প্রকাশিত:
৮ জুলাই ২০২৫, ১৬:১৮
ভুয়া জমি দেখিয়ে প্রথমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, পরে নিজের প্রতারণা ঢাকতে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধেই অপহরণের মামলা করেছেন বাংলাদেশ গুম পরিবারের প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ বেল্লাল হোসেন। একই ঘটনা উল্লেখ করে দুইবার অপহরণ মামলা করে হেরে যান তিনি। এরপর চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি আবারও ‘গুমের অভিযোগ’ এনে মামলা করেন, যাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম জুড়ে দেন।
তবে বেসরকারি একটি টেলিভিশনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, নিজের প্রতারণা ঢাকতেই একের পর এক মিথ্যা মামলা ও ‘গুম নাটক’ সাজিয়েছেন বেল্লাল হোসেন।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, বেল্লাল মূলত একজন আবাসন ব্যবসায়ী। ‘লেক্সাস ডেভেলপার্স লিমিটেড’-এর কর্ণধার হিসেবে কুয়াকাটায় জমি বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। জমি না পেয়ে প্রতারণার শিকার অসংখ্য গ্রাহক তার বিরুদ্ধে মামলাও করেছেন। বেল্লালের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, জমি কেনার এক যুগ পার হলেও কেউই জমি বুঝে পাননি। উল্টো যিনি অভিযোগ করেন, তাকেই মিথ্যা মামলায় ফাঁসান বেল্লাল।
তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন সিটি হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও আমিন জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী কাজী সিরাজুল ইসলাম। ২০১২ সালে লেক্সাস ডেভেলপার্স লিমিটেড থেকে জমি কিনতে গিয়ে বেল্লালের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। কুয়াকাটায় ২০ কাঠা জমি কিনতে ৮২ লাখ টাকা দিয়েছিলেন।
সেই জমি বুঝে নিয়ে গিয়ে দেখেন প্রতারণার শিকার হয়েছে। পরে টাকা ফেরত চাইতে গেলে তার বিরুদ্ধেই একাধিক মামলা করেন প্রতারক বিল্লাল হোসেন।
ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম বলেন, সে এমনভাবে কথা বলে যেন তার চেয়ে ভালো মানুষ হয় না। কিন্তু আমাদের থেকে টাকা নিয়ে আর দেখা-ই দেয় না। আমাদের যে জমি লিখে দিয়েছে সেটাও ভুয়া। এমন কোনো জমিই নেই।
লেক্সাস ডেভেলপার্স থেকে জমি কিনে সিটি হাসপাতালের দুইজন পরিচালকও প্রতারিত হয়েছেন। হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. শহীদুল বারী বলেন, সে বলে— আমি একটা প্রজেক্ট করছি, আপনি যদি এই জমি কেনেন, পদ্মা সেতু হলে দাম বেড়ে যাবে, তখন জমি বিক্রি করে টাকা দিয়ে যাব। এই কথার ওপরে আমাদের এমডি জমি কেনেন। পরে আমাদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামও জমি কেনেন। এর ছয় মাস পর আমার কাছে আসে।
তিনি বলেন, জমি কেনার পর রমনা থানায় ৩টা আর সায়দাবাদ থানায় ১টা মামলা করে আমাদের বিরুদ্ধে। মামলায় দাবি করে, সে আমাদের কাছে টাকা পায়। পুলিশ তদন্ত করে দেখে উল্টো আমরা টাকা দিয়েছি। জমি না দেওয়ার ফন্দি হিসেবে সে মামলাগুলো করে বলে পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।
এখন পর্যন্ত ৯টি মামলা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তবে এসব মামলার মধ্যে তদন্ত হয়েছে যেগুলো তার সবই হেরে গেছেন বাদী বেল্লাল হোসেন।
ডা. শহীদুল বারী আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সময় এমপি-মন্ত্রীদের দিয়ে অফিস উদ্বোধন করিয়েছেন, কেক খাওয়ার ছবিও প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পরই ‘গুম পরিবারের সমন্বয়ক’ হয়ে গেলেন।’
এই মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে সাবেক জেলা জজ ও আইনজীবী শাহজাহান সাজু বলেন, ‘এই মামলায় কিছুই হবে না, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ভুক্তভোগীরা। মামলা টিকবে না, তবে টেকার আগেই যা ঘটবে তা হবে ভয়ঙ্কর।’
জানা গেছে, বেল্লাল হোসেন একই ধরনের আরো তিনটি ‘গুম মামলা’ করেছেন, এর মধ্যে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এবং একটি গুম কমিশনে।
মন্তব্য করুন: