প্রকাশিত:
১ জুলাই ২০২৫, ১৫:০৭
২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে দিল্লিতে ১০ বছরের বেশি পুরনো ডিজেলচালিত এবং ১৫ বছরের বেশি পুরনো পেট্রলচালিত গাড়ির চলাচল ও জ্বালানি ভরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে যাচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এই সিদ্ধান্ত থেকে গাড়ি শিল্প, আমদানিকারক ও সরকারের কর আদায়ে প্রায় ৪.৫ লাখ কোটি রুপি লাভ হতে পারে বলে জানানো হয়েছে গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (জিটিআরআই)-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরনো প্রায় ১৮ লাখ গাড়ি নতুন গাড়ি দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হলে এবং প্রতিটি গাড়ির গড় মূল্য ধরা হয় ১৫ লাখ রুপি, তাহলে শুধু এই খাত থেকেই ২.৭ লাখ কোটি রুপি টার্নওভার হবে। এ ছাড়া নতুন গাড়ি বিক্রি থেকে কেন্দ্রীয় সরকার পাবে ১৩.৫ লাখ কোটি রুপি জিএসটি ও ক্ষতিপূরণ কর বাবদ আর দিল্লি সরকার পাবে ৪.২১ হাজার কোটি রুপি সড়ক কর ও ডিজেল চার্জ থেকে।
জিটিআরআই আরো জানিয়েছে, বাস্তবে এই রাজস্ব আরো ৫০ শতাংশ বেশি হতে পারে, কারণ এতে ৪৪ লাখ দুই চাকার পুরনো যানবাহনের প্রতিস্থাপন থেকে আসা রাজস্ব ধরা হয়নি। যদিও এই নিষেধাজ্ঞা পরিবেশ রক্ষায় একটি বড় পদক্ষেপ, তবে এর ফলে দিল্লির মধ্যবিত্ত, ছোট ব্যবসায়ী এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করা মানুষজন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। অনেকেই এখনও পুরনো গাড়ির ওপর নির্ভরশীল জীবন ও জীবিকার জন্য।
কঠোর নজরদারি ও বাস্তবায়ন
এই নতুন নিয়ম বাস্তবায়নে জ্বালানি স্টেশনগুলোতে অটোমেটেড নম্বর প্লেট রিকগনিশন ক্যামেরা বসানো হবে, যা ডেটাবেসের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে পুরনো গাড়িকে জ্বালানি না দেওয়ার নির্দেশনা দেবে।
এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব শুধু দিল্লিতেই নয়, বরং গৌতম বুদ্ধ নগর (নয়ডা), গুরগাঁও ও গাজিয়াবাদসহ পুরো ন্যাশনাল ক্যাপিটালজুড়ে পড়বে। এতে প্রায় ১৮ লাখ চার চাকার যান এবং ৪৪ লাখ দুই চাকার যানবাহন প্রভাবিত হবে।
প্রতিবেদনে জিটিআরআই সুপারিশ করেছে, ‘ভারতের উচিত ইউরোপ ও আমেরিকার মতো সেরা চর্চাগুলো গ্রহণ করা— যেমন কঠোর ও স্বচ্ছ দূষণ পরীক্ষা, ধাপে ধাপে গ্রিন জোন চালু করা— কিন্তু সরাসরি বয়সের ভিত্তিতে পুরনো গাড়ি নিষিদ্ধ না করা।’
বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই কেবল গাড়ির বয়সের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা জারি হয় না।
বরং তারা কঠোর নির্গমন মান, রোড ফিটনেস পরীক্ষার মাধ্যমে এবং আর্থিকভাবে নিরুৎসাহিত করে পুরনো দূষণকারী গাড়িগুলো ধীরে ধীরে সরিয়ে দেয়।
সূত্র : খালিজ টাইমস
মন্তব্য করুন: