প্রকাশিত:
১১ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৩৪
নির্বাচনের সময়ে কোনো প্রতিষ্ঠানে চাঁদা, অনুদান ও বরাদ্দ প্রদান, কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী কিংবা তার পক্ষ থেকে অন্যকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন-পূর্ব সময়ে ওই প্রার্থীর নির্বাচনী এলাকায় বা অন্যত্র অবস্থিত কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনোপ্রকার চাঁদা বা অনুদান বা উপঢৌকন দিতে বা দেয়ার অঙ্গীকার বা প্রতিশ্রুতি দিতে পারবে না। পাশাপাশি কোনো প্রতিষ্ঠান, সমিতি, সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সংবর্ধনা নেয়া এবং সরকারি ডাকবাংলোসহ সরকারি প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করতে পারবে না।
সোমবার (১০ নভেম্বর) মধ্যরাতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জারি করা নির্বাচনী আচরণবিধির প্রজ্ঞাপনে এসব উল্লেখ করা হয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এর আর্টিকেল ৯১বি ক্ষমতা বলে নির্বাচন কমিশন এই আচরণবিধিমালার প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। তাতে কমিশন, জনসংযোগ, দেয়াল, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, নির্বাচন, নির্বাচনী এলাকা, নির্বাচন-পূর্ব সময়, নির্বাচনী এলাকা, প্রার্থী, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাথী, ফেস্টুন, ব্যানার, যানবাহন, সরকারি সুবিধাভোগী ব্যক্তির সংজ্ঞা দিয়েছে। এতে প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়সীমা, আচরণবিধি লঙ্ঘনে শাস্তির বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি সুবিধাভোগী কারা?
সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি- অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী, অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, জাতীয় সংসদের স্পিকার, সরকারের মন্ত্রী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসহ সমপদমর্যাদার ব্যক্তিবৃন্দ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কোনো সদস্য, চিফ হুইপ, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধী দলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী ও তাহাদের সমপদমর্যাদার কোনো ব্যক্তি, সংসদ-সদস্য এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র।
নির্বাচন-পূর্ব সময়ে অনুসরণীয় বিধানাবলি
নির্বাচন-পূর্ব সময়ে প্রত্যেক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তৎকর্তৃক মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্যকোনো ব্যক্তি বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যক্তিকে এই বিধিমালার বিধি ৪ থেকে বিধি ২৫ পর্যন্ত বিধানাবলি অনুসরণ করতে হবে।
কোনো প্রতিষ্ঠানে চাঁদা, অনুদান ও বরাদ্দ প্রদান
কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী কিংবা তার পক্ষ থেকে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন-পূর্ব সময়ে উক্ত প্রার্থীর নির্বাচনী এলাকায় বসবাসকারী কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা উক্ত এলাকা বা অন্যত্র অবস্থিত কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনো প্রকার চাঁদা বা অনুদান বা উপঢৌকন দিতে বা দেয়ার অঙ্গীকার বা প্রতিশ্রুতি দিতে পারবেন না। কোনো প্রার্থী কোনো প্রতিষ্ঠান বা সমিতি বা সংগঠন থেকে কোনো প্রকার সংবর্ধনা নিতে পারবে না। কোনো প্রার্থী নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব বা উন্নয়ন তহবিলভুক্ত কোনো প্রকল্পের অনুমোদন, ঘোষণা বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কিংবা ফলক উন্মোচন করা যাবে না।
নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সরকারি বা আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কোনোপ্রকার অনুদান ঘোষণা বা বরাদ্দ প্রদান বা অর্থ অবমুক্ত করতে পারবে না।
সার্কিট হাউজ, ডাকবাংলো ইত্যাদি ব্যবহার
সরকারি ডাকবাংলো, রেস্ট হাউজ, সার্কিট হাউজ বা কোনো সরকারি কার্যালয়কে কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা বা এতদুদ্দেশ্যে তাতে অবস্থান করা যাবে না। অন্য কোনো বিধিমালা বা নীতিমালায় যা কিছুই থাকুক না কেন, নির্বাচন পরিচালনার কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরকারি ডাকবাংলো, রেস্ট হাউজ ও সার্কিট হাউজ ব্যবহারে অগ্রাধিকার পাবেন।
জনসভা, পথসভা ও সমাবেশ অনুষ্ঠান
নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তৎকর্তৃক মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্যকোনো ব্যক্তির জন্য নিম্নবর্ণিত বিধানাবলি প্রযোজ্য হবে, যথা: প্রচারণার ক্ষেত্রে সকলে প্রার্থী সমান অধিকার পাবেন, তবে প্রতিপক্ষের জনসভা, শোভাযাত্রা এবং অন্যান্য প্রচারাভিযান পণ্ড বা তাতে বাধা দেয়া বা ভীতিসঞ্চারমূলক কিছু করতে পারবেন না।
নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগে রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী কর্তৃক যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে নির্বাচনী প্রচারণার পরিকল্পনা দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা সমন্বয় করবেন। জনসভার দিন, সময় ও স্থান সম্পর্কে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নেবেন, তবে এরূপ অনুমতি লিখিত আবেদন প্রাপ্তির সময়ের ক্রমানুসারে দিতে হবে এবং জনসভার অনুমতি গ্রহণের লিখিত কপি স্থানীয় নির্বাচন কমিশন অফিসে জমা দিতে হবে।
এছাড়া কোনো প্রার্থী জনসভা করতে চাইলে প্রস্তাবিত সভার কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে জনসভার স্থান এবং সময় সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। যাতে ওই স্থানে চলাচল ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশ বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। জনগণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো স্থান, সড়ক, মহাসড়ক ও জনপথে জনসভা, পথসভা কিংবা কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ করতে পারবেন না এবং প্রার্থী বা দলের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তিও অনুরূপভাবে জনসভা বা পথসভা বা সভা-সমাবেশ করতে পারবেন না।
কোনো জনসভা অনুষ্ঠানে কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ বাধা দিলে বা অন্য কোনোভাবে গোলযোগ সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জনসভার আয়োজকরা পুলিশের শরণাপন্ন হবেন এবং পুলিশ তৎক্ষণাৎ কার্যকরী ব্যবস্থা নেবে। কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদেশে কোনোপ্রকার জনসভা, পথসভা, সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠান বা কোনো প্রকার প্রচার-প্রচারণা করতে পারবেন না।
মন্তব্য করুন: