শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল dailyvobnews@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • চুক্তি বাতিল ৯ সচিবের, ওএসডি ৩ — প্রশাসনে পুনর্বিন্যাসের বার্তা
  • অন্তর্বর্তী সরকারকে কাঠগড়ায় রাষ্ট্রপতি, ‘প্রাসাদবন্দি’ থাকার দাবি
  • বেইজিং-ঢাকা সম্পর্কে নতুন গতি, চীনের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর জন্য
  • মহিলা নেত্রীদের নাম আলোচনায়, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বিবেচনা
  • ভোরের পোস্ট, দিনে ভাইরাল: শফিকুর রহমানের স্ট্যাটাসে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া
  • একুশের আবহে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও বইমেলার উদ্বোধন ২৬ ফেব্রুয়ারি
  • স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং শোকপ্রস্তাব নিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন সংসদ কার্যক্রম
  • শূরা বৈঠকে জামায়াতের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি, নির্বাহী পরিষদে ২১ সদস্য
  • বিদায়ী উপদেষ্টাদের অধিকাংশই কূটনৈতিক পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছেন
  • ঈদের পর ধারাবাহিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসি

‘বিয়ের দিন ঠিক করতে গিয়ে’ চোর সন্দেহে পিটুনি, জামাই-শ্বশুরের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
১০ আগষ্ট ২০২৫, ১৩:১৩

রংপুরের তারাগঞ্জে ভ্যান চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে জামাই ও চাচাশ্বশুরের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার (৯ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুর গ্রামের রূপলাল দাস (৪০) ও মিঠাপুকুরের বালুয়া ভাটা গ্রামের প্রদীপ দাস (৩৫)। সম্পর্কে তারা ভাস্তি জামাই-শ্বশুর।

পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রূপলাল দাসের মেয়ের সঙ্গে মিঠাপুকুরের শ্যামপুর এলাকার লালচাঁদ দাসের ছেলে ডিপজল দাসের বিয়ের কথাবার্তা চলছিল। আজ রবিবার (১০ আগস্ট) বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করার কথা ছিল। এ জন্য গতকাল শনিবার বিকেলে প্রদীপ দাস নিজের ভ্যান নিয়ে রূপলাল দাসের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

তবে রাস্তা না চেনায় তিনি সয়ার ইউনিয়নের কাজীরহাট এলাকায় এসে রূপলালকে ফোন করেন। পরে রূপলাল সেখানে গিয়ে তাকে নিয়ে রিকশায় করে ঘনিরামপুরের পথে রওনা হন।

সূত্র জানায়, রাত ১০টার দিকে তারাগঞ্জ-কাজীরহাট সড়কের বটতলা এলাকায় পৌঁছলে স্থানীয় কয়েকজন তাদের ভ্যানচোর সন্দেহে আটক করেন। এ সময় প্রদীপ দাসের ভ্যানে থাকা একটি বস্তা থেকে চারটি ছোট প্লাস্টিকের বোতল উদ্ধার করা হয়।

এর একটির ঢাকনা খুলে ঘ্রাণ শুঁকতে গিয়ে অচেতন হয়ে পড়েন পাশারিপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক আলমগীর হোসেন ও বুড়িরহাটের মেহেদী হাসান।এতে সন্দেহ বাড়লে তাদের মারধর করা হয়। একপর্যায়ে বটতলা থেকে টেনেহিঁচড়ে বুড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে গিয়ে আবারও পেটানো হয়।

পরে রাত ১১টার দিকে পুলিশ অচেতন অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রূপলাল দাসকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত প্রদীপ দাসকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই ভোররাতে তার মৃত্যু হয়।

নিহত রূপলাল দাসের ভাই খোকন দাস জানান, তারা নির্দোষ ছিলেন। বিয়ের দিন ঠিক করার জন্যই প্রদীপ শ্বশুরবাড়ির দিকে আসছিলেন। কিন্তু কিছু লোক ভুল বোঝাবুঝির কারণে তাদের পিটিয়ে হত্যা করেছে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের জন্য ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

তারাগঞ্জ থানার ওসি এম এ ফারুক বলেন, ‘ভ্যান চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর