শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল dailyvobnews@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • চুক্তি বাতিল ৯ সচিবের, ওএসডি ৩ — প্রশাসনে পুনর্বিন্যাসের বার্তা
  • অন্তর্বর্তী সরকারকে কাঠগড়ায় রাষ্ট্রপতি, ‘প্রাসাদবন্দি’ থাকার দাবি
  • বেইজিং-ঢাকা সম্পর্কে নতুন গতি, চীনের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর জন্য
  • মহিলা নেত্রীদের নাম আলোচনায়, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বিবেচনা
  • ভোরের পোস্ট, দিনে ভাইরাল: শফিকুর রহমানের স্ট্যাটাসে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া
  • একুশের আবহে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও বইমেলার উদ্বোধন ২৬ ফেব্রুয়ারি
  • স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং শোকপ্রস্তাব নিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন সংসদ কার্যক্রম
  • শূরা বৈঠকে জামায়াতের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি, নির্বাহী পরিষদে ২১ সদস্য
  • বিদায়ী উপদেষ্টাদের অধিকাংশই কূটনৈতিক পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছেন
  • ঈদের পর ধারাবাহিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসি

জিল্লুর রহমান

পাকিস্তান প্রকাশ্যে নিরপেক্ষ, ভেতরে লুকিয়ে আছে স্বার্থ রক্ষার কৌশল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
৩১ আগষ্ট ২০২৫, ১৩:১০

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও উপস্থাপক জিল্লুর রহমান বলেছেন, ইসহাক দার শুধু সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গেই নয় বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মতো দলগুলোর সঙ্গেও আনুষ্ঠানিকভাবে দেখা করেছেন।

এতে পাকিস্তান স্পষ্ট করেছে যে তারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে তারা জানিয়েছেন পাকিস্তান গভর্ননেন্ট অব দ্য ডে— যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, তার সঙ্গেই কাজ করবে। এটি এক ধরনের কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা।

প্রকাশ্যে তারা নিরপেক্ষ থাকতে চায়, কিন্তু বাস্তবে তাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও স্বার্থ রক্ষা করার কৌশলও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে। সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলের এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

জিল্লুর রহমান বলেন, ঢাকায় পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সাম্প্রতিক সফর নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নানা ধরনের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ চলছে। প্রায় দেড় দশকে ইচ্ছাকৃতভাবে পাকিস্তানকে আড়ালে রাখার পর এমন উচ্চ পর্যায়ের সফর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়াটা নিছক আনুষ্ঠানিক কোনো ঘটনা নয়।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক চাপ এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি একসঙ্গে চলছে, তখন পাকিস্তানের এই সফরকে ঘিরে জনমনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। এটি কি নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত? নাকি পুরনো ক্ষতের পুনরাবৃত্তি?

জিল্লুর বলেন, সফরটি শুরু থেকেই ছিল প্রতীকী ও ব্যতিক্রমধর্মী। ইসহাক দার ঢাকায় এসেছেন বিশেষ বিমানে, কিন্তু ভারতীয় আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারেননি। তাকে চীন হয়ে আসতে হয়েছে।

সেটাই যেন প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের পথ কখনোই সরল নয়। ঢাকায় পৌঁছলে তাকে যথাযথ প্রোটোকল দেওয়া হয়েছে। একান্ত বৈঠক হয়েছে। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে।

ছয়টি দলিলে স্বাক্ষর করা হয়েছে এবং বর্ণাঢ্য মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজনও ছিল। জিল্লুর আরো বলেন, বাইরে থেকে সব কিছু ঝলমলে মনে হলেও ভেতরে আলোচনা ছিল টানটান উত্তেজনাময়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনার টেবিলে উঠে এসেছে ১৯৭১ সালের গণহত্যার প্রসঙ্গ। দৃঢ়ভাবে জানানো হয়েছে অতীতের দায় এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।

পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতেই হবে। পাশাপাশি এসেছে অভিন্ন পাকিস্তানের সম্পদ বিভাজন। ১৯৭০-এর ঘূর্ণিঝড়ের ত্রাণ তহবিল। আটকে পড়া পাকিস্তানি নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের মতো অমীমাংশিত প্রশ্ন। এগুলো দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকলেও সমাধান হয়নি। পাকিস্তানি প্রতিনিধিরা স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে পড়েন।

তারা গণহত্যা শব্দটি এড়িয়ে গিয়ে শুধু দুঃখ প্রকাশের প্রসঙ্গ টানেন। অথচ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বহু নথি গবেষণা ও প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ করে যে ১৯৭১ সালের ঘটনা পরিকল্পিত গণহত্যা ছিল। বাংলাদেশের প্রতিনিধি যখন দলিলপত্র নিয়ে যুক্তি খণ্ডন করেন তখন ইসলামাবাদের পুরনো অবস্থান ধোপে টেকে না। ফলে উভয় পক্ষকে ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে এসব ইস্যুতে এগোনোর বিষয়ে সম্মত হতে হয়।

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর