শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল dailyvobnews@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • চুক্তি বাতিল ৯ সচিবের, ওএসডি ৩ — প্রশাসনে পুনর্বিন্যাসের বার্তা
  • অন্তর্বর্তী সরকারকে কাঠগড়ায় রাষ্ট্রপতি, ‘প্রাসাদবন্দি’ থাকার দাবি
  • বেইজিং-ঢাকা সম্পর্কে নতুন গতি, চীনের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর জন্য
  • মহিলা নেত্রীদের নাম আলোচনায়, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বিবেচনা
  • ভোরের পোস্ট, দিনে ভাইরাল: শফিকুর রহমানের স্ট্যাটাসে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া
  • একুশের আবহে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও বইমেলার উদ্বোধন ২৬ ফেব্রুয়ারি
  • স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং শোকপ্রস্তাব নিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন সংসদ কার্যক্রম
  • শূরা বৈঠকে জামায়াতের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি, নির্বাহী পরিষদে ২১ সদস্য
  • বিদায়ী উপদেষ্টাদের অধিকাংশই কূটনৈতিক পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছেন
  • ঈদের পর ধারাবাহিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসি

আওয়ামী লীগ এখন ইতিহাস নয়, প্রাগৈতিহাসিক উপাখ্যান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
৬ জুলাই ২০২৫, ১৩:৫১

সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনীতিবিদ গোলাম মাওলা রনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নামটি যেন বাংলাদেশে একটি ‘প্রাগৈতিহাসিক’ শব্দে রূপান্তরিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দেশে আওয়ামী লীগকে ঘিরে এখন এমন এক সামাজিক ও মানসিক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, যেখানে দলটির নাম উচ্চারণ করাও অনেকের জন্য ভীতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের জীবনচক্র আজ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে মনে হয় এটি অতীতের একটি উপাখ্যান মাত্র। সভ্যতার ইতিহাসে যেমন প্রাগৈতিহাসিক যুগ ছিল, ঠিক তেমনি এখন আওয়ামী লীগ যেন ইতিহাসের আগের কোনো নাম।

এর কোনো অর্জন, গর্ব, চিহ্ন—কিছুই অবশিষ্ট নেই।’ সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলের এক ভিডিওতে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘আজকে কেউ যদি শোনে তার বাবা আওয়ামী লীগ করতেন, সে সঙ্গে সঙ্গে তার পিতৃপরিচয় ভুলে যেতে চায়। কেউ যদি বলে, ওই লোকটা আওয়ামী লীগ করে, সঙ্গে সঙ্গে সে যেন দৌড় দেয় পেছনে না তাকিয়ে।

এটি এমন এক সামাজিক আতঙ্ক, যেখানে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ—এই শব্দগুলো শুনলেই মানুষ সরে দাঁড়ায়।’

রনি আরো অভিযোগ করেন, বর্তমানে যদি কাউকে ‘আওয়ামী লীগ’ আখ্যা দেওয়া হয়, তাহলে তার ঘরবাড়ি, কারখানা, স্ত্রী, সন্তান, এমনকি ব্যক্তিগত সম্পদও বিপদের মুখে পড়ে। যেন তিনি একজন সাধারণ নাগরিক নন, বরং রাষ্ট্রের শত্রু। তিনি এই অবস্থাকে প্রাগৈতিহাসিক নিষ্ঠুরতা হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে আইন ও ন্যায়বিচারের সব পথ বন্ধ হয়ে যায়।

রনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এখন এমন এক লাশ, যাকে তাৎক্ষণিকভাবে দাফন করা হচ্ছে না। বরং একটি কফিনে রেখে মানুষকে দেখানো হচ্ছে, ভয় দেখানো হচ্ছে, যেন কেউ আর এই দলের নামও না নেয়। এই দৃশ্যমান নির্মমতা মানুষকে শিক্ষা দিতে চায়—আওয়ামী লীগের নামই যেন নিষিদ্ধ হয়ে যায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘ঠিক যেমন আধুনিক যুগে শহরে মৃত্যু হলে কফিনে করে লাশ ফ্রিজে রাখা হয়, ঠিক তেমনি আওয়ামী লীগ নামক লাশকেও রাখা হচ্ছে জনসমক্ষে—প্রতীক হিসেবে, আতঙ্ক ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে।’ রনি প্রশ্ন করেন, আওয়ামী লীগ কি এখানেই শেষ? নাকি এটি ফিনিক্স পাখির মতো আগুন থেকে উঠে আবার জেগে উঠবে?

তিনি মনে করেন, যদি রাজনীতি আদর্শ ও চেতনার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে আওয়ামী লীগ একটি মূল্যবোধ, একটি রাজনৈতিক ঐতিহ্য, যা মুছে ফেললেও মানুষের মস্তিষ্কে, স্মৃতিতে, ইতিহাসে থেকে যাবে।

তার ভাষায়, “যদি সভ্যতার ধারায় চিন্তা করি, তাহলে আওয়ামী লীগের নাম, তার ইতিহাস, তার অবদান ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। হয়তো কোনো একদিন আবার ‘জাগো বাহে’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে এ দল জেগে উঠবে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর