শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল dailyvobnews@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • চুক্তি বাতিল ৯ সচিবের, ওএসডি ৩ — প্রশাসনে পুনর্বিন্যাসের বার্তা
  • অন্তর্বর্তী সরকারকে কাঠগড়ায় রাষ্ট্রপতি, ‘প্রাসাদবন্দি’ থাকার দাবি
  • বেইজিং-ঢাকা সম্পর্কে নতুন গতি, চীনের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর জন্য
  • মহিলা নেত্রীদের নাম আলোচনায়, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বিবেচনা
  • ভোরের পোস্ট, দিনে ভাইরাল: শফিকুর রহমানের স্ট্যাটাসে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া
  • একুশের আবহে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও বইমেলার উদ্বোধন ২৬ ফেব্রুয়ারি
  • স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং শোকপ্রস্তাব নিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন সংসদ কার্যক্রম
  • শূরা বৈঠকে জামায়াতের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি, নির্বাহী পরিষদে ২১ সদস্য
  • বিদায়ী উপদেষ্টাদের অধিকাংশই কূটনৈতিক পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছেন
  • ঈদের পর ধারাবাহিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসি

উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ

শিক্ষকের ছোড়া ডাস্টারের আঘাতে মাথা ফাটলো শিক্ষার্থীর

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত:
১০ নভেম্বর ২০২৫, ১৪:০৩

রাজধানীর উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস চলাকালে শিক্ষকের ছুড়ে মারা ডাস্টারের আঘাতে রাফিউর রহমান আহাদ নামে এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তার মাথা ফেটে গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রোববার (৯ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত রাফিউর রহমান আহাদ উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। তার মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম পৌরনীতি বিষয়ের শিক্ষক।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত রাফিউর রহমান আহাদ জানান, রফিকুল স্যার আমাদের পৌরনীতি ক্লাস নিচ্ছিলেন। ওই সময় আমার সামনের বেঞ্চে বসা এক ছাত্র তার পাশের জনের সঙ্গে কথা বলছিল। তখন স্যার ক্ষিপ্ত হয়ে তার হাতে থাকা ডাস্টার ছুড়ে মারেন। সামনের ছেলেটি তা দেখতে পেয়ে মাথা সরিয়ে নেয়। তখন সেটি এসে আমার মাথায় লাগে।

রাফিউর বলেন, ডাস্টার লাগার পর আমি বেঞ্চ থেকে পড়ে যাই। কিছুক্ষণ পর চোখ খুলে দেখি, সামনে আমার ব্যাগ রক্তে লাল হয়ে গেছে। মাথায় হাত দিয়ে দেখি, হাতও রক্তে ভিজে গেছে। পরে আমার শার্টসহ পরনের জামাকাপড় রক্তে একাকার হয়ে যায়। বন্ধুরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করিয়েছে।

হাসপাতালে রাফিউরের সঙ্গে থাকা তার বড় বোন খাদিজা হেরা বলেন, গতকাল দুপুর ২টায় ওর মোবাইল থেকে আমার নাম্বারে কল আসে। কল রিসিভ করতেই ওর বন্ধুরা বলে, আহাদ অনেক অসুস্থ, ওকে নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছি। আপনারা আসেন। হাসপাতালে এসে দেখি, ওর সারা শরীর রক্তে মাখা। মাথায় সেলাই চলছে।

তিনি আরও বলেন, পরে জানতে পারলাম, রফিকুল ইসলাম নামের এক শিক্ষক অন্য ছাত্র দুষ্টুমি করার অপরাধে আমার ভাইকে মারধর করেছে। আমরা থানায় অভিযোগ দিয়েছি। স্কুল কর্তৃপক্ষও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।

ঘটনা সম্পর্কে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক রফিকুল ইসলামের ব্যক্তিগত নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইলে কল দেওয়া হলে রিসিভ করেন রফিকুলের বড় ভাই আবু বক্কর। তিনি বলেন, ঘটনার পর রফিকুল বাসায় মোবাইল রেখে বেরিয়ে গেছেন। এখনও বাসায় ফেরেননি।

জানতে চাইলে উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ফরিদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার পর ওই শিক্ষক কলেজ থেকে বেরিয়ে গেছেন। আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি।

অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে- এমন প্রশ্নে অধ্যক্ষ বলেন, তিনি (রফিকুল) ২০২৪ সালে কলেজে অস্থায়ী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এজন্য তাকে নোটিশ না দিয়েই স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার সঙ্গে কলেজের আর কোনো সম্পর্ক নেই। আহতের পরিবার চাইলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন।

ক্লাসে শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করলে যেসব শাস্তি

২০১৩ সালের শিশু আইন অনুযায়ী ক্লাসে শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইনের ৭১ ধারায় বলা হয়েছে, শিক্ষক, অভিভাবক বা অন্য কেউ কোনো শিশুকে শিক্ষা, শাসন বা অনুশাসনের নামে শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতন করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধীকে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয়ই দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে।

১৮৬০ সালের পেনাল কোডের দণ্ডবিধি ২ অনুযায়ীও শিশুর শারীরিক ক্ষতি করলে তা দণ্ডযোগ্য অপরাধ। এ আইনের ধারা ৩২৫ অনুযায়ী- গুরুতর আঘাতের জন্য সর্বোচ্চ ৭ বছরের জেল ও জরিমানা হতে পারে।

ক্লাসে শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন রোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়েরও নির্দেশনা রয়েছে। ২০১০ সালে জারি করা ওই নির্দেশনা অনুযায়ী- দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক বা মানসিক শাস্তি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। শিক্ষক এ আইন ভঙ্গ করলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে সাময়িক বরখাস্ত, বিভাগীয় মামলা, চাকরিচ্যুতি এবং প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা (মামলা)।

জানতে চাইলে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, ক্লাসে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যদি কোনো শিক্ষক এ ধরনের কাজে জড়িয়ে পড়েন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবস্থা নিতে পারবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডকে জানালেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীর পরিবার আইনগত ব্যবস্থাও নিতে পারবে। এক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সহযোগিতা করতে হবে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর