কৃষকেরা। এতে তাঁরা গত বছরে আলু চাষ বাড়িয়ে দেন। কিন্তু চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম পড়ে যায়। তবে এ বছর মৌসুম শেষে আলুর দাম কেমন থাকবে তা উৎপাদনের পুরো চিত্র পাওয়া গেলে ধারণা পাওয়া যাবে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর