বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল dailyvobnews@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • তেলের নতুন দাম আজ: এপ্রিলে সংকটের ভয় নেই, ডিজেলের বড় মজুদের সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
  • গুম হওয়া ব্যক্তিদের ‘জুলাইযোদ্ধা’ স্বীকৃতির দাবি: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন তাহসিনা রুশদীর লুনা
  • তেলের বাজারে অস্থিরতা: সাশ্রয় করতে 'হোম অফিস' ও স্কুল-কলেজে অনলাইন ক্লাসের কথা ভাবছে সরকার
  • সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগের পরই সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি রেজাউল হাসান
  • ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ আর নয়, নতুন পে স্কেলের দাবিতে উত্তাল হচ্ছে সরকারি কর্মচারীরা
  • এবার বেতন পাবেন খেলোয়াড়রা: ১২৯ ক্রীড়াবিদকে কার্ড দিলেন প্রধানমন্ত্রী, লক্ষ্য ৫০০ জনের কর্মসংস্থান
  • এক নজরে সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠক
  • তেলের দাম বাড়বে না, তবে পাচার করলেই কঠোর ব্যবস্থা
  • সংসদ অধিবেশনে নাহিদ ইসলামের হুঙ্কার: জুলাই সনদের ভিত্তিতেই এ সংসদ, গণভোটের রায় অমান্য করা যাবে না
  • ফুরিয়ে আসছে পেট্রোল, বাড়ছে অস্থিরতা: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞের ভয়াবহ পূর্বাভাস

ভারতীয় সেনা ও মিয়ানমারের বিদ্রোহীরা মুখোমুখি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
৩ জুন ২০২৫, ১৬:০৭

২০২৫ সালের ১৪ মে, ভারতের আসাম রাইফেলস বাহিনী মিয়ানমার সীমান্তবর্তী মণিপুর রাজ্যের চান্দেল জেলায় অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারের বিদ্রোহী সংগঠন পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেস (পিডিএফ)-এর অন্তর্ভুক্ত পা কা ফা (পিকেপি)-এর ১০ জন সদস্যকে গুলি করে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে তিনজন কিশোর ছিল বলে জানা গেছে।

ভারতের দাবি, নিহতরা সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত ছিল এবং আসাম রাইফেলসের একটি টহল দলের ওপর গুলি চালানোর জবাবে তাদের হত্যা করা হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, নিহতরা ক্যামোফ্লাজ ইউনিফর্ম পরিহিত ছিল এবং ঘটনাস্থল থেকে সাতটি একে-৪৭ রাইফেল ও একটি রকেটচালিত গ্রেনেড লঞ্চার উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে ভিন্ন দাবি করেছে মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি)। তাদের মতে, এসব যোদ্ধাকে আটক করে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। সূত্রের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, নিহতরা মিয়ানমারের তামুর জেলার একটি ক্যাম্পে অবস্থান করছিল, আর ভারতীয় বাহিনী তাদের অবস্থান সম্পর্কে আগেই জানত – যা মিয়ানমারের সামরিক সরকার সরবরাহ করেছিল।

এ ঘটনার পর ভারতের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে কিছু তথ্যবিভ্রান্তি লক্ষ্য করা গেছে। ১৬ মে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, টহলদলকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে তারা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। পরে, ২১ মে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিহতদের ‘পিকেপির ক্যাডার’ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং জানায়, তাদের উদ্দেশ্য ছিল সীমান্তে চলমান বেড়া নির্মাণ কাজে বাধা দেওয়া ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের ক্ষতি সাধন করা।

এই ঘটনার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ভারতের পক্ষ থেকে এখনো আল জাজিরা পায়নি। তবে এটি ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী এবং মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।

উল্লেখ্য, গত দুই বছর ধরে মণিপুর রাজ্যে জাতিগত সহিংসতা চলমান। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রায়ই অভিযোগ করে আসছে যে মিয়ানমার থেকে আগত অভিবাসীরা এই সহিংসতাকে উস্কে দিচ্ছে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ প্রকল্প এই পুরনো জাতিগত টানাপোড়েনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

মিয়ানমার ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতি বিষয়ক গবেষক অংশুমান চৌধুরী বলেন, “এই হত্যাকাণ্ড ভারতীয় বাহিনী এবং মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের মধ্যকার সংঘর্ষের ধরন পাল্টে দিতে পারে। অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোও ঘটনাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, যার ফলে এই উত্তেজনা দ্রুত অন্যত্র ছড়িয়ে পড়তে পারে।”

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই ঘটনা ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর