শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল dailyvobnews@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • চুক্তি বাতিল ৯ সচিবের, ওএসডি ৩ — প্রশাসনে পুনর্বিন্যাসের বার্তা
  • অন্তর্বর্তী সরকারকে কাঠগড়ায় রাষ্ট্রপতি, ‘প্রাসাদবন্দি’ থাকার দাবি
  • বেইজিং-ঢাকা সম্পর্কে নতুন গতি, চীনের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর জন্য
  • মহিলা নেত্রীদের নাম আলোচনায়, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বিবেচনা
  • ভোরের পোস্ট, দিনে ভাইরাল: শফিকুর রহমানের স্ট্যাটাসে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া
  • একুশের আবহে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও বইমেলার উদ্বোধন ২৬ ফেব্রুয়ারি
  • স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং শোকপ্রস্তাব নিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন সংসদ কার্যক্রম
  • শূরা বৈঠকে জামায়াতের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি, নির্বাহী পরিষদে ২১ সদস্য
  • বিদায়ী উপদেষ্টাদের অধিকাংশই কূটনৈতিক পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছেন
  • ঈদের পর ধারাবাহিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসি

বিয়ের অনুষ্ঠানে গান বাজানোয় সালিস ডেকে কনের বাবা, মা, ভাইকে বেত্রাঘাত

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত:
২৭ নভেম্বর ২০২৫, ১৮:১১

বিয়ের অনুষ্ঠানে সাউন্ড বক্সে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের পর ডাকা হয়েছিল সালিস। স্থানীয় যুবদলের এক নেতা এ সালিস ডাকেন। পরে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারাও এতে অংশ নেন। সে সালিসেই কনের বাবা, মা ও ভাইকে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ওই সালিসে কনের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়।

গত ২০ অক্টোবর নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। তবে জরিমানার টাকা পরিশোধ না করায় কনের ভগ্নিপতির অটোরিকশা আটক করা হয়। অটোরিকশাটি আটকে রাখার সূত্রে আজ বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হয়। যদিও স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীর মধ্যস্থতায় অটোরিকশা আবার ফেরত দেওয়া হয়।

কনের পরিবারের অভিযোগ, ২০ অক্টোবর ওই বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। সে অনুষ্ঠানের আগের রাতে সাউন্ড বক্সে গান বাজায় তারা। ওই দিন রাতেই স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আফছার উদ্দিন কেন গান বাজানো হয়েছে, সে কৈফিয়ত চান। এ নিয়ে কনের ভাইয়ের সঙ্গে কথা–কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। এ ঘটনার পরের দিন রাতে কনের বাড়িতেই সালিস বসে। সালিসে গান বাজানোর কারণে কনের মা, বাবা ও ভাইকে ১০ ঘা বেত্রাঘাত করা হয়।

জানতে চাইলে কনের ভাই বলেন, তাঁরা রাত ১০টা পর্যন্ত গান বাজিয়েছিলেন। কথা–কাটাকাটির পরের দিন রাত ৯টার দিকে আফছার তাঁর দলীয় লোকজন নিয়ে এসে তাঁদের বিরুদ্ধে সালিস বৈঠক বসান। সে বৈঠকে তাঁদের বিরুদ্ধে সাউন্ড বক্সে গান বাজানোর পাশপাশি ৫০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ আনা হয়। টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ সত্য নয়। এ অভিযোগে তাঁদের প্রকাশ্যে ১০ ঘা বেত্রাঘাত করা হয়।

তবে কনের ভাইয়ের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন যুবদল নেতা আফছার উদ্দিন। তিনি দাবি করেন, তিনি জেলা শহরের সোনাপুর থেকে জেলেদের মাছ বিক্রির টাকা নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। তখন বাড়ির সামনে কনের ভাইকে দাঁড়ানো দেখে সাউন্ড বক্সে গান বাজানোর বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। পরে কনের পরিবারের লোকজন তাঁর ওপর হামলা করেন। এ সময় তাঁর ৫০ হাজার টাকা হারিয়ে যায়।

তবে সালিসের কথা স্বীকার করেন আফছার উদ্দিন। তিনি বলেন, বিষয়টি দলীয় লোকজন জানার পর রাতে সালিস হয়। ওই সালিসে বেত্রাঘাতের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় পল্লিচিকিৎসক উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. তছলিম উদ্দিন ও স্থানীয় বাসিন্দা আলা উদ্দিন মাঝি এ সালিস পরিচালনা করেন। মো. তছলিম উদ্দিনই বেত্রাঘাত করেছেন বলে কনের পরিবারের অভিযোগ। জানতে চেয়ে তছলিম উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। পরে আলা উদ্দিন মাঝি সালিসের জরিমানার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে বেত্রাঘাত করা হয়নি বলে দাবি করেন।

জানতে চাইলে আলা উদ্দিন বলেন, বিয়েবাড়িতে গান বাজানোর ঘটনায় স্থানীয় এক রিকশাচালক প্রতিবাদ করেছিলেন। পরে কনের বাড়ির লোকজন ওই রিকশাচালক ও আফছারের ওপর হামলা করেছেন। এ নিয়ে সালিস হয়েছিল। এতে বিয়েবাড়ির লোকজনের কারণে আফছারের ৫০ হাজার টাকা হারানোর কারণে তাঁদের ওই টাকা জরিমানা করা হয়।

জানতে চাইলে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম আজমল হুদা বলেন, বিষয়টি তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছেন। কিন্তু এ বিষয়ে পরিবারের কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর