প্রকাশিত:
১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৪:০৬
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি ৩১ দফা কর্মসূচি প্রবর্তন করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমূল একটি পরিবর্তন আনার ব্যবস্থা করেছে। জনগণের সমর্থনের মধ্য দিয়ে বিএনপি যদি রাষ্ট্র পরিচালনা দায়িত্ব পায় তাহলে নিঃসন্দেহে একদিকে যেমন রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটবে, অন্যদিকে নৈতিক পরিবর্তন ঘটবে এবং বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
আজ সোমবার ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারের জন্য বার বার লড়াই করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য বার বার চেষ্টা করা হয়েছে।
কিন্তু বিএনপি ফিনিক্স পাখির মতো প্রতিবার জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আদর্শকে নিয়ে জেগেছে। আর গণতন্ত্রের জন্য বিএনপি গত ১৫ বছর যে সংগ্রাম করেছে, তাতে নির্বাসিত হয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতৃত্ব দিয়েছেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, একটা অবিশ্বাস্য রকমের ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। মূল লক্ষ্যই ছিল বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করা।
দলকে ধ্বংস করার জন্য বিএনপির প্রায় ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়, প্রায় ২০ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয় এবং এক হাজার ৭০০ নেতাকর্মীকে গুম করা হয়।
তিনি বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা সেই ভয়াবহ হাসিনা থেকে মুক্ত হতে পেরেছি; ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হতে পেরেছি। এখন যে চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনে রয়েছে, সেই চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে, সেই নির্বাচন অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে করতে সহযোগিতা করা।
বাংলাদেশের রাজনীতি বিএনপি ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন এবং মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করেছিলেন।
তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন এবং একই সঙ্গে অর্থনীতিতে মুক্তিবাজার অর্থনীতি প্রবর্তন করেছিলেন যার ফলে অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন হয়েছিল। তিনি বিএনপির মাধ্যমে দেশে পোশাক শিল্প প্রোডিউস করেছিলেন, বিদেশে পোশাক রপ্তানির প্রক্রিয়া তার হাত ধরেই শুরু হয়েছিল। পরবর্তীকালে বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থার প্রতবর্তন করেছিলেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা তার মাধ্যমেই শুরু হয়েছিল।
এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আবদুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, সাইফুল আলম নীরব, মহানগর বিএনপির উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, দক্ষিণের সদস্য সচিব, তানভীর আহমেদ রবিনসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন: