বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল dailyvobnews@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • তেলের নতুন দাম আজ: এপ্রিলে সংকটের ভয় নেই, ডিজেলের বড় মজুদের সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
  • গুম হওয়া ব্যক্তিদের ‘জুলাইযোদ্ধা’ স্বীকৃতির দাবি: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন তাহসিনা রুশদীর লুনা
  • তেলের বাজারে অস্থিরতা: সাশ্রয় করতে 'হোম অফিস' ও স্কুল-কলেজে অনলাইন ক্লাসের কথা ভাবছে সরকার
  • সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগের পরই সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি রেজাউল হাসান
  • ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ আর নয়, নতুন পে স্কেলের দাবিতে উত্তাল হচ্ছে সরকারি কর্মচারীরা
  • এবার বেতন পাবেন খেলোয়াড়রা: ১২৯ ক্রীড়াবিদকে কার্ড দিলেন প্রধানমন্ত্রী, লক্ষ্য ৫০০ জনের কর্মসংস্থান
  • এক নজরে সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠক
  • তেলের দাম বাড়বে না, তবে পাচার করলেই কঠোর ব্যবস্থা
  • সংসদ অধিবেশনে নাহিদ ইসলামের হুঙ্কার: জুলাই সনদের ভিত্তিতেই এ সংসদ, গণভোটের রায় অমান্য করা যাবে না
  • ফুরিয়ে আসছে পেট্রোল, বাড়ছে অস্থিরতা: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞের ভয়াবহ পূর্বাভাস

চীন সফরে মোদি, আস্থা ফেরানোর চেষ্টা দুই দেশের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
৩১ আগষ্ট ২০২৫, ১৩:৫৯

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আর চীনের অর্থনৈতিক মন্দার মাঝেই আজ রবিবার (৩১ আগস্ট) চীন পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০% পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে। হীরা, চিংড়ি ও অন্যান্য রপ্তানিপণ্য এই শুল্কের আওতায় পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ পদক্ষেপকে ভারতের রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখার জবাব হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এর ফলে ভারতের রপ্তানি খাত ও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে, বিশ্বের দুই বৃহৎ জনসংখ্যার দেশ ভারত ও চীন নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে। চীনও নিজ অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে মরিয়া। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি তাদের পরিকল্পনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক বাস্তবতা তাদের আবার আলোচনায় বসতে বাধ্য করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন ও ভারতের সম্পর্ক শুধু আঞ্চলিক নয়—এর প্রভাব বৈশ্বিক।

২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্ক একদম তলানিতে পৌঁছেছিল। ভারত তখন চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করে, বিনিয়োগ বন্ধ করে দেয় এবং সরাসরি ফ্লাইটও স্থগিত করে।

সেই ক্ষত এখনো পুরোপুরি সারেনি, তবে মোদির সফরকে অনেকেই সম্পর্ক মেরামতের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছেন। ইতোমধ্যেই জানা গেছে, চীন ও ভারতের মধ্যে আবারও সরাসরি ফ্লাইট চালু হচ্ছে এবং ভিসা প্রক্রিয়াও সহজ করা হচ্ছে। কিছু নতুন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও রয়েছে। চীন ভারতের বাজারে প্রবেশ করতে চায়, আবার ভারতও চীনের কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশের ওপর নির্ভরশীল।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের তৈরি শিল্পনীতি চীনের মতো উৎপাদনশীল অর্থনীতির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি করছে।

যেমন—অ্যাপল এখন ভারতে আইফোন ও ভিয়েতনামে অন্যান্য ডিভাইস তৈরি করছে। এর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে ভারত ও চীনের সম্পর্কের উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মোদি এবার সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) ও ব্রিকসের মতো সংগঠনেও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। অতীতে এসব জোটকে ভারত কম গুরুত্ব দিলেও এখন বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জবাবে নতুন কৌশল নিচ্ছে। চীন, ভারত, রাশিয়া যদি একত্রে কাজ করে, তবে তারা মার্কিন বাজার নির্ভরতা কমিয়ে নতুন বাণিজ্য পথ তৈরি করতে পারে।

অবশ্য সম্পর্কের জটিলতা এখনো কাটেনি। তিব্বত, দালাই লামা, সীমান্ত ও পাকিস্তান–এই বিষয়গুলো এখনো আলোচনার বড় বাধা। তবুও মোদির এই সফর বোঝায়, ভারত কৌশলগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প পথ খুঁজছে ও বৈচিত্র্যময় বৈদেশিক সম্পর্ক গড়তে চায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের তাৎক্ষণিক কোনো বড় ফলাফল নাও আসতে পারে। তবে এটি সম্পর্কের বরফ গলানোর একটি পদক্ষেপ—যা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর