বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল dailyvobnews@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • তেলের নতুন দাম আজ: এপ্রিলে সংকটের ভয় নেই, ডিজেলের বড় মজুদের সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
  • গুম হওয়া ব্যক্তিদের ‘জুলাইযোদ্ধা’ স্বীকৃতির দাবি: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন তাহসিনা রুশদীর লুনা
  • তেলের বাজারে অস্থিরতা: সাশ্রয় করতে 'হোম অফিস' ও স্কুল-কলেজে অনলাইন ক্লাসের কথা ভাবছে সরকার
  • সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগের পরই সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি রেজাউল হাসান
  • ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ আর নয়, নতুন পে স্কেলের দাবিতে উত্তাল হচ্ছে সরকারি কর্মচারীরা
  • এবার বেতন পাবেন খেলোয়াড়রা: ১২৯ ক্রীড়াবিদকে কার্ড দিলেন প্রধানমন্ত্রী, লক্ষ্য ৫০০ জনের কর্মসংস্থান
  • এক নজরে সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠক
  • তেলের দাম বাড়বে না, তবে পাচার করলেই কঠোর ব্যবস্থা
  • সংসদ অধিবেশনে নাহিদ ইসলামের হুঙ্কার: জুলাই সনদের ভিত্তিতেই এ সংসদ, গণভোটের রায় অমান্য করা যাবে না
  • ফুরিয়ে আসছে পেট্রোল, বাড়ছে অস্থিরতা: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞের ভয়াবহ পূর্বাভাস

কক্সবাজারের দুই লক্ষাধিক মানুষ পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
৬ জুলাই ২০২৫, ১৫:৫৯

অব্যাহত পাহাড় কাটার কারণে কক্সবাজার শহরের অর্ধলক্ষাধিক ঘরবাড়ির অন্তত দুই লক্ষাধিক মানুষ ঝুঁকির মুখে জীবন যাপন করছে। বর্ষায় বৃষ্টিপাত শুরুর পর নতুন করে বসতি স্থাপনে ব্যাপক হারে পাহাড় কাটায় পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। বিশেষ করে ক্যাম্প থেকে শহরমুখো রোহিঙ্গারা এসে পাহাড়ের পর পাহাড় কেটে ফেলছে। আবার এসব পাহাড়ে রোহিঙ্গারাই সবচেয়ে বেশি নতুন বসতি গড়ে তুলছে।

পৌর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন থেকে বারবার তাগিদ দিয়েও পাহাড় কাটা থামানো যাচ্ছে না।
কক্সবাজার পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের মধ্যে চারটিতেই রয়েছে পাহাড়ি এলাকা। সেগুলো হচ্ছে ৭, ৮, ৯ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড। সেই সঙ্গে পাশের ঝিলংজা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডেও রয়েছে পাহাড়ি এলাকা।

এসব এলাকায় রয়েছে দেড় থেকে দুই লক্ষাধিক ঘরবাড়ি। স্থানীয়দের চেয়ে রোহিঙ্গারাই শহরটির পাহাড়ি এলাকায় বেশি বসতি গড়ছে। নিশ্চিত জীবিকার সন্ধানে উখিয়া-টেকনাফের ক্যাম্প থেকে দলে দলে রোহিঙ্গারা শহরের এসব এলাকায় এসে আশ্রয় নিচ্ছে।

কক্সবাজার নাগরিক ফোরামের সভাপতি অ ন ম হেলাল উদ্দিন দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার শহরে অবৈধ রোহিঙ্গা বসতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একেবারে নীরবে গুরুত্বপূর্ণ শহরটির সরকারি জায়গা দখল করে নিচ্ছে রোহিঙ্গারা।

অথচ সমাজের কোনো প্রতিবাদ নেই এবং প্রশাসনেরও কোনো উচ্ছেদ কার্যক্রম নেই।’ তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা শহরে আসছে কাজের সন্ধানে। সাগরে মাছ ধরার নৌকায় জেলে থেকে শুরু করে বাসাবাড়ির ঝিয়ের কাজেও এখন রোহিঙ্গা। অথচ তাদের কারণেই পর্যটন শহরে দিন দিন বাড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।

কক্সবাজার পৌর শহরের পাহাড়তলী, ইসুলুরঘোনা, হালিমারপাড়া, বৈদ্যঘোনা, সাত্তারঘোনা, ফাতেরঘোনা, লাইটহাউস, কলাতলী, জয়নাল সওদাগরের ঘোনা প্রভৃতি এলাকায় পাহাড় কাটার দৃশ্য এখন স্বাভাবিক ব্যাপার।

এমনকি খোদ শহরের সরকারি হিলটপ সার্কিট হাউস সংলগ্ন পূর্ব পাশের পাহাড়গুলোও কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে ঘরবাড়ি। পাহাড় কাটার শ্রমিকরাও রোহিঙ্গা। দিন দিন জমির দাম বাড়ায় স্থানীয় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত লোকজন সিন্ডিকেট গড়ে পাহাড় কেটে প্লট বিক্রির ব্যবসায়ও নেমে পড়েছে।

কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত সাংবাদিক শামসুল ইসলামের একমাত্র সন্তান মোবাশ্বেরুল ইসলাম কালের কণ্ঠের কাছে অভিযোগ করেন, ‘শহরের ইসুলুরঘোনায় আমার খতিয়ানভুক্ত পৈতৃক পাহাড়ি জমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় সন্ত্রাসী ও রোহিঙ্গারা। আমি আমার সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে এখন সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে পড়েছি।’ তিনি জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরে পাহাড় কাটার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না। এ রকম ব্যক্তিগত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে পাহাড় কেটে ফেলার ঘটনা রয়েছে অনেক।

কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আশরাফুল হুদা সিদ্দিকী জামসেদ বলেন, এমনিতে সারা বছরই পাহাড় কাটা হয়। তবে বর্ষায় ভারি বৃষ্টির সময় পাহাড় কাটার ঘটনা বেশি। শহরের পাহাড়ি এলাকায় অবৈধ রোহিঙ্গাদের বসতি এমনভাবে বেড়ে গেছে যে রহমানিয়া মাদরাসার দক্ষিণে বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে শত শত রোহিঙ্গার অবৈধ বসতি। এলাকাটি পরিচিতি পেয়েছে রোহিঙ্গাপাড়া হিসেবে।

কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্ষণ শুরু হলেই পাহাড় কাটার মাত্রা বাড়ে। বেদনার বিষয় হচ্ছে, পাহাড়গুলো যারা কাটে, তারাই বেশির ভাগ পাহাড়ধসের শিকার হয়।’

কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. মুসাইব ইবনে রহমান বলেন, ‘জেলার সব পাহাড়ই কোনো না কোনোভাবে বেদখল অবস্থায় আছে। পাহাড়ধসের জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের চেয়ে ভয়ংকর পাহাড় কাটাই দায়ী। আবার বৃষ্টির সময় পাহাড়ের লোকজন পাহাড় থেকে মাটি সরাতে ঢালু করে দেয়। ফলে পাহাড়ধস হয়। পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চলমান।’

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর