প্রকাশিত:
২১ আগষ্ট ২০২৫, ১৪:০২
ঘামে সাধারণত খুব একটা গন্ধ হয় না। কিন্তু এই ঘামের সঙ্গে যখন ব্যাকটেরিয়া যুক্ত হয়, তখন দুর্গন্ধ তৈরি হয়। গায়ের দুর্গন্ধ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়! সাজপোশাক যতই ভালো হোক না কেন, গায়ের দুর্গন্ধ ব্যক্তিত্বের ওপর প্রভাব ফেলবেই!
অনেকেই প্রতিদিনের জীবনে ঘামের দুর্গন্ধের সমস্যায় ভরসা রাখেন নামিদামি ব্র্যান্ডেড পারফিউমের ওপর। কিন্তু তাতেও অনেক সময় সুরাহা মেলে না।
যার জন্য কেন গায়ে দুর্গন্ধ হচ্ছে তার কারণ জানা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের কয়েকটি নির্দিষ্ট গন্ধ কোনো বিশেষ রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। যেমন-
মিষ্টি বা ফলের মতো গন্ধ : ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরে কিটোন জমে যায়। এতে ঘাম বা নিঃশ্বাসে মিষ্টি কিংবা ফলজাতীয় গন্ধ বের হতে দেখা যায়।
অ্যামোনিয়ার মতো গন্ধ : কিডনির সমস্যায় শরীর থেকে বর্জ্য সঠিকভাবে বের হতে না পারলে ঘামে অ্যামোনিয়ার মতো গন্ধ হতে পারে।
মাছের মতো তীব্র গন্ধ : ট্রাইমেথিলামিনুরিয়া নামে বিরল এক মেটাবলিক সমস্যায় শরীর থেকে মাছের মতো গন্ধ বের হয়। এটি জিনগত রোগও হতে পারে।
অ্যালকোহল বা টক ধরনের গন্ধ : যকৃতের সমস্যা বা লিভার ফেইলিওরের ক্ষেত্রে শরীর থেকে টক বা অ্যালকোহলজাতীয় গন্ধ তৈরি হতে পারে।
পচা ডিম বা সালফারের মতো গন্ধ : হজমে সমস্যা বা কিছু ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের কারণে এ ধরনের গন্ধ হয়। অতিরিক্ত তীব্র ঘামের গন্ধ : থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতায় এ ধরনের গন্ধ হতে পারে।
এ ছাড়া বেশ কিছু কারণে ঘামে দুর্গন্ধ হতে পারে। যেমন- অপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা : নিয়মিত গোসল না করলে বা পোশাক পরিষ্কার না রাখলে ঘামের সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া বেড়ে দুর্গন্ধ হয়।
খাবারের প্রভাব : রসুন, পেঁয়াজ, ঝাল-মসলা বা অ্যালকোহল শরীরের গন্ধ বাড়াতে পারে। হরমোন ও মানসিক চাপ : হরমোনের মাত্রার ওঠানামা কিংবা স্ট্রেস শরীরের ঘাম ও গন্ধ দুটোই বাড়ায়।
স্বাস্থ্য সমস্যা : লিভারের অসুখ কিংবা কিছু মেটাবলিক রোগে হঠাৎ অস্বাভাবিক গন্ধ তৈরি হতে পারে।
কেন সতর্ক হওয়া জরুরি
চিকিৎসকদের মতে, হঠাৎ তীব্র বা অস্বাভাবিকভাবে শরীরের গন্ধ হলে অবহেলা করা উচিত নয়। এটি শরীরের ভেতরের কোনো গুরুতর অসুস্থতার প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।
দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণের উপায়
নিয়মিত গোসল ও পরিষ্কার পোশাক ব্যবহার করুন।
কটন বা হালকা বায়ু চলাচল করে এমন পোশাক পরুন।
ঝাল-মসলা ও দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী খাবার কম খান।
প্রচুর পানি পান করুন।
যদি হঠাৎ গন্ধের পরিবর্তন হয় বা তীব্রতা বাড়ে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
মন্তব্য করুন: