শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল dailyvobnews@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • চুক্তি বাতিল ৯ সচিবের, ওএসডি ৩ — প্রশাসনে পুনর্বিন্যাসের বার্তা
  • অন্তর্বর্তী সরকারকে কাঠগড়ায় রাষ্ট্রপতি, ‘প্রাসাদবন্দি’ থাকার দাবি
  • বেইজিং-ঢাকা সম্পর্কে নতুন গতি, চীনের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর জন্য
  • মহিলা নেত্রীদের নাম আলোচনায়, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বিবেচনা
  • ভোরের পোস্ট, দিনে ভাইরাল: শফিকুর রহমানের স্ট্যাটাসে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া
  • একুশের আবহে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও বইমেলার উদ্বোধন ২৬ ফেব্রুয়ারি
  • স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং শোকপ্রস্তাব নিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন সংসদ কার্যক্রম
  • শূরা বৈঠকে জামায়াতের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি, নির্বাহী পরিষদে ২১ সদস্য
  • বিদায়ী উপদেষ্টাদের অধিকাংশই কূটনৈতিক পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছেন
  • ঈদের পর ধারাবাহিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসি

সরকারের ভিতরেও কী সরকার আছে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
৩১ জুলাই ২০২৫, ১৩:০৯

এই সরকারের ভিতর সরকার আছে। যারা পরিবর্তনে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। যাদের অনেক প্রতিনিধি এই সরকারে রয়েছে। একটি মিডিয়া হাউসে গিয়ে একদিন দেখলাম দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এই কথাটি বলেছিলেন, যখন সকলের মনে হতে লাগল, সরকারের ভিতর সরকার আছে।

সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আনম ডক্টর আ ন ম এহসানুল হক মিলন একটি টকশো অনুষ্টানে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি যদি জনগণকে জিজ্ঞেস করি কি অবস্থা? কেমন আছেন? তারা বলবে, আগে ছিলাম এক পেশি প্রেশারে এখন আছে চতুর্দিকের প্রেশারে। চতুর্দিক বলতে তারা বুঝাতে চাচ্ছে যে, আওয়ামী লীগ নেই। প্রচ্ছন্নভাবে তারা অন্য জায়গায় মিশে আছে।

এখন সকলে মিলে জনগণকে প্রেশার দিচ্ছে। এই প্রেসারের মাঝে সরকারের ভিতরে সরকার নিশ্চয়ই আছে। তা না হলে ডক্টর ইউনূস সাহেব কেন সব কথা খোলামেলা বলতে পারছেন না? কেন তার নির্দেশে কাজ হচ্ছে না? কেন তিনি একটির পর একটি নতুন উপসর্গ এনে নির্বাচনকে পেছাচ্ছেন? এই সরকারের দুর্বলতা ক্রমাণ্যয়ে বেরিয়ে আসছে।
তিনি আরো বলেন, আগে ছিল অল্প সংস্কার।

মোটামুটি একটা সংস্কার হলে নির্বাচন ডিসেম্বর, ফেব্রুয়ারি কিংবা জুনে। এখন উনি (ইউনূস) তো বলছেন গভীরতম সংস্কার। এই যে গভীরতম সংস্কার, এ কথাটি আবার আমাদেরকে একটু চিন্তায় ফেলে দেয়। কারণ আগে তিনি যে অবস্থানে ছিলেন, সেই অবস্থান থেকে আরো ব্যাপকভাবে অন্যদিকে তাকাচ্ছেন। এর কারণ বোঝা যাচ্ছে না।

উনার সিদ্ধান্ত আমরা দেখছি না তেমন। আসলেও সরকারের ভিতর সরকার আছে তবে তারা কারা? এটা নিশ্চিত বলতে পারছি না। কিন্তু সরকারকে সাহায্য করার জন্য বাইরে থেকে কিছু গ্রুপ কিভাবে সিলেক্ট হয়েছে, এটা আমরা দেখেছি। এই গ্রুপ অফ সিলেকশ-এর বেশিরভাগ একটি জায়গা থেকে আসছে, তাদের ভিতরে অন্য চিন্তাভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, আরেকটু সময় দিন সব পাওয়া যাবে। এখন যে জায়গাটি এসে আমরা চিন্তিত হয়েছি সেটা হলো, ইউনূস নির্বাচনের তারিখ সঠিকভাবে ডিক্লেয়ার দিতে পারছেন না। ভাবছি ৫ই আগস্ট তিনি দেবেন। কারণ মোটামুটি সংস্কার হয়েছে বা আমি বলব যে, এই ছয় মাসে যে সংস্কার হয়েছে এটা মনে হয় বিশ্বে দ্রুততম কোন সংস্কার। একটি দেশের জন্য একটি রাষ্ট্রের জন্য হয়েছে। যে রাষ্ট্রটি ৫৩ বছর আগে সৃষ্টি হয়েছিল। এত দ্রুততম সংস্কার হওয়ার পরেও আমরা দেখছি বিভিন্ন কারণে ওয়াকআউট করতে হচ্ছে। তাহলে এগুলি কি সংকেত নয়? সব জায়গায় আমরা ঐক্যমত হতে পারছি না। সেগুলো আমাদেরকে খুব মাইক্রোস্কোপিক আই দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এই সরকার ব্যর্থতার ঝুড়ি ক্রমাণ্যয় বেড়ে যাচ্ছে সফলতার চেয়ে। সেইদিকে যদি আমরা তাকাই তাহলে নির্বাচন একমাত্র সমাধান। আমাদের অপেক্ষা করতে হবে পাঁচ তারিখে উনার (ইউনূস) জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ পর্যন্ত। সেই ভাষণের পরে আমরা বুঝতে পারব সরকারের ভিতর সরকার এই ক্রিয়ান নরকরা কোন দিকে যেতে চাচ্ছে।

৫ আগস্টের পরে আলোচনায় সবচাইতে বেশি এসেছে রাজনীতিতে দক্ষিণপন্থী একটা আবহাওয়া। আসলেই কী দেশে ৫ আগস্টের পন্থীদের উত্থান হয়েছে? এ প্রশ্নের জবাবে অনুষ্ঠানে এবি পার্টি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আপনার প্রশ্নগুলো সহজ কিন্তু উত্তরগুলো অত সহজ না। প্রথম কথা হচ্ছে, মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীরের সাক্ষাৎকারটা আমি পড়েছি। উনাকে মানে যিনি ইন্টারভিউ নিয়েছেন উনি প্রশ্ন করেছেন যে, দক্ষিণপন্থীদের একটা উত্থান দেখা যাচ্ছে। আপনি সেটা মনে করেন কি না? উনি বলেছেন, হ্যাঁ মনে করি। এরপর তিনি তার উদ্বেগ নিয়ে কথা বলেছেন। আমরা এত ঘুরে পেঁচিয়ে না বলে বুঝতে পারি যে, দক্ষিণপন্থী বলতে এখানে এক ধরনের ধর্মপন্থী লোকদের উত্থানকে বোঝানো হয়েছে। তাদের বেশ কিছু বড় বড় সমাবেশ হয়েছে, কিছু কিছু জায়গায় মাজার ভাংচুর হয়েছে, কিছু কিছু জায়গায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলা হয়েছে।

তিনি বলেন, এই প্রবণতাগুলো আমাদের সমাজে কিন্তু ছিল। আমাদের গ্রামে গঞ্জে বহু জায়গায় যাত্রাপালা বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। নানা ধরনের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের এখানে যেটা হয় সেটা হচ্ছে, ধর্মের রিয়েল যেই জায়গাটা সেটার জায়গার চাইতে অনেক জায়গায় কিছু কিছু বিকৃতি। এমনকি ধর্মে ধর্মেও আছে। আপনি দেখবেন একপক্ষ গিয়ে আরেক পক্ষের মসজিদ ভেঙে দিয়েছে। সুতরাং এটাকে আপনি শুধু একমুখী দেখলে হবে না।

কোথাও সিনেমা হল ভেঙে ফেলেছে বা কোথাও যাত্রাপালা ভেঙে ফেলেছে, বিষয়গুলো এভাবে না দেখে আপনি দেখবেন মাজারও তো ভাঙ্গা হয়েছে। মাজারও তো একটা ধর্মীয় জায়গা। আবার দেখবেন কোথাও মাইজ ভান্ডারের ওরস হচ্ছে বা সেখানে এক ধরনের ধর্মীয় গান বাজনা হচ্ছে সেখানেও হামলা হয়েছে। এগুলো প্রত্যেকটা হচ্ছে ধর্মতাত্ত্বিক চিন্তা থেকে দূরত্ব এবং দূরত্বের জায়গা থেকে এক ধরনের এগ্রেসিভনেস। আবার দেখবেন, দলের মধ্যে মারামারি হচ্ছে। দলের পদ নিয়ে মারামারি হচ্ছে। দলের মধ্যে একজন আরেকজনকে খারাপ কথা বলেছে সেটা নিয়েও মারামারি হচ্ছে। একজন আরেকজন উস্কানিমূলক কথা বলেছে সেখানে মারামারি হচ্ছে। সুতরাং এই অসহিষ্ণুতা আমাদের একটা জাতীয় সংকট বলতে পারেন।

মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, পছন্দ না হলেই আমি আপনার ওপর চড়াও হচ্ছি। আমার মত আপনার পছন্দ না হলে আপনিও আমার ওপর চড়াও হচ্ছেন। কখনো সেটা ধর্মীয় ইস্যু, কখনো সেটা রাজনৈতিক ইস্যু, কখনো সেটা সাংস্কৃতিক ইস্যু দাঁড়াচ্ছে। অর্থাৎ এইভাবেই আমাদের এখানে ফ্যাসিবাদটা বিস্তৃত হয়েছে। আমি তো দেখি ধর্মীয় দলগুলোর অনেক বড় বড় সমাবেশ আগত হয়েছে। বিভিন্ন হুজুররা সেখানে ওয়াজ করে। অনেক সেলিব্রেটি হুজুর। মাহফিল মানেই কিন্তু সমাবেশ। মাহফিলটা তো আরবি শব্দ বা উর্দু আমি তো আরবি পন্ডিত না। আমাদের এখানে তাবলীগের বিশাল ইস্তেতেমা হয়। সেখানে তো রাষ্ট্র পর্যন্ত সাহায্য করে। এখন এটাকে আপনি দক্ষিণপন্থী উত্থান বলবেন কি না?

তিনি বলেন, আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। শুধু উদাহরণ হিসেবে যদি বলি, কেউ এটাকে একটা ইসলামী রাষ্ট্র বানাতে চায় বা শরীয়া ভিত্তিক রাষ্ট্র বানাতে চায়। শরীয়া ভিত্তিক রাষ্ট্রের ব্যাপারে আমাদের অনেকের মধ্যে এক ধরনের ভীতি আছে। এটা থাকতেই পারে। সেটা আবার অন্যদেরও থাকতে পারে, সেকুলার রাষ্ট্রের ব্যাপারে অনেকের ভীতি আছে, কমিউনিস্ট রাষ্ট্রের প্রতি অনেকের লিমিটেশনস আছে। এটা যার যার দৃষ্টিকোণ থেকে থাকতে পারে। এখন গণতান্ত্রিক ধারায় এটাকে কেউ ইসলামী রাষ্ট্র বানানোর জন্য ভোট দেয়। গণতান্ত্রিক দিক থেকে তো আপনি বাধা দিতে পারেন না। যদি আপনার রাষ্ট্রের নীতিতে থাকে, না আমরা এটাকে ধর্ম রাষ্ট্র হতে দিব না। সেটা হিন্দু রাষ্ট্র হতে হলেও দিব না। খ্রিস্টান রাষ্ট্র হতে হলেও দিব না। এটাতো স্পেসিফিক কোন ধর্মকে আলাদা করা হচ্ছে না। এখানে দুটো ক্ল্যাশ দেখি আমি।

মঞ্জু উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেন, ফকরুল ভাইয়ের কথার বিরোধিতা করছি। দক্ষিণপন্থীরা যদি ভোট পায় তাদের যদি জনসমর্থন পায়, তাদের উত্থান ঘটলে অসুবিধাটা কোথায়? আপনারা সাংস্কৃতিকভাবে রাজনৈতিকভাবে তাদেরকে মোকাবেলা করেন। আমি কিন্তু নেগেটিভলি বলছি না। আমি জাস্ট বিশ্লেষণের জন্য বলছি, বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি তো নিষিদ্ধ ছিল। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি শুরু করেছে কে? বাংলাদেশে তো আওয়ামী লীগও নিষিদ্ধ ছিল। তাইলে আমার আঙ্গুল উঠবে মিলন ভাইয়ের দিকে, উনারাই তো বহুদলীয় রাজনীতির দলটা খুলেছেন। ফলে ধর্মপন্থী দল এখানে যেরকম খ্রিস্টান দল, হিন্দু দল, করার রাইট আছে, তেমনি ইসলামিক দল করারও রাইট আছে।

এই দক্ষিণপন্থী বাদ কি গণতন্ত্র বিশ্বাস করে? এ প্রশ্নের জবাবে মঞ্জু বলেন, এটা খুবই একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ধরেন আমি একটা আইডোলজি ধারণ করি। সেই আইডোলজিটাই অগণতান্ত্রিক বা আমি ফেসিবাদ ধারণ করি। এই যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, একদিনের জন্য হলেও আমি স্বৈরাশাসক হব। ডিক্লিয়ার করছেন, আমি স্বৈর শাসন চালাবো। ডিক্লিয়ার করছেন, অভিবাষীদেরকে অধিকার দিব না, তাদেরকে এখান থেকে তাড়াই দিব। এখন এত এই কথা বলার পরেও তাকে যখন আমেরিকার মত রাষ্ট্রের মানুষ ভোট দেয়, এটার আপনি কি ব্যাখ্যা খুঁজে বের করবেন? আমি বিলিভ করি, গণতান্ত্রিক চর্চা হলে কোনো উগ্রবাদ আল্টিমেটলি বিজয়ী হবে না।

মুজিবুর রহমান মঞ্জু আরো বলেন, যখন আপনি আমাকে প্রশ্ন করবেন, তখন সেই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে আমার মতবাদটা, আমার চিন্তাটা যে একপাক্ষিক, আমার চিন্তাটা যে এককেন্দ্রিক সেটা এক্সপোজ হয়ে যাবে। গণতন্ত্রের চর্চা আমরা করি না বলেই আমি উত্থানকে ঠেকাতে পারবো না। কিন্তু আমি যদি বলি কোন একটা খারাপ মতবাদের উত্থান ঘটবে কি না? গণতন্ত্র এটা ঘটতে পারে না। গণতন্ত্র যখন থাকবে মানুষ যখন প্রশ্ন করা শিখবে, উত্তর করা শিখবে এবং বিতর্ক করবে তখন আপনার মতবাদ যদি ভুল হয়, আমি যখন বিতর্ক দিয়ে সেটা প্রতিষ্ঠা করব, তখন জনগণ সাপোর্ট করবে না।

এরপর উপস্থাপিকা বলেন মুজিবুর রহমান মঞ্জু একটা কথা বলেছেন, যদি ভোট দিয়ে কেউ দক্ষিণপন্থী বা ইসলামী ভাবাদর্শের বা কোন ধর্মপন্থী রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় নিয়ে আসে, সেটা গণতান্ত্রিক উপায়ে। সেটা নিয়ে উত্থান হওয়া বা সেটাকে নেগেটিভলি নেতিবাচকভাবে নেওয়ার এই দেশে কোন সুযোগ নাই। কিন্তু আপনারা উদ্বিগ্ন এবং এই দেশের এই ইসলামপন্থার রাজনীতি আপনারা নিয়ে এসছেন। আপনারা দীর্ঘকাল জামাতে ইসলামের সঙ্গে জোটবদ্ধ ছিলেন। তাহলে এই পন্থাকে এখন উদ্বিগ্ন হচ্ছেন কেন আপনারা?

উত্তরে ডক্টর আনম এসন হক মিলন বলেন, মজিবুর রহমান মঞ্জু সাহেব বলতে চাচ্ছেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতে যদি তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসেন, তাহলে তো করার কিছু নেই। কিন্তু ধরেন তারা যদি ভ্রুট মেজরিটি নিয়ে আসেন, তখন তারা যদি সংবিধানের মূল নীতি, রাষ্ট্রের কাঠামোগত নাম হতে শুরু করে ইসলামিক রিপাবলিক বানাতে চান, এটা তো সম্ভব না। কারণ সংবিধানের সবকিছুই পাল্টানো যায় না।

তিনি বলেন, মূলনীতির মধ্যে তো এমন কোন কথা বলেনি যেটা আমাদের অরিজিনাল ৭২ কনস্টিটিউশনের বাইরে গিয়ে ওটার মধ্যে থেকেই, তারা কিছু শব্দ বিযোজন সংযোজন করছে। তারা কি বলছে? এটা একটি সাম্প্রদায়িক দেশ হবে? বলেনি। তারা কি বলেছে এটা সেকুলারিজম থাকবে? না। আমরা এখন এসে বুঝাচ্ছি, ইসলামিস্টরা হচ্ছে দক্ষিণপন্থী। এইভাবে এই ন্যারেটিভটাকে এত সহজভাবে না দেখে আমি দেখতে চাই ইলেকশন, ইকুয়েশন। তারা এটাকে সেগ্রিগেটেড অর্থাৎ বিভাজিত করে সেগমেন্টেড করতে চাচ্ছে যে, আমরা ইসলামিক ফোর্সকে একত্রে করব। শেখ হাসিনা যাকে তাকে জঙ্গি বানাতো। জঙ্গি বানালে তার ফায়দা ছিল। ইন্টারন্যাশনাল ডমিনে বুঝাতে পারে যে, ইয়েস ওয়েস্টারন কান্ট্রি স্টে উইথ মি। আমাদেরকে জঙ্গি বানিয়ে দিত। জঙ্গি নাটক কত হয়েছে, এই সরকার কিন্তু সেই জঙ্গি নাটকগুলো এখন আর দেখাচ্ছে না। দেখানো উচিত ছিল।

এখন ভোটের ইকুয়েশন তো বিএনপি তো জামাতের সাথে একত্রেই ছিল। নিশ্চয়ই আমরা তো ইসলামী মূল্যবোধ বিশ্বাসই করি। এখন ধরুন, সংবিধানের আলোকে নির্বাচন কমিশনকে কাজ করতে হবে। হিজবুত তাহেরীকে কেন বন্ধ করেছে তারা? কারণ একটি দল যদি ফান্ডামেন্টালি বাংলাদেশের থিম এন্ড কনসেপ্টের বাইরে গিয়ে কোন রাজনৈতিক দল গঠন করে, তাহলেই এই নির্বাচন কমিশন সংবিধানের বাইরে চলে যাচ্ছে।

এরপর মুজিবুর রহমান মঞ্জুকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এই সরকারের ওপর সবারই প্রভাব আছে। জামাতের প্রভাব আছে কোন সন্দেহ নাই। বিএনপির প্রভাব আছে, এনসিপির প্রভাব আছে। ইভেন আওয়ামী লীগেরও প্রভাব আছে। আওয়ামী লীগের প্রভাব তো থাকবেই। কারণ এই সরকার তো শপথ নিয়েছে আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রপতির হাতে।

এই সরকারের যে কাঠামোগত কোন বড় ধরনের পরিবর্তন কিন্তু সে করে নাই। ফলে বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামীপন্থী বা আওয়ামী নীতি নির্ধারকদের এখনো এই সরকারের মধ্যে নীতি নির্ধারণী জায়গায় আছে। আপনি রিসেন্টলিও দেখবেন বেশ কয়েকজন সচিবকে বাদ দেয়া হয়েছে। বেশ কয়েকজন পুলিশকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বেশ কয়েকজন বিচারককে সরানো হয়েছে। এই জিনিসগুলো এখনো রয়ে গেছে।

তিনি বলেন, এই সরকারটা আসলে সবাইকে খুশি করে চলছে। সরকার একটা নারী নীতি ঘোষণা করেছিল। নারী নীতির পরে ইসলামিক দলগুলো কিন্তু সিরিয়াসলি এটাকে চ্যালেঞ্জ করেছিল। তারা বলেছিল, ১০ মিনিটের মধ্যে সরকারকে আমরা ফেলে দিতে পারি। তার মানে তারা সরকারকে মনে করছে এটা আমাদের সরকার না। কখনো মনে হচ্ছে এটা ইসলামপন্থীদের সরকার। আবার কখনো মনে হচ্ছে এটা ইসলামপন্থীদের সরকার না। কখনো মনে হচ্ছে এটা বিএনপিপন্থী সরকার। আবার কখনো মনে হচ্ছে সে জামাতকে তুষ্ট করে চলছে। এই পলিসিটা ভুল পলিসি।

তিনি আরো বলেন, অতীতে কখনোই কেয়ার টেকার সরকার দুর্বল ছিল না। আমরা দেখেছি অন্তবর্তীকালীন সরকার ছিল পাওয়ারফুল। এই প্রথমবার অন্তবর্তীকালীন সরকার কতক্ষণ বিএনপিকে তোষণ করছে। কতক্ষণ জামাতকে তোষণ করছে। কতক্ষণ এনসিপিকে তোষণ করছে, সম্পূর্ণ ভুল পলিসি নিয়েছেন। এই সরকারের এই দুর্বলতা আর আমি সহসা কাটানোর কোন লক্ষণ আমি দেখছি না। সরকারের ভেতরে সরকার না বরং আমি দেখছি যে, আলী রিয়াজ সাহেব একটা লেখা লিখেছিলেন প্রথম আলোতে। তাতে উনি লিখেছিলেন, সরকার ক্ষমতায় আছে কিন্তু কর্তৃত্বে নাই।

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর