বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল dailyvobnews@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • তেলের নতুন দাম আজ: এপ্রিলে সংকটের ভয় নেই, ডিজেলের বড় মজুদের সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
  • গুম হওয়া ব্যক্তিদের ‘জুলাইযোদ্ধা’ স্বীকৃতির দাবি: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন তাহসিনা রুশদীর লুনা
  • তেলের বাজারে অস্থিরতা: সাশ্রয় করতে 'হোম অফিস' ও স্কুল-কলেজে অনলাইন ক্লাসের কথা ভাবছে সরকার
  • সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগের পরই সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি রেজাউল হাসান
  • ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ আর নয়, নতুন পে স্কেলের দাবিতে উত্তাল হচ্ছে সরকারি কর্মচারীরা
  • এবার বেতন পাবেন খেলোয়াড়রা: ১২৯ ক্রীড়াবিদকে কার্ড দিলেন প্রধানমন্ত্রী, লক্ষ্য ৫০০ জনের কর্মসংস্থান
  • এক নজরে সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠক
  • তেলের দাম বাড়বে না, তবে পাচার করলেই কঠোর ব্যবস্থা
  • সংসদ অধিবেশনে নাহিদ ইসলামের হুঙ্কার: জুলাই সনদের ভিত্তিতেই এ সংসদ, গণভোটের রায় অমান্য করা যাবে না
  • ফুরিয়ে আসছে পেট্রোল, বাড়ছে অস্থিরতা: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞের ভয়াবহ পূর্বাভাস

ইয়েমেনে ভারতীয় নার্সের মৃত্যুদণ্ড ১৬ জুলাই : বাঁচার কোনো উপায় আছে?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
৯ জুলাই ২০২৫, ১৬:০৩

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক ভারতীয় নার্স নিমিষা প্রিয়াকে আগামী ১৬ জুলাই ফাঁসি দেওয়া হতে পারে। তার মুক্তির জন্য কাজ করা অধিকারকর্মীরা এ তথ্য জানিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিবিসি। ২০১৭ সালে তালাল আবদু মাহদি নামক এক স্থানীয় ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে নিমিষাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই ব্যক্তি ছিলেন তার সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার, যার কাটা-ছেঁড়া মৃতদেহ একটি পানির ট্যাং থেকে উদ্ধার করা হয়।

ইয়েমেনের শরিয়া ভিত্তিক আইন অনুযায়ী, তাকে মৃত্যুদণ্ড থেকে রক্ষা করার একমাত্র উপায় হলো মাহদির পরিবারের ক্ষমা। এজন্য নিমিষার পরিবার ও সমর্থকরা ১০ লাখ মার্কিন ডলার (৭ লাখ ৩৫ হাজার পাউন্ড) দিয়াহ বা রক্তমূল্য হিসেবে মাহদির পরিবারকে দিতে চেয়েছে।

‘সেভ নিমিষা প্রিয়া কাউন্সিল’ নামক সংগঠনের এক সদস্য বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা এখনও মাহদির পরিবারের ক্ষমা বা অন্য কোনো দাবি পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি।

’সংগঠনের সমাজকর্মী বাবু জন জানান, ‘প্রসিকিউশনের ডিরেক্টর জেনারেল থেকে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ জানানো হয়েছে। আমরা এখনও তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্ষমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত পরিবারের।’
কীভাবে ঘটল ঘটনাটি?

নিমিষা প্রিয়া ২০০৮ সালে ভারতের কেরালা রাজ্য থেকে নার্স হিসেবে কাজ করতে ইয়েমেন যান। ২০১৭ সালে মাহদির মৃতদেহ উদ্ধারের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বর্তমানে তিনি ইয়েমেনের রাজধানী সানার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। আদালতে অভিযোগ করা হয়, নিমিষা মাহদিকে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ দিয়ে মেরে ফেলেন এবং তার দেহ কেটে টুকরো করেন। তবে নিমিষা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০০৮ সালে ইয়েমেনে পাড়ি জমানোর পর আর্থিকভাবে সাহায্য করার জন্য নিজে একটি ক্লিনিক খোলেন। ইয়েমেনের নিয়ম অনুযায়ী, ব্যবসা করতে হলে একজন স্থানীয় সঙ্গীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে হয়।

ফলে তিনি ২০১৪ সালে ইয়েমেনি নাগরিক তালাল আবদু মাহদির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয় এবং মাহদির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন নিমিষা। ২০১৬ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও পরে মাহদি মুক্তি পেয়ে যান।
নিমিষার আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেন, ‘মাহদি নিমিষাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন, তার সকল টাকা ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। পাসপোর্ট কেড়ে নেন এবং বন্দুক দেখিয়ে হুমকি দেন। নিমিষা শুধু তার পাসপোর্ট ফেরত পেতে মাহদিকে অচেতন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ওষুধের মাত্রা বেশি হয়ে যায়।’

২০২০ সালে স্থানীয় আদালত নিমিষাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তার পরিবার এই রায়ের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে, কিন্তু ২০২৩ সালে আপিল খারিজ হয়ে যায়। ২০২৪ সালের শুরুতে হুথি বিদ্রোহীদের শীর্ষ রাজনৈতিক পরিষদের প্রেসিডেন্ট মাহদি আল-মাশাত মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করেন।

নিমিষার মা, কেরালার একজন গৃহকর্মী। ২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনে অবস্থান করছেন তার মেয়েকে বাঁচাতে। তিনি ইয়েমেনের সমাজকর্মী স্যামুয়েল জেরোমকে মাহদির পরিবারের সঙ্গে আলোচনার জন্য মনোনীত করেছেন। ‘সেভ নিমিষা প্রিয়া ইন্টারন্যাশনাল একসন কাউন্সিল’ নামক একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে ইতিমধ্যেই ১০ লাখ ডলার অফার করেছে মাহদির পরিবারকে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, তারা এখনও বিষয়টির বিস্তারিত যাচাই করছেন। বর্তমানে, নিমিষার জীবন ঝুলে আছে মাহদির পরিবারের সিদ্ধান্তের ওপর। রক্তমূল্য নিয়ে আলোচনা চলছে, কিন্তু সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। যদি ১৬ জুলাইয়ের আগেই ক্ষমা না আসে, তাহলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে।

 

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর