প্রকাশিত:
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৩:০১
পাকিস্তানের ব্যবসায়িক পরিবেশের পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে সাংহাই ইলেকট্রিক পাওয়ার কম্পানি কে-ইলেকট্রিক লিমিটেডের ৬৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব অধিগ্রহণের প্রস্তাব প্রত্যাহার করেছে। এটি একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে। সম্পর্ক ভালো থাকলেও এবং অর্থনৈতিকভাবে বিনিয়োগ লাভজনক মনে হলেও, প্রায়ই পাকিস্তানের নিজস্ব পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে এসব উদ্যোগ ব্যাহত হচ্ছে।
২০০৫ সালে বেসরকারিকরণের পর কে-ইলেকট্রিকে পাকিস্তান সরকার এখনো ২৪.৩৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক।
এর বেশিরভাগ অংশীদারিত্ব রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও সাধারণ জনগণের হাতে। এর মধ্যে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড ও উপসাগরীয় দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশীদারিত্ব রয়েছে। এত বিস্তৃত মালিকানা কাঠামোর মধ্যে সরকার এখনো সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডার হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
শাংহাই ইলেকট্রিকের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছিল নিরপেক্ষ ভাষায়। কিন্তু এর মূল কারণ ছিল কে-ইলেকট্রিকের চুক্তিভিত্তিক নিশ্চয়তা ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণে ব্যর্থতা। এটি সেই বৃহত্তর সমস্যার প্রতিফলন যার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা পাকিস্তানে সমস্যার সম্মুখীন হন। এ ঘটনাটি বিশেষভাবে হতাশাজনক। কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও সংরক্ষণে চীনের অভিজ্ঞতা পাকিস্তানের জ্বালানি খাতের জন্য একটি আদর্শ অংশীদারিত্ব তৈরি করতে পারত।
এর পরিবর্তে কে-ইলেকট্রিক এখনো একটি বিনিয়োগকারী কনসোর্টিয়ামের ছত্রছায়ায় রয়েছে, যেখানে জবাবদিহিতা ও মনোযোগ উভয়ই অনুপস্থিত।
যদিও বাজার বাস্তবতার কিছু বিষয় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, কিন্তু রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো— বড় কৌশলগত চুক্তিগুলো প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণে হাতছাড়া না হয় সেটি নিশ্চিত করা। জ্বালানি হলো অর্থনৈতিক উন্নয়নের মেরুদণ্ড, আর যদি পাকিস্তান সত্যিই এ খাতে বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে চায়, তবে প্রক্রিয়া সংস্কার, নজরদারি সহজীকরণ এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নিশ্চয়তা প্রদান করা জরুরি। এ ধরনের পরিবর্তন ছাড়া বিনিয়োগের সুযোগগুলো বারবার হাতছাড়া হয়ে যাবে।
মন্তব্য করুন: