প্রকাশিত:
৩০ জুন ২০২৫, ১৭:৪৭
রাজশাহী দুর্গাপুর পৌরসভায় গত ২৩ বছরও গড়ে ওঠেনি ডাস্টবিন। পাড়া-মহল্লায় যত্রতত্র বর্জ্য ফেলে আসছে পৌর বাসিন্দারা। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রব ও মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বলছে, কিছু এলাকায় ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে।
আরো চেষ্টা চলছে। তবে জায়গার অভাবে ডাস্টবিন স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে, অনেকেই ডাস্টবিন না থাকায় শহরের পাশ দিয়ে যাওয়া হোজা নদীতে বর্জ্য ফেলছে। এতে নদী দূষণসহ জলজ জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বিরূপ প্রভাব প্রড়ছে পরিবেশের ওপর।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০২ সালে গঠিত হয় দুর্গাপুরে পৌরসভা। ‘খ’ শ্রেণির এ পৌরসভায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বসবাস। ২৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভায় প্রতিদিন গড়ে ৮০ টন বর্জ্য তৈরি হয়, যা অপসারণের কোনো ব্যবস্থা নেই। স্থায়ী কোনো ডাস্টবিন না থাকায় খোলা স্থানে বাসাবাড়ি, কার্যালয়, কল-কারখানা, ব্যবসা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সব বর্জ্য ফেলা হচ্ছে যেখানে-সেখানে।
পৌরসভায় সরকারি একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি দুইটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। তারাও পৌরসভার নির্দিষ্ট ডাস্টবিন না থাকায় যত্রতত্র বর্জ্য ফেলছেন। এ ছাড়া একটি কাঁচাবাজার, স্কুল-কলেজ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রতিদিন প্রচুর আবর্জনা তৈরি হয়। পৌরসভায় বর্জ্য অপসারণে দুইটি ভ্যানগাড়ি থাকলেও বর্জ্য সংগ্রহের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
পৌরসভা সূত্র জানায়, সেখানে নিয়মিত ১৭ জন কর্মকর্তা-কমচারী রয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্জ্য অপসারণে নিয়োজিত কোনো লোকবল নেই এ পৌরসভায়। তাছাড়া পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণির নয়। এ কারণে এ সমস্যা। তার পরও তারা বর্জ্য অপসারণের চেষ্টা করছেন তারা।
সম্প্রতি সরেজমিনে পৌর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দুর্গাপুর বাজারসহ বিভিন্ন মোড়ে, বাসাবাড়ির সামনে এবং বাড়ির বাইরে খোলা জায়গা ও সড়কের ওপর ময়লা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলা হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে।
রাজু নামের এক ফল ব্যবসায়ী বলেন, আমার দোকানটা সেতুসংলগ্ন। এখানে কোনো ডাস্টবিন নেই। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক মানুষ বস্তাভর্তি বর্জ্য ফেলে যায় এই সেতুর নিচে। এসব বর্জ্য তীব্র দুর্গন্ধ বের হয়। বসে থেকে ব্যবসা পরিচালনা করাটাই বিপদ হয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে মশা-মাছিরও অত্যাচার হয় খুব।
চৌপুকুরিয়া গ্রামের জাফর আলী বলেন, বাজারে যারা বসবাস করেন তারাইতো ময়লা ফেলার এই ডাস্টবিনের সুবিধা পাননি। তাহলে আমরা কি করে পাই। আমরা পৌর এলাকার হলেও অনেকটাই গ্রামের মানুষ। তবে গ্রামে এ সুবিধা না দেওয়া হলেও বাজারে এ ধরনের ব্যবস্থা করা দরকার। কারণ বাজার একটি পৌর শহর। তাই অন্তত সেখানে যত্রতত্র ময়লা ফেলে পরিবেশ দূষিত করা ঠিক হবে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌর এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বাজারে বা গ্রামে যেখানেই বলেন পৌরসভার নির্দিষ্ট কোনো ডাস্টবিন নেই। কেউ বাড়ির সামনে কেউবা আরেকজনের পড়ে থাকা ফাঁকা জমিতে- বাজার বা অফিস বলেন- সবাই যে যার মতো ময়লা ফেলে। এতে দুর্গন্ধের পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রবও বড়ছে।
স্কুলশিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, পৌরসভার সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে নিষ্কাশনব্যবস্থা। এখন পৌরসভার ডাস্টবিন করতে জায়গা পাওয়াটাও বড় বিষয়। ডাস্টবিন না থাকায় বেশিরভাগ মানুষই বাইরে ময়লা ফেলে চলে যান। তবে যদি আমাদের এসব এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ডাস্টবিন দেওয়া হয় এবং প্রতিদিনের ময়লা প্রতিদিন নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে হয়তো অনেকটা পরিষ্কার থাকবে।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী শাহাবুল হক বলেন, উপজেলা পরিষদ ও স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের ভেতর ডাস্টবিন রয়েছে। মানুষ ডাস্টবিন করার জন্য জায়গা দিতে চায় না। তাই সেভাবে ডাস্টবিন গড়ে ওঠেনি। তাছাড়া আমদের পৌরসভাটি ছোট। লোকবলেরও সংকট। এখন যেহেতু নির্বাচিত সরকার নেই। আগামীতে নির্বাচিত সরকার এলে হয়তো এ বিষয়ের সমাধান হবে।
দুর্গাপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন বলেন, আমরা চারটি স্থানে ডাম্পিং স্টেশন করেছি। ডাম্পিং স্টেশন করার জন্য মানুষ জায়গা দিতে চায় না। আমরা অন্য পন্থায় কিভাবে বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে ডাম্পিং স্টেশনে নিয়ে ফেলা যায়, সেই চেষ্টা করছি। তবে পৌরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন: