শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল dailyvobnews@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • চুক্তি বাতিল ৯ সচিবের, ওএসডি ৩ — প্রশাসনে পুনর্বিন্যাসের বার্তা
  • অন্তর্বর্তী সরকারকে কাঠগড়ায় রাষ্ট্রপতি, ‘প্রাসাদবন্দি’ থাকার দাবি
  • বেইজিং-ঢাকা সম্পর্কে নতুন গতি, চীনের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর জন্য
  • মহিলা নেত্রীদের নাম আলোচনায়, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বিবেচনা
  • ভোরের পোস্ট, দিনে ভাইরাল: শফিকুর রহমানের স্ট্যাটাসে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া
  • একুশের আবহে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও বইমেলার উদ্বোধন ২৬ ফেব্রুয়ারি
  • স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং শোকপ্রস্তাব নিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন সংসদ কার্যক্রম
  • শূরা বৈঠকে জামায়াতের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি, নির্বাহী পরিষদে ২১ সদস্য
  • বিদায়ী উপদেষ্টাদের অধিকাংশই কূটনৈতিক পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছেন
  • ঈদের পর ধারাবাহিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসি

চীনা সামরিক কুচকাওয়াজে শির পাশে কিম, পুতিন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩২

বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কয়ারে চীনের আয়োজিত এক বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজে এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা গেল। চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং-এর দুইপাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন।

লাল গালিচায় হাঁটার সময় শি চিনপিং তাদের উভয়ের সঙ্গেই করমর্দন করেন, তাদের মাঝে কথোপকথন হয়। এরপর বাম পাশে কিম, ডান পাশে পুতিনকে নিয়ে শি এগিয়ে যান তিয়ানআনমেন স্কয়ারের দিকে।

এই ব্যতিক্রমী মুহূর্ত ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণীয় অনুষ্ঠানের অংশ। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) সেখানে হাজার হাজার মানুষ দেশাত্মবোধক গান গায়, সেনারা সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নেয় এবং তোপধ্বনি দিয়ে সূচনা করা হয়।

এই অনুষ্ঠানের পেছনে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট হলো— ১৯৩০ ও ৪০-এর দশকে জাপানের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চীনের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এবং ১৯৪১ সালে পার্ল হারবারে হামলার পর বৈশ্বিক পরিণতি। তবে ইতিহাসের বাইরেও এই অনুষ্ঠানের গুরুত্ব আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক দিক থেকেও স্পষ্ট।

তিন নেতার এই একত্রিত হওয়া চীনের জন্য এক বড় ধরনের ‘মঞ্চজয়’ বলে মনে করা হচ্ছে, বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বের প্রেক্ষিতে।

এই কুচকাওয়াজ ছিল শি চিনপিং-এর এক ব্যস্ত কূটনৈতিক সপ্তাহের চূড়ান্ত পর্ব। রবিবার ও সোমবার তিনি উত্তর তিয়ানজিনে শাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর সম্মেলনে ইউরেশিয়ার বিভিন্ন নেতাদের আতিথ্য দেন। তিয়ানজিন সম্মেলনে অংশ নেওয়া অনেক নেতাই বেইজিংয়ের কুচকাওয়াজেও উপস্থিত ছিলেন, যেমন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো ও অন্যান্য নেতারা।

তবে, কোনো বড় পশ্চিমা দেশের নেতা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেননি। বেইজিংয়ের রাস্তায় ইতিমধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ছিল। ব্রিজ, মোড়, রাস্তাঘাটে সেনা মোতায়েন, সাদা রঙের ব্যারিকেড, রাস্তার পাশে ফুল ও চীনের পতাকা দিয়ে সাজানো হয়েছে।

কুচকাওয়াজে কোন কোন সামরিক প্রযুক্তি প্রদর্শিত হবে, ওই বিষয়ে সরকার মুখ বন্ধ রাখলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে আধুনিক অ্যান্টি-শিপ মিসাইল, আন্ডারওয়াটার ড্রোন, অ্যান্টি-মিসাইল সিস্টেম এবং সম্ভবত একটি বিশাল লেজার অস্ত্রের ঝলক।

চীনা সেনাবাহিনী জানিয়েছে, প্রদর্শিত সব সামরিক সরঞ্জামই দেশীয়ভাবে তৈরি এবং বর্তমানে সক্রিয়ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইস্ট এশিয়ান ইনস্টিটিউটের গবেষক ল্যাম পেং ইআর বলেন, ‘এই সফরের মাধ্যমে কিম নিজের দেশের জনগণ এবং বিশ্বকে দেখাতে চান যে, তার পাশে শক্তিশালী রাশিয়া ও চীনের মতো মিত্র আছে, যারা তাকে সম্মান করে।’

তিনি আরো বলেন, ‘চীনও দেখাতে পারছে যে, তারা পুতিন ও কিমকে একত্রে আমন্ত্রণ জানাতে পারে। এটি তাদের রাজনৈতিক প্রভাবের স্পষ্ট প্রমাণ।’ এই তিন নেতার বৈঠক নিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক রেডিও সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি মোটেও উদ্বিগ্ন নই, একটুও না।’

 

 

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর