শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল dailyvobnews@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • চুক্তি বাতিল ৯ সচিবের, ওএসডি ৩ — প্রশাসনে পুনর্বিন্যাসের বার্তা
  • অন্তর্বর্তী সরকারকে কাঠগড়ায় রাষ্ট্রপতি, ‘প্রাসাদবন্দি’ থাকার দাবি
  • বেইজিং-ঢাকা সম্পর্কে নতুন গতি, চীনের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর জন্য
  • মহিলা নেত্রীদের নাম আলোচনায়, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বিবেচনা
  • ভোরের পোস্ট, দিনে ভাইরাল: শফিকুর রহমানের স্ট্যাটাসে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া
  • একুশের আবহে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও বইমেলার উদ্বোধন ২৬ ফেব্রুয়ারি
  • স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং শোকপ্রস্তাব নিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন সংসদ কার্যক্রম
  • শূরা বৈঠকে জামায়াতের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি, নির্বাহী পরিষদে ২১ সদস্য
  • বিদায়ী উপদেষ্টাদের অধিকাংশই কূটনৈতিক পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছেন
  • ঈদের পর ধারাবাহিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসি

জিল্লুর রহমান

রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে আলোচিত শব্দ জুলাই সনদ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
২৩ আগষ্ট ২০২৫, ১২:২৪

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও টিভি উপস্থাপক জিল্লুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে আলোচিত শব্দ হলো জুলাই সনদ।

কেউ একে বলছেন গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি। কেউ বলছেন রাজনৈতিক সংস্কারের এক নতুন রূপরেখা। আর অনেকে একে দেখছেন সংবিধানের ওপর চাপিয়ে দেয়া এক বিপদজনক দলিল হিসেবে।

সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলের এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সাল থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। সাতের দুই অনুচ্ছেদে লেখা আছে জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তির রূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক অন্য যেকোন আইন বাতিল বলে গণ্য হবে।

এমন একটি ভিত্তি আইনকে পাশ কাটিয়ে যদি রাজনৈতিক দলগুলো একটি নতুন সনদ তৈরি করে এবং ঘোষণা দেয় যে এর বিধান আদালতে প্রেষ্ঠ তোলা যাবে না তাহলে সেটি কেবল অসাংবিধানিক নয় ভবিষ্যতে রাষ্ট্রকে চরম অনিশ্চয়তায় ঠেলে দেবে।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করে অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেন। এরই ধারাবাহিকতাই এলো জুলাই সনদ— যাতে আন্দোলনের দাবি, সংস্কার ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি লিপিবদ্ধ হলো। কিন্তু এখানেই তৈরি হলো বিভ্রান্তির ফাদ। সনদে ৮৪ টি বিষয় রাখা হয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার, অনুচ্ছেদ ৭০, মৌলিক অধিকার, ভাষা ও নাগরিকত্ব, সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, নির্বাচনী এলাকা পুনঃনির্ধারণ, বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ ইত্যাদি। কিন্তু এসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য নেই।

তবু প্রস্তাবিত সনদ বলছে যদি কোন আইন বা সংবিধানের ধারা এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয় তবে জুলাই সনদ প্রাধান্য পাবে। আরো বলা হয়েছে এই সনদের বৈধতা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না। এর মানে দাঁড়াচ্ছে সনদ হয়ে উঠছে সংবিধানের সমান্তরাল।

এমনকি ঊর্ধতন এক দলিল। জিল্লুর বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এরকম চেষ্টার নজির আছে। পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করেছিল আদালত। ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করেছিল আদালত। আবার সেই রায়ের রিভিউতেও বিতর্ক হয়েছে। আদালত প্রমাণ করেছে সংবিধানের কোনো অংশই চিরস্থায়ী নয়। প্রশ্নাতীত নয়। তাহলে একটি রাজনৈতিক সনদকে যদি প্রশ্নাতীত করা হয় সেটি কি আইনের শাসনের পরিপন্থী নয়?

জিল্লুর আরো বলেন, আজকের রাজনীতি মূলত ট্যাগ আর প্রচারণার খেলা। অথচ গণঅভ্যুত্থানের পর সুযোগ ছিল নতুন রাজনৈতিক ভারসাম্য আনার। কিন্তু ভুল কৌশল, ক্ষমতার ভাগবাটোয়ারা, চাঁদাবাজির সংস্কৃতিতে সেই সুযোগ হারিয়ে গেছে। জুলাই সনদ যদি সংবিধানের ঊর্ধে স্থান পায় তবে বিভাজন আরো গভীর হবে। রাজনীতি আসলে এখন দায় স্বীকার না করে দায় চাপানোর শিল্পে পরিণত হয়েছে।

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর