প্রকাশিত:
২০ আগষ্ট ২০২৫, ১২:৫১
মালয়েশিয়া নতুন করে রিভাইজড কলিং ভিসা ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।
দেশটিতে ২৪ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি শ্রমিক নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মালয়েশিয়ান সংবাদমাধ্যম বিজনেস টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বিবৃতিতে সোমবার এই তথ্য জানায় দেশটির কর্তৃপক্ষ।
এত বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের জন্যও নতুন করে সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন শ্রমবাজার–বিশেষজ্ঞরা।
এই ভিসার জন্য আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে হবে ভিসাপ্রত্যাশীদের। তবে বাংলাদেশ কতজন ভিসার আবেদন করতে পারবেন তা এখনও জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিয়ন ইসলাইলের সঙ্গে বৈঠক করেছে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, কৃষি, বনায়ন, খনিজ, উৎপাদনশিল্প, নির্মাণ ও এসব খাত-সংক্রান্ত মোট ১৩টি উপখাত ও পরিষেবায় জনবল বাড়াতে আগামী চার মাসে আবেদন নেওয়া হবে।
মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে দীর্ঘদিন ধরেই শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রাবার, পামতেল, মাছ উৎপাদন ও নির্মাণশিল্পে শ্রমিকের ঘাটতি তীব্র হয়েছে। তাই এত দিন নিয়োগ সীমিত রাখলেও এবার বাধ্য হয়ে শ্রমবাজার খুলতে যাচ্ছে দেশটি। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কঠোর নিয়মকানুন মানতে হবে।
মালয়েশিয়ার সরকারি সূত্রে জানা গেছে, কৃষিখাতে শ্রমিকরা মূলত রাবার ও পামবাগান এবং মৎস্য উৎপাদন খাতে কাজ করবেন। নির্মাণ খাতের কর্মীরা শুধুমাত্র সরকারি ভবন ও অবকাঠামো প্রকল্পে যুক্ত হতে পারবেন। আর উৎপাদনশিল্পে যারা যাবেন, তাদের অবশ্যই মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মিডা) অনুমোদিত কারখানায় নিয়োগ দেওয়া হবে।
এর আগে মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহীরা সরাসরি বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ভিসার জন্য আবেদন করতে পারতেন। কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এবার শুধু সরকার স্বীকৃত এজেন্সি মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
আবেদন যাচাই করবে স্বরাষ্ট্র ও মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ কমিটি। আবেদন যাচাইয়ের পর সেরা প্রার্থীরাই পাবেন দেশটির ভিসা।
নব্বইয়ের দশকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশিরাই ছিলেন প্রধান শক্তি। তবে বর্তমানে সে জায়গা দখল করে নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, ভারত ও ভিয়েতনাম।
মন্তব্য করুন: