প্রকাশিত:
২১ আগষ্ট ২০২৫, ১৩:২৯
সাম্প্রতিক সময়ে নানা কারণেই আলোচনায় থাকছেন আজমেরী হক বাঁধন। আজ সকালেও নিজের জীবনের পুরুষদের কথা। সেখানে অভিনেত্রী স্পষ্ট করেছেন, তার আপত্তি পুরুষদের প্রতি নয়, বরং সমাজে প্রচলিত পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার প্রতি।
‘আমার জীবনের পুরুষরা’ ক্যাপশনে বাঁধন সেই স্ট্যাটাসে লিখেছেন, আমাকে নিয়ে প্রায়ই এক বড় ভুল বোঝাবুঝি হয়—অনেকে ভাবে আমি নাকি পুরুষদের পছন্দ করি না।
এটা সত্যি নয়। আমি যা পছন্দ করি না, তা হলো আমাদের এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ, আর সেই সমাজকে টিকিয়ে রাখা নারী-পুরুষ উভয়কেই। তিনি আরও জানান, পুরুষ মানুষকে ঘৃণা না করলেও তিনি পুরুষতন্ত্রকে কখনোই মেনে নেন না।
পোস্টে বাঁধন গুরুত্বপূর্ণ কিছু পুরুষের প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেছেন। তাদের মধ্যে প্রথমেই আসেন তার বাবা, যিনি নানা উপায়ে তাকে গড়ে তুলেছেন। এছাড়া বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন ‘রেহানা’ চলচ্চিত্রের পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের নাম। বাঁধনের মতে, এই দুইজন পুরুষ তার ব্যক্তিত্ব ও শিল্পীজীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছেন। পোস্টে নিজের দুই ভাইয়ের কথাও তুলে ধরেছেন বাঁধন।
তিনি লিখেছেন, তার দুই ভাই-ই জীবনের ভরসা, যদিও চিন্তায় পার্থক্য আছে। বিশেষ করে ছোট ভাই রাশাকে তিনি শুধু ভাই নয়, বরং সেরা বন্ধু হিসেবেই দেখেন। তার সঙ্গে তিনি শিশুসুলভ সরলতায় কথা বলতে পারেন। আরেক ভাইয়ের প্রসঙ্গে বাঁধন বলেন, বাবা-মা না পারলেও সেই ভাই তার পাশে দাঁড়িয়েছেন, যা তিনি কখনও ভুলবেন না।
উত্তরাধিকার নিয়ে দুই ভাইয়ের সিদ্ধান্তও আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন অভিনেত্রী। তিনি লিখেছেন, তারা দুজনই শরিয়তের নিয়ম কঠোরভাবে না মেনে সমান অংশে আমার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন। আমি আসলে পছন্দ করি না যে, তারা যেন আমাকে দিয়ে দিয়েছে—যেন সেটা তাদের ছিল, আমার নয়। কিন্তু এটাই আমাদের সিস্টে
মের বাস্তবতা। আর তারা সেটাকে ন্যায্যতা ও ভালোবাসা দিয়ে সামলেছে। আমি আশা করি, একদিন আমাদের আইনই নিশ্চিত করবে—সবাই সমানভাবে উত্তরাধিকার পাবে।
তবে বাঁধনের অভিজ্ঞতা সবসময় ইতিবাচক ছিল না। জীবনে এমনও পুরুষ এসেছেন, যারা ছিলেন অসম্মানজনক, হিংস্র ও অমানবিক। কিন্তু তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
অভিনেত্রীর ভাষায়, তারা যতই আমাকে ভাঙতে চেয়েছে, তাদের নিষ্ঠুরতা আমাকে ততটাই আগুনের মতো জ্বালিয়েছে—অন্যায়ের বিরুদ্ধে আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণের মতো।
শেষে বাঁধন আবারও পরিষ্কার করেছেন নিজের অবস্থান। তিনি লিখেছেন, তাই ভুল বোঝো না—আমি পুরুষদের অপছন্দ করি না। আমি অপছন্দ করি পুরুষতন্ত্রকে। আর হ্যাঁ, আমি পুরুষদের ভালোবাসি।
মন্তব্য করুন: