শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল dailyvobnews@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • চুক্তি বাতিল ৯ সচিবের, ওএসডি ৩ — প্রশাসনে পুনর্বিন্যাসের বার্তা
  • অন্তর্বর্তী সরকারকে কাঠগড়ায় রাষ্ট্রপতি, ‘প্রাসাদবন্দি’ থাকার দাবি
  • বেইজিং-ঢাকা সম্পর্কে নতুন গতি, চীনের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর জন্য
  • মহিলা নেত্রীদের নাম আলোচনায়, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বিবেচনা
  • ভোরের পোস্ট, দিনে ভাইরাল: শফিকুর রহমানের স্ট্যাটাসে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া
  • একুশের আবহে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও বইমেলার উদ্বোধন ২৬ ফেব্রুয়ারি
  • স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং শোকপ্রস্তাব নিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন সংসদ কার্যক্রম
  • শূরা বৈঠকে জামায়াতের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি, নির্বাহী পরিষদে ২১ সদস্য
  • বিদায়ী উপদেষ্টাদের অধিকাংশই কূটনৈতিক পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছেন
  • ঈদের পর ধারাবাহিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসি

সুনামগঞ্জের হাওর ভরাট করে বিশ্ববিদ্যালয়

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:২৫

সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক, দোয়ারাবাজার, শান্তিগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত সবচেয়ে বড় ফসলি হাওরটির নাম ‘দেখার হাওর’। এই হাওরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মহাসিং নদী ও এর অসংখ্য শাখা-উপশাখা। জলমহাল, খাল, বিল ও নদী মিলিয়ে এখানে রয়েছে অর্ধশতাধিক জলাশয়। হাওরটির কৃষিজমির পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার ২১৪ হেক্টর।

এই হাওরের একটি অংশ ভরাট করে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস করার পরিকল্পনা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য ১২৫ একর বোরো জমি অধিগ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যেই সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে।

তবে স্থানীয় কৃষক ও পরিবেশকর্মীরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত স্থানে ক্যাম্পাস হলে হাওরের জলজ বাস্তুতন্ত্র মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এতে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস, ফসল উৎপাদন ও মাছের প্রজননে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে ক্যাম্পাসের নির্ধারিত স্থানের দুই পাশে অবস্থিত আহসানমারা ব্রিজ ও জয়কলস ব্রিজের নিচ দিয়ে প্রবাহিত খালগুলো দিয়ে হাওরের পানি কালনী নদীতে গিয়ে মেশে। এখানে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে আশপাশের বোরো জমি ও জলাশয় বিপদের মুখে পড়বে।

এর আগে সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও পাবনা জেলার বিস্তীর্ণ চলনবিলে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ নিয়েও সমালোচনা হয়েছিল।

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন জাতীয় সংসদে পাস হয় ২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর। পরবর্তী সময় ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর অস্থায়ী ক্যাম্পাসে পাঠদান শুরু হয়। প্রথম ব্যাচে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে রসায়ন, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও কম্পিউটার বিজ্ঞানে ১২৮ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হন। দ্বিতীয় ব্যাচে ভর্তি হয়েছেন ১৪৩ জন। বর্তমানে এখানে ১৭ জন শিক্ষক ও ২৭ জন স্টাফ কর্মরত।

শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে সুনামগঞ্জ সদর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের ভবন, একটি মাদ্রাসা-কলেজ এবং কিছু ভাড়া করা বাড়িঘরে।

২০২৩ সালের ৪ জুন জমি অধিগ্রহণ ও প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর আবেদন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে মন্ত্রণালয় ১২৫ একর জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জি এম শহিদুল আলম জেলা প্রশাসককে (ডিসি) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০ আগস্ট অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), শান্তিগঞ্জ ও সদর উপজেলার ইউএনও এবং এসিল্যান্ডকে প্রস্তাবিত জমি সরেজমিন পরিদর্শন ও মতামতসহ প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মং চিংনু মারমা।

খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে স্থানীয় বিশিষ্টজন, পরিবেশকর্মী ও শিক্ষানুরাগীরা ‘সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস জেলা সদরে বাস্তবায়ন’ নামে আন্দোলন শুরু করেছেন। তারা শিক্ষা উপদেষ্টা, ইউজিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হাওরের বাস্তুতন্ত্র ধ্বংসের ঝুঁকি তুলে ধরে বিকল্প স্থান নির্ধারণের দাবি জানান।

প্রস্তাবিত জমি শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস মৌজার দেখার হাওরে ১২০ একর এবং একই হাওরের কাঠইড় মৌজায় ৫ একর। এর বেশির ভাগই বোরো জমি, সামান্য অংশ আমন জমি। এছাড়া সরকারি খাসজমি ৫.৬১ একর এবং একটি বাড়ি রকমের ভূমিও এর অন্তর্ভুক্ত।

একজন নির্বাহী প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত স্থানে ক্যাম্পাস নির্মাণে অন্তত ৫০ কোটি টাকা জমি অধিগ্রহণে লাগবে। ভরাট করতে হবে ১২–১৫ ফুট উচ্চতায়, যাতে ব্যয় হবে আরো প্রায় ১০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি হাওরের ঢেউ ঠেকাতে তিনদিক ঘিরে বাঁধ নির্মাণ করতে হবে, যার জন্য প্রয়োজন হবে কমপক্ষে ২০০ কোটি টাকা।

আন্দোলনের সদস্য সচিব মুনাজ্জির হোসেন সুজন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় হাওরে হলে ক্ষতি হবে পরিবেশ ও প্রতিবেশে। কমবে ফসল ও মাছের উৎপাদন। সুনামগঞ্জবাসী এটা হতে দেবে না।’

সুনামগঞ্জ পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি এ কে এম আবু নাসার বলেন, ‘যেখানে মাটি ভরাট হবে, সেখানকার ক্ষতি হবে। আবার যেখান থেকে মাটি আনা হবে, সেখানকারও ক্ষতি হবে। তাই উঁচু জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয় করতে হবে।’

সিপিবির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, ‘সদর উপজেলায় প্রচুর খাসজমি আছে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় হলে পরিবেশের ক্ষতি হবে না এবং সরকারের খরচও কমবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য তিনটি বিকল্প স্থান প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার ঝাওয়ার হাওরের রসুলপুর মৌজা (৯৫ একর খাসজমি), যোগীরগাঁও মৌজা (২৫০ একর খাসজমি) এবং গৌরারং ইউনিয়নের রতনশ্রী মৌজা (প্রচুর খাসজমি)।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জের সহকারী পরিচালক মোহাইমিনুল হক বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে হাওরে উন্নয়ন হলে পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানান, ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর এর পর থেকে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে এ বিষয়ে আর কোনো কাজ হয়নি। বিতর্কের বিষয়ে তারা অবগত।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সম্ভাব্যতা যাচাই হয়েছে। মন্ত্রণালয় জমির পরিমাণ কমাতে বলেছে। পরে আবার ৭৫ একরে নতুন সমীক্ষা করা হয়েছে।’

জমির স্থান নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘এটা সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। পরিবর্তন হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সে অনুযায়ী কাজ করবে।’

ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর