বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল dailyvobnews@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • তেলের নতুন দাম আজ: এপ্রিলে সংকটের ভয় নেই, ডিজেলের বড় মজুদের সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
  • গুম হওয়া ব্যক্তিদের ‘জুলাইযোদ্ধা’ স্বীকৃতির দাবি: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন তাহসিনা রুশদীর লুনা
  • তেলের বাজারে অস্থিরতা: সাশ্রয় করতে 'হোম অফিস' ও স্কুল-কলেজে অনলাইন ক্লাসের কথা ভাবছে সরকার
  • সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগের পরই সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি রেজাউল হাসান
  • ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ আর নয়, নতুন পে স্কেলের দাবিতে উত্তাল হচ্ছে সরকারি কর্মচারীরা
  • এবার বেতন পাবেন খেলোয়াড়রা: ১২৯ ক্রীড়াবিদকে কার্ড দিলেন প্রধানমন্ত্রী, লক্ষ্য ৫০০ জনের কর্মসংস্থান
  • এক নজরে সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠক
  • তেলের দাম বাড়বে না, তবে পাচার করলেই কঠোর ব্যবস্থা
  • সংসদ অধিবেশনে নাহিদ ইসলামের হুঙ্কার: জুলাই সনদের ভিত্তিতেই এ সংসদ, গণভোটের রায় অমান্য করা যাবে না
  • ফুরিয়ে আসছে পেট্রোল, বাড়ছে অস্থিরতা: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞের ভয়াবহ পূর্বাভাস

মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নে এই গ্রীষ্মে ইউরোপে প্রতি ৩ জনের মধ্যে ২ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৩:১৭

চলতি বছরের গ্রীষ্মে ইউরোপে প্রতি তিনজনের মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে তাপজনিত কারণে, যা মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। ইউরোপের ৮৫৪টি বড় শহরের মৃত্যুর প্রাথমিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এই তথ্য। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষকরা এই গবেষণাটি করেছেন বলে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইউরোপে ২৪ হাজার ৪০০ জন মানুষ তাপপ্রবাহে মারা গেছেন। এর মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ জনের মৃত্যু গ্রিনহাউস গ্যাসের কারণে সৃষ্ট অতিরিক্ত উষ্ণ আবহাওয়ার করণে হয়েছে।

এই বিশ্লেষণটি প্রতিষ্ঠিত গবেষণাপদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হলেও এখনো পিয়ার-রিভিউ বা সমকক্ষ পর্যালোচনার জন্য জমা দেওয়া হয়নি। তাতে দেখা গেছে, জলবায়ু সংকটের কারণে ইউরোপের শহরগুলোর গড় তাপমাত্রা প্রায় ২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। এর ফলে বিপজ্জনক গরমে মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের জলবায়ু বিজ্ঞানী এবং গবেষণার সহলেখক ফ্রিডেরিকে অটো বলেন, ‘জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো থেকে যে তাপ বেড়েছে, এর ফলে মৃত্যুহার বাড়ছে। আমরা যদি গত কয়েক দশক ধরে এতো জীবাশ্ম জ্বালানি না পোড়াতাম, তাহলে ইউরোপের আনুমানিক ২৪ হাজার ৪০০ মানুষের বেশিরভাগই এই গ্রীষ্মে মারা যেতেন না।’

বিজ্ঞানীরা বছরের উষ্ণতম মাসগুলোতে অতিরিক্ত মৃত্যুহার নির্ধারণ করতে তাপমাত্রা ও মৃত্যুর স্থানীয় সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেন। পরে ফলাফলগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনহীন এক কাল্পনিক পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করা হয়।

দেখা গেছে, অতিরিক্ত তাপ আনুমানিক ৬৮ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বয়স্ক ব্যক্তিরা—৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে ৮৫ শতাংশ ও ৮৫ বছরের ওপরে ৪১ শতাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
গবেষণার সহলেখক ও ইম্পেরিয়াল কলেজের মহামারী বিশেষজ্ঞ গ্যারিফ্যালোস কনস্টান্টিনোডিস বলেন, ‘বেশিরভাগ তাপজনিত মৃত্যু বাড়ি ও হাসপাতালে ঘটে। বিদ্যমান স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভোগা মানুষদের দেহ তখন চরম সীমায় ঠেলে দেওয়া হয়। কিন্তু মৃত্যুসনদে তাপের উল্লেখ খুব কমই থাকে।

’কয়েকজন ভুক্তভোগীর নাম স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এসেছে। স্পেনের কর্ডোবা অঞ্চলের লা রামব্লা শহরের ৭৭ বছর বয়সী ম্যানুয়েল আরিজা সেরানো আগস্টে হাঁটার সময় অজ্ঞান হয়ে মারা যান। সেদিন তাপমাত্রা ছিল ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তর ইতালিতে ৪৭ বছর বয়সী ব্রাহিম আইত এল হাজ্জাম বোলোনিয়ার কাছে একটি স্কুল ভবনের কাজ করার সময় মারা যান।

সেদিন তাপমাত্রা ছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ দুই দিন পর বিকেলে বহিরঙ্গন নির্মাণকাজ বন্ধের আদেশ জারি করেছিল। তার ১৯ বছর বয়সী ছেলে সালাহ ইতালীয় টিভি চ্যানেল অ্যান্টেনা ৩-কে বলেন, ‘বাবা মাকে ফোন করেছিলেন যে তিনি দুপুরের খাবারের জন্য বাড়ি আসবেন। কিন্তু তিনি আর ফিরে আসেননি।’

কনস্টান্টিনোডিস বলেন, ‘ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তাপের কারণে জনস্বাস্থ্যের বিপদ এখনও অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, ২০০৩ সালের ভয়াবহ তাপপ্রবাহে ইউরোপে ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তারপর থেকে শহরগুলো কিছুটা প্রস্তুত হলেও ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও বৃদ্ধ জনগোষ্ঠীর কারণে জরুরি পরিষেবাগুলো হিমশিম খাচ্ছে।

চিকিৎসকরা স্থানীয় কর্মপরিকল্পনা, শহরে আরো সবুজায়ন, অবসরপ্রাপ্তদের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা—এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

গবেষণায় জড়িত না থাকা অলাভজনক স্বাস্থ্যগোষ্ঠী ‘ওয়েলকাম’-এর একজন বিশেষজ্ঞ ম্যাডেলিন থমসন বলেন, ‘নতুন তথ্য প্রমাণ করে যে, ইউরোপের কোনো শহরই ঝুঁকিমুক্ত নয়। আমরা যদি এখনই পদক্ষেপ না নিই, মৃত্যুর সংখ্যা বাড়বে। জীবাশ্ম জ্বালানি বন্ধ করে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের রক্ষার নীতি বাস্তবায়ন জরুরি।’

 

 

 

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর