প্রকাশিত:
২২ জুলাই ২০২৫, ১৬:২৬
ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র দাবদাহে দেশটির পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। দেশটির সরকারি গণমাধ্যম মঙ্গলবার জানিয়েছে, এক শতাব্দীর মধ্যে জলাধারগুলোতে পানির স্তর সবচেয়ে নিচে নেমে গেছে।
আবহাওয়া দপ্তরের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, তেহরানসহ দেশটির ৩১টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ১৮টি তীব্র তাপমাত্রার শিকার হয়েছে। গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এ তাপ প্রবাহ বৃহস্পতিবার নাগাদ ধীরে ধীরে কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। পানি ও বিদ্যুৎ বাঁচাতে রাজধানীসহ অন্তত ১০টি প্রদেশে বুধবার সরকারি অফিস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর আরো জানিয়েছে, অন্তত ১০টি প্রাদেশিক রাজধানীতে সোমবার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। তেহরানেও এ বছর প্রথমবারের মতো তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে।
বৃষ্টিপাত মারাত্মক ভাবে কমে যাওয়ায় এ তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দিয়েছে। তেহরানের প্রাদেশিক পানি সরবরাহ সংস্থা জানিয়েছে, রাজধানীতে ৬০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। খরার কারণে জলাধারগুলোতে পানির স্তর এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে নিচে নেমে এসেছে বলে জানিয়ে সংস্থাটি। পানির অনিয়মিত সরবরাহ মোকাবেলায় ট্যাংক ও পাম্প ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে তারা।
গত কয়েক দিনে তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় পানির ঘাটতি কয়েক ঘণ্টা করে স্থায়ী ছিল বলে জানিয়েছে বাসিন্দারা।
পানির সংকট নিয়ে যতটা বলা হচ্ছে তার চেয়ে বাস্তবতা আরো ভয়াবহ জানিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান রোববার সতর্ক করে বলেন, ‘বর্তমান প্রবণতা ঞ্চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আমরা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবো যার কোনো সমাধান থাকবে না। তেহরানে বাইরে থেকে পানি আনার মতো কার্যক্রম এ সমস্যার মৌলিক সমাধান নয়।’
মন্তব্য করুন: