প্রকাশিত:
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৭:৩৭
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে অধিক লাভে ৩ কোটি ১৮ লাখ ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করার অভিযোগে এক দম্পতিকে আটক করেছে পুলিশ। আজ শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দাউদকান্দ উপজেলার বারোপাড়া ইউনিয়নের ষোলপাড়া গ্রামের জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী সুমী আক্তারকে আটক করে মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্র জানায়, জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী সুমী আক্তার মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় উপজেলা আরিয়াখাল গ্রামে ৩ বছরে আগে চটপটি-ফুচকা তৈরির কারখানা দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। কারখানা দেওয়ার পর এক-দেড় বছর সুনামের সাথে ব্যবসা করছিলেন।
ব্যবসা বাড়ানো কথা বলে ওই এলাকার মানুষ থেকে লাখে ৪/৬ হাজার সুদে টাকা নেন । এভাবে এক বছরে তারা শতাধিক নারী-পুরুষ লোভের ফাঁদে ফেলে প্রায় ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা ঋণ নেন। দুই বছর লেনদেন করার এক পর্যায়ে জনগণের টাকা ঠিক মতো দিতে না পারায় দুই মাস পূর্বে কারখানা ফেলে পালিয়ে বাড়িতে চলে যান।
স্থানীয়রা জানান, গজারিয়ার আরিয়াখাল গ্রামের শতাধিক পাওনাদাররা লোক বাস-গাড়ি নিয়ে অভিযুক্ত দম্পতির বাড়ি দাউদকান্দির ষোলপাড়া গ্রামের বাড়ি ঘেরাও করেন।
জহিরুল ইসলামের ছেলে জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী সুমিকে তুলে নেবার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ তাদেরকে থানায় নিয়ে যায়। একাধিক ভুক্তভোগীরা বলেন, তারা ফুচকা তৈরির কারখানা দিয়ে প্রথমে ভালোই ছিল।
তার স্ত্রী সুমী আক্তার লাখ ৪/৫ টাকা লাভ দেওয়ার কথা বলে মহিলাদের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এক বছরে শতাধিক নারী-পুরুষ থেকে তিন কোটি ১৮ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে আসসে। এ কারণে আমরা তার বাড়ি ঘেরাও করেছি।
বারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ৬ ওয়ার্ড মেম্বার আল-আমিন জানান, কিছুদিন আগে গজারিয়া মুন্সিগঞ্জ থেকে ভুক্তভোগীরা আমার কাছে বিচার নিয়ে এসেছিলেন। তিনি তাদের প্রমাণ নিয়ে আসতে বলেছিলেন।
আজ সকলেই এক সাথে আসবে জানা ছিল না। দাউদকান্দি মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েদ চৌধুরী বলেন, এলাকায় অভিযুক্ত দম্পতির বাড়ি পাওনাদারা ঘেরাও করার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। পরে জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী সুমী আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
মন্তব্য করুন: