শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল dailyvobnews@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • চুক্তি বাতিল ৯ সচিবের, ওএসডি ৩ — প্রশাসনে পুনর্বিন্যাসের বার্তা
  • অন্তর্বর্তী সরকারকে কাঠগড়ায় রাষ্ট্রপতি, ‘প্রাসাদবন্দি’ থাকার দাবি
  • বেইজিং-ঢাকা সম্পর্কে নতুন গতি, চীনের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর জন্য
  • মহিলা নেত্রীদের নাম আলোচনায়, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বিবেচনা
  • ভোরের পোস্ট, দিনে ভাইরাল: শফিকুর রহমানের স্ট্যাটাসে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া
  • একুশের আবহে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও বইমেলার উদ্বোধন ২৬ ফেব্রুয়ারি
  • স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং শোকপ্রস্তাব নিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন সংসদ কার্যক্রম
  • শূরা বৈঠকে জামায়াতের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি, নির্বাহী পরিষদে ২১ সদস্য
  • বিদায়ী উপদেষ্টাদের অধিকাংশই কূটনৈতিক পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছেন
  • ঈদের পর ধারাবাহিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসি

খুলে নিচ্ছে নাট-বোল্ট, ঝুঁকিতে ৭০০ কোটি টাকার ফ্লাইওভার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
৩ আগষ্ট ২০২৫, ১৩:৫০

এখন নিরাপত্তা ঝুঁকিতে চট্টগ্রামের মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভার। প্রতিবছর অন্তত একবার সার্বিক পরিস্থিতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কথা থাকলেও ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ফ্লাইওভারটি সাত বছরে একবারও সেটি করা হয়নি। স্টিল গার্ডার থেকে নাট-বোল্ট খুলে নেওয়াসহ ফ্লাইওভারের নিচে সবুজায়নের জন্য তৈরি করা নিরাপত্তা বেষ্টনীও চুরি হচ্ছে।

২০১৪ সালের ১২ নভেম্বর নগরীর মুরাদপুর থেকে লালখানবাজার পর্যন্ত চার লেনের আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করা হয়।

এরপর ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালের মার্চে। ২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ফ্লাইওভারটির মূল অংশ যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ধাপে ধাপে জিইসি ও ষোলশহরের লুপ এবং র‌্যাম্পগুলো যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ফ্লাইওভারটি নির্মাণ করার পর ২০১৯ সালের ডিসেম্বর আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারসহ চারটি ফ্লাইওভার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সিডিএর সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রতিদিন অন্তত ৮০ হাজার গাড়ি চলাচল করে এই ফ্লাইওভার দিয়ে। নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের গাইডলাইনে প্রতিবছর অন্তত একবার নিরীক্ষা করার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। এদিকে ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ হলেও মরে যাচ্ছে ৯০ হাজার গাছ।

সরেজমিনে ফ্লাইওভারে গিয়ে দেখা যায়, বায়েজিদ বোস্তামী সড়ক থেকে জিইসি মোড়ে ওঠানামার লুপ ও র‍্যাম্পের ২৯টি স্টিল গার্ডারের অনেকগুলো থেকে নাট-বোল্ট খুলে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

এ ছাড়া নগরের শপিং কমপ্লেক্স থেকে ২ নম্বর গেট পর্যন্ত স্টিলের তৈরি নিরাপত্তা বেষ্টনী নিয়ে গেছে। মুরাদপুর অংশের বিভিন্ন এলাকায়ও নিরাপত্তা বেষ্টনী নেই। ২ নম্বর গেট ও নাসিরাবাদ এলাকায়ও নিরাপত্তা বেষ্টনী খুলে নেওয়া হয়েছে। পরিচর্যার অভাবে ফ্লাইওভারের নিচে সড়ক বিভাজকে লাগানো গাছগুলো মরে যাচ্ছে। উপড়ে ফেলা হয়েছে শত শত বাতির পোল।

এসব স্থানে মাদকসেবী ও ভাসমান লোকজনের ভিড় থাকে। ফ্লাইওভারের ওপর থেকে বৈদ্যুতিক বাতিগুলো খুলে নিয়ে গেছে। ফ্লাইওভারে জমে আছে ময়লা, আটকে আছে বৃষ্টির পানি।
এসব বিষয়ে ফুটপাতের এক দোকানি বলেন, মাদকসেবী ভাসমান কিশোর ও যুবকরা নিরাপত্তা বেষ্টনী খুলে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ বাধা দিলে তারা দল বেঁধে তেড়ে আসে। কয়েক দিন আগে ফ্লাইওভারে নাট-বোল্ট খোলার শব্দ পেয়ে লোকজন জড়ো হয়ে তাদের তাড়িয়েছে।

ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর এর নিচে সড়ক বিভাজকে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়। লাগানো হয় বিভিন্ন প্রজাতির ৯০ হাজার গাছের চারা। মাঝখানে হাঁটাপথ তৈরি করে বসানো হয় টাইলস। গাছগুলোতে পানি ছিটাতে ঝরনা ও সাবমারসিবল পাম্প স্থাপন করা হয়। এ ছাড়া কয়েকশ বিদ্যুতের পোল স্থাপন করা হয়। এসব কাজে সিডিএর ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি টাকা।

আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভারের প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, গার্ডারের নাট-বোল্ট খুলে নেওয়া হলে অবশ্যই ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য একটি গাইডলাইন সিটি করপোরেশনকে দেওয়া হয়েছিল। জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্ব দিলেও তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মেরামত করে দিতে পারবে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, মাদকসেবীরা ফ্লাইওভারের নাট-বোল্ট ও গ্রিল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে চিঠি দেওয়া হবে।

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর