প্রকাশিত:
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪৯
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, দেশে গত ১১ বছরে ৬২ হাজার ৬১৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৮৬ হাজার ৬৯০ জন মানুষ নিহত হয়েছে।
আহত হয়েছে এক লাখ ৫৩ হাজার ২৫৭ জন। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিনের যানজটে প্রায় ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। এর ফলে বছরে আর্থিক ক্ষতি দাঁড়ায় প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা, জ্বালানি অপচয় হয় ১১ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ।
গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে যাত্রী অধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় এসব তথ্য তুলে ধরেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
সভায় প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও যানজটের ভোগান্তি কমাতে যাত্রীবান্ধব উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে দাবিটি অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বানও জানানো হয়। আলোচনাসভায় বলা হয়, যানজট কেবল সময় ও অর্থনৈতিক ক্ষতিই করছে না, নাগরিকদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এতে উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ, ক্যান্সারসহ নানা রোগ বাড়ছে। শিশুদের বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে, স্নায়বিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে তারা। নিয়মিত যানজটের বিরক্তি থেকে সংসার ভাঙার ঝুঁকি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট নিরসনে ২০১৮ সালে প্রণীত সড়ক পরিবহন আইনে যাত্রী ও নাগরিক সমাজের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছিল।
ফলে সমস্যার কার্যকর সমাধান হয়নি। উন্নত গণপরিবহনের অভাবে দেশে রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল, ইজি বাইক ও অটোরিকশার মতো ছোট যানবাহন প্রধান বাহনে পরিণত হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ৫৬ শতাংশ মানুষ বাধ্য হয়ে প্রাইভেট পরিবহন ব্যবহার করছে। বিগত সরকারের দুর্নীতি ও ভুল নীতির কারণে যানজট আজ নগর ও বন্দর পেরিয়ে গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার এখনো সড়ক খাতে সংস্কারের কোনো কার্যক্রম হাতে নেয়নি।
তিনি বলেন, সড়কে প্রতিবছর হাজারো মানুষের প্রাণহানি রোধ এবং যানজটের ভোগান্তি লাঘবের জন্য উন্নত গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার কৌশল থেকে কোনো রাজনৈতিক দলই তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যেন পিছিয়ে না থাকে।
সভায় আরো বক্তব্য দেন এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার, গণ অধিকার পরিষদের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফারুক হাসান, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য দীপক রায়, জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যাত্রী কল্যাণ সমিতির সাবেক চেয়ারম্যান শরিফ রফিকুজ্জামান, জ্যেষ্ঠ সদস্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইয়াসিন চৌধুরী, মো. বিল্লাল হোসেন প্রমুখ।
মন্তব্য করুন: