প্রকাশিত:
৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৫:৩২
ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়—কঠিন কাজও সহজে জয় করা সম্ভব। তারই প্রমাণ রেখেছেন রাঙ্গামাটির রিমা চাকমা। অভাব আর দুর্ভাগ্যের কালো মেঘ ছোটবেলা থেকেই পিছু নিয়েছিল তাকে। কিন্তু রিমা থেমে যাননি। জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে গাঁদা ফুল চাষকেই নিজের স্বাবলম্বী হওয়ার হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
বলছিলাম রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার আসামবস্তির বরাদাম এলাকার রিমা চাকমার কথা। স্বামী বন থেকে লাকড়ি সংগ্রহ করে বিক্রি করলেও সংসারে টানাপোড়েন ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। স্বামীর স্বল্প আয়ের সংসারকে আরও স্বচ্ছল করতে এগিয়ে আসেন রিমা। হলুদ গাঁদা ফুলের সৌরভে এখন তার ভাঙা ঘরেও ফিরেছে স্বচ্ছলতার হাসি। এ হাসি তাকে আরও সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখায়। যেন ‘গাঁদা ফুলের রঙে রাঙানো রিমার সংসার’। দারিদ্র্য জয় করে তিনি আরও বড় কিছু করার স্বপ্ন বুনছেন।
রিমা চাকমার দুই ছেলে—বড়টির বয়স ১০ বছর, ছোটটির ৬ বছর। দু’জনই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। স্বামী পাহাড় থেকে লাকড়ি কুড়িয়ে বিক্রি করেন। এতে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল রিমাকে। স্থানীয় এক কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে দুই বছর আগে বাড়ির পাশের পাহাড়ের ঢালে এক টুকরো পতিত জমিতে শুরু করেন গাঁদা ফুলের চাষ। শুরুতে তীব্র পুঁজিসঙ্কট থাকলেও তিনি হার মানেননি।
রিমা জানান, “মানুষ অনেক কথা বলত। মেয়ে মানুষ হয়ে ফুলের চাষ করছি—এতে লাভ হবে কিনা, এসব নিয়ে হাসিঠাট্টা করত। কিন্তু আমার বিশ্বাস ছিল। এখন এই ফুলই আমার দুই সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছে, তাদের পড়ালেখার খরচ জোগাচ্ছে।”
দুই শতক জমিতে গাঁদা ফুল চাষ করেন রিমা চাকমা। ভবিষ্যতে চাষের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। শীতের মৌসুমে ও বিভিন্ন পূজায় গাঁদা ফুলের চাহিদা বেশি থাকে। প্রতিদিন আসামবস্তি–কাপ্তাই সড়কের বিলাইছড়ি পাড়া বাজারে ফুল বিক্রি করেন তিনি। স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে এখন রাঙ্গামাটি শহরের পাইকারি বাজারেও যাচ্ছে রিমার ফুল। তার মাসিক আয় এখন গড়ে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা।
রিমার এই অদম্য সংগ্রাম শুধু তাকে নয়, এলাকার অনেক নারীকেও অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি এখন স্বপ্ন দেখেন—নিজের ব্যবসার পরিধি আরও বাড়িয়ে একদিন বড় ফুল ব্যবসায়ী হবেন।
“সরকারের পক্ষ থেকে যদি একটু সহযোগিতা পাই, তাহলে আরও বড় করে চাষ করতে পারি। আমার মতো আরও অনেক অসহায় দিদিদের কাজের সুযোগ করে দিতে পারব,” আশার আলো চোখে নিয়ে বলেন রিমা চাকমা।
রিমার ফুল চাষের গল্প প্রমাণ করে—ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম থাকলে যেকোনো অবস্থাতেই ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। তার গাঁদা ফুলের বাগান যেন জীবনের নতুন রঙ ও স্বচ্ছলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
মন্তব্য করুন: