বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল dailyvobnews@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • তেলের নতুন দাম আজ: এপ্রিলে সংকটের ভয় নেই, ডিজেলের বড় মজুদের সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
  • গুম হওয়া ব্যক্তিদের ‘জুলাইযোদ্ধা’ স্বীকৃতির দাবি: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন তাহসিনা রুশদীর লুনা
  • তেলের বাজারে অস্থিরতা: সাশ্রয় করতে 'হোম অফিস' ও স্কুল-কলেজে অনলাইন ক্লাসের কথা ভাবছে সরকার
  • সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগের পরই সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি রেজাউল হাসান
  • ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ আর নয়, নতুন পে স্কেলের দাবিতে উত্তাল হচ্ছে সরকারি কর্মচারীরা
  • এবার বেতন পাবেন খেলোয়াড়রা: ১২৯ ক্রীড়াবিদকে কার্ড দিলেন প্রধানমন্ত্রী, লক্ষ্য ৫০০ জনের কর্মসংস্থান
  • এক নজরে সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠক
  • তেলের দাম বাড়বে না, তবে পাচার করলেই কঠোর ব্যবস্থা
  • সংসদ অধিবেশনে নাহিদ ইসলামের হুঙ্কার: জুলাই সনদের ভিত্তিতেই এ সংসদ, গণভোটের রায় অমান্য করা যাবে না
  • ফুরিয়ে আসছে পেট্রোল, বাড়ছে অস্থিরতা: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞের ভয়াবহ পূর্বাভাস

মেসি-পিএসজি : একটি ভুল প্রেমের গল্প

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত:
২৮ জুন ২০২৫, ১৬:৩৯

লিওনেল মেসির বয়স এখন ৩৮। দুই দশকেরও বেশি সময়ের ফুটবল ক্যারিয়ারে বহু শিরোপা, বহু গল্প, আর অসংখ্য আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম দিয়েছেন তিনি। কিন্তু সেই দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ‘খারাপ’ অধ্যায় নিঃসন্দেহে তার প্যারিসে (পিএসজি) কাটানো সময়।

বার্সেলোনা ছাড়তে চাচ্ছিলেন না মেসি।

সেটাই ছিল তার ঘর, পরিবার, গড়ে তোলা শহর। কিন্তু ক্লাবের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে বাধ্য হয়েই বিদায় নিতে হয়েছিল তাকে। এরপর কাঁদতে কাঁদতেই বিদায় বলেছিলেন। মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই নাম লেখান পিএসজিতে। যেন না চেয়েও এক অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কের শুরু!

বন্ধু নেইমার আর পরিচিত মুখের উপস্থিতিতে শুরুতে আশা করেছিলেন সহজে মানিয়ে নিতে পারবেন। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। কভিড, প্রি-সিজন না থাকা, প্যারিসের যানজট আর ঠিকমতো বসবাসের ব্যবস্থা না হওয়া—সব মিলিয়ে শুরু থেকেই সব কিছু যেন ব্যস্ত ও বিব্রতকর ছিল। সে সময় মেসি বলেছিলেন, ‘পিএসজিতে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই অখুশি ছিলাম, উপভোগ করতে পারিনি।

’দুই মৌসুমে গোল পেয়েছেন কম, পারফরম্যান্সেও ছিল না বার্সার সেই পুরনো ছায়া। সমর্থকরাও ছিলেন হতাশ। সম্পর্ক ছিল ভঙ্গুর, এমনকি শেষদিকে নিজ দলের সমর্থকদের দুয়োও শুনতে হয়েছে তাকে। অথচ এই একই মেসি কাতার বিশ্বকাপে ছিলেন দুর্দান্ত, আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছেন বিশ্বকাপ।

ফলে পিএসজি সমর্থকদের মনে প্রশ্ন—এই মেসি কোথায় ছিলেন আমাদের জার্সিতে? এদিকে, পিএসজির ভেতরেও চলছিল অস্থিরতা।

তিনজন সুপারস্টার—মেসি, নেইমার ও এমবাপ্পে—তাদের মধ্যে কেউই রক্ষণে কাজ করতে আগ্রহী ছিলেন না, ফলে দল হয়ে পড়ে ভারসাম্যহীন। মেসিকে অনেকেই দেখেছেন কেবল এক মার্কেটিং চুক্তি হিসেবে—যার থেকে খেলোয়াড়ি সাফল্যের চেয়ে অর্থনৈতিক ফায়দাই ছিল বড়।
পিএসজির সঙ্গে শেষ পর্যন্ত মেসি চুক্তি নবায়ন করেননি। পিএসজিও তাকে রাখার ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়েছিল। আলাদা হয়ে যাওয়া তাই ছিল স্বাভাবিক।

তবে শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদ দুই পক্ষের জন্যই আশীর্বাদ হয়। মেসি গেছেন মায়ামিতে, পেয়েছেন তার পছন্দের পরিবেশ আর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ। আর পিএসজি নিজেদের অর্থনৈতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে এনে তরুণ প্রতিভায় বিনিয়োগ করে অবশেষে বহুল আকাঙ্ক্ষিত চ্যাম্পিয়নস লিগও জিতেছে।

রবিবারের ক্লাব বিশ্বকাপ ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইন্টার মায়ামি ও পিএসজি। অনেকে একে ‘বিদ্বেষ, ক্ষোভের ম্যাচ’ বললেও বাস্তবে এটি যেন পুরনো এক সম্পর্কের ভদ্র, শান্তিপূর্ণ পুনর্মিলন—যেখানে দু’পক্ষই বুঝে গেছে, তারা একে অপরের জন্য ঠিক উপযুক্ত ছিল না।
তাইতো ৩৮তম জন্মদিনে পিএসজির এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে মেসিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ‘সঙ্গে লেখা হয়, ‘রবিবার দেখা হবে।’

সত্যি বলতে, এটি হয়তো ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ভুল ‘রিবাউন্ড’- অর্থাৎ প্রতিঘাত সম্পর্ক—কিন্তু বিচ্ছেদটি হয়েছে সত্যিই আশীর্বাদস্বরূপ।

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর