প্রকাশিত:
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৩:০৫
আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে পানি অপরিহার্য। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। শরীর সুস্থ ও নীরোগ রাখতে পানির বিকল্প নেই। তাই কম পানি খেলে শরীরের ক্ষতি।
আবার উল্টোটাও হতে পারে। অর্থাৎ অতিরিক্ত পানি পান করলেও শরীরের ক্ষতি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির দিনে ৮ থেকে ১২ গ্লাস পানি পান করা প্রয়োজন। গরমের দিনে এর পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।
তবে অতিরিক্ত পান করলে কিন্তু শরীরের বিপদ বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে কোন কোন রোগের আশঙ্কা বেড়ে যায়, তা জানুন আজকের প্রতিবেদনে।
ভিটামিন-খনিজের ভারসাম্য নষ্ট
ক্রমাগত পানি খেতে থাকলে শরীরে ভিটামিন, খনিজ, ইলেকট্রোলাইটস এসব গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে। আর শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় পুষ্টি উপকরণের ঘাটতি হলে মাথা ঘোরানো, অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেবে।
কিডনির কাজ ও অতিরিক্ত চাপ কিডনির মূল কাজ হলো শরীরের রক্ত পরিশোধন করা এবং অতিরিক্ত বর্জ্য বের করে দেওয়া। এ ছাড়া পনি ও ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যও কিডনি নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু একসঙ্গে যদি অতিরিক্ত পানি শরীরে প্রবেশ করে, তখন কিডনিকে তা সামলাতে বাড়তি চাপ নিতে হয়। এর ফলে শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে।
হাইপোন্যাট্রেমিয়া
অতিরিক্ত পানি পান করার ফলে সোডিয়ামের ঘাটতি তৈরি হলে তাকে বলা হয় হাইপোন্যাট্রেমিয়া। এই অবস্থায় মাথা ঘোরা, বমি ভাব, বিভ্রান্তি, মাথা ব্যথা এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে খিঁচুনি পর্যন্ত হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এটি কিডনি ও মস্তিষ্ক উভয়ের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
দিনে কতটা পানি পান করবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকগুলো বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে মানুষের শরীরে পানির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বয়স, ওজন, দৈনন্দিন কাজকর্ম, জলবায়ু ও স্বাস্থ্য। সাধারণভাবে দিনে ২–৩ লিটার পানি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য যথেষ্ট। তবে কারো শরীরে পরিশ্রম বা গরম আবহাওয়ার কারণে আরো বেশি পানি প্রয়োজন হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, বেশি পানি খাওয়া মানেই ভালো—এমন ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এককথায় ‘স্মার্ট হাইড্রেশন’ জরুরি। অর্থাৎ শরীর যখন তৃষ্ণার সংকেত দিচ্ছে তখন পানি পান করা এবং দৈনন্দিন অভ্যাসে ভারসাম্য রক্ষা করা উচিত।
অতিরিক্ত পানি শরীরের জন্য যেমন প্রয়োজনীয় নয়, তেমনি ক্ষতিকরও হতে পারে। তাই পানি খাওয়ার সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করুন। কোনোরকম সমস্যা হলে প্রথমেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
মন্তব্য করুন: