প্রকাশিত:
১০ নভেম্বর ২০২৫, ১৭:২০
সাভারের আশুলিয়ায় লে অফ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বকেয়া বেতনের দাবিতে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন তৈরি পোশাক শ্রমিকরা। আজ সোমবার (১০ নভেম্বর) সকালে আশুলিয়ায় ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ডিইপিজেড) বিদেশি মালিকানাধীন এ্যাক্টর এক্সপোর্টিং লিমিটেড, সাউথ চায়না ও গোল্ড টেক্স কারখানার শ্রমিকরা এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
এ সময় পুলিশের সঙ্গে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় অন্তত ২০ জন শ্রমিক আহত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
শিল্প পুলিশ জানায়, গত কয়েক দিন ধরে ডিইপিজেড এলাকার বিদেশি মালিকানাধীন একই মালিকানাধীন এ্যাক্টর এক্সপোর্টিং লিমিটেড, সাউথ চায়না ও গোল্ড টেক্স কারখানার শ্রমিকরা তিন মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। আজ সোমবার সকালে শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশ শ্রমিকদেরকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের বাগবিতণ্ডার শুরু হয়। এক পর্যায়ে শিল্প পুলিশ শ্রমিকদেরকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে লাঠিচার্জসহ জলকামান ব্যবহার করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
পরবর্তীতে শ্রমিকরা আবারও জড়ো হয়ে ডিইপিজেড গেটে আগুন জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধের কারণে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হলে চরম দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ মানুষ। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের দমাতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ, জলকামান ব্যবহার, লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ছুড়লে শ্রমিকরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে শ্রমিক ও পথচারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, গত তিন মাস ধরে কারখানা কর্তৃপক্ষ আমাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ না করে বিভিন্ন ধরনের টালবাহানা করছে। বেতন না পেয়ে আমরা পরিবার নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন পার করছি। এই অবস্থায় সকালে আমরা বকেয়া বেতনের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করি। তবে পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে এবং আমাদের ওপর টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়েছে।
এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন: