শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল dailyvobnews@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • চুক্তি বাতিল ৯ সচিবের, ওএসডি ৩ — প্রশাসনে পুনর্বিন্যাসের বার্তা
  • অন্তর্বর্তী সরকারকে কাঠগড়ায় রাষ্ট্রপতি, ‘প্রাসাদবন্দি’ থাকার দাবি
  • বেইজিং-ঢাকা সম্পর্কে নতুন গতি, চীনের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর জন্য
  • মহিলা নেত্রীদের নাম আলোচনায়, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বিবেচনা
  • ভোরের পোস্ট, দিনে ভাইরাল: শফিকুর রহমানের স্ট্যাটাসে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া
  • একুশের আবহে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও বইমেলার উদ্বোধন ২৬ ফেব্রুয়ারি
  • স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং শোকপ্রস্তাব নিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন সংসদ কার্যক্রম
  • শূরা বৈঠকে জামায়াতের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি, নির্বাহী পরিষদে ২১ সদস্য
  • বিদায়ী উপদেষ্টাদের অধিকাংশই কূটনৈতিক পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছেন
  • ঈদের পর ধারাবাহিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসি

কলাগাছের তন্তু থেকে টিন-টাইলস

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত:
২৩ মে ২০২৪, ১৩:৩৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাজ্জাদুল ইসলাম। সে কলাগাছের তন্তু বিশেষায়িত করে প্লাস্টিক, কার্বন ও সিলিকন পণ্যের বিকল্প ব্যবহারযোগ্য পরিবেশবান্ধব টাইলস ও টিন তৈরির ফর্মুলা আবিষ্কার করেছে। একই সঙ্গে পচা বা অব্যবহৃত সবজির শ্বেতসার থেকে বানিয়েছে পচনযোগ্য পলিথিন। তার এসব পণ্য পরিবেশবান্ধব ও অনেকটা সাশ্রয়ী।

সাজ্জাদুলের বাবা একজন দরিদ্র কৃষক। তার বাড়ি শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের মহাজেরাবাদ গ্রামে। সে জানায়, শুধু টাইলস নয়, তার আবিষ্কৃত কাঁচামাল দিয়ে প্লাস্টিক, কার্বন ও সিলিকনে তৈরি প্লাস্টিকের আসবাব, টিন, টাইলস ও কার্বনের তৈরি মোটরযানের যন্ত্রাংশের বিকল্প হিসেবে কলাগাছের তন্তু ব্যবহার করা সম্ভব। এমনকি বুলেট প্রুফ দরজা-জানালাও তৈরি হবে। এই কাঁচামালে ৬৫ শতাংশ কলাগাছের তন্তু ও ৩৫ শতাংশ রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার হয়েছে।

জানা গেল, তার উদ্ভাবিত প্লাস্টিক পণ্য উচ্চ তাপে গলিয়ে সহজেই রাসায়নিক দ্রব্য ও কলাগাছের তন্তু আলাদা করা যায়। আর সবজির শ্বেতসার থেকে তৈরি পলিথিন মাটিতে এক মাসে ও পানিতে তিন মাসে পচে যাবে, যা মাটির জন্য হবে জৈব সার ও পানিতে হবে মাছের খাবার।

কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক হৃদয় কুমার ভৌমিক জানান, সাজ্জাদুল কলাগাছের সেলুলোজ সমৃদ্ধ তন্তুর হাইডো অক্সাইড ও রেজিন ব্যবহার করে টাইলস ও আলুর শ্বেতসার থেকে পলিথিন তৈরি করে দেখিয়েছে। কলেজের ল্যাবে তা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও দেখেছেন। আরও অধিক গবেষণায় ভালো ফল আসতে পারে।

উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক রোমান মিয়া বলেন, প্রধান কাঁচামাল কলাগাছের তন্তু সহজলভ্য। তাই এটির ব্যবহারে গ্লাস ফাইবার ও কার্বন ফাইবারের প্রয়োগ কমবে। সাজ্জাদুলের উদ্ভাবিত পলিথিন পরিবেশের ওপর অপচনশীল পলিথিনের প্রভাব কমাবে।

সাজ্জাদুলের উদ্ভাবিত টাইলসের ওজন পায় ৩০০ গ্রাম। এর মধ্যে রয়েছে ২০০ গ্রাম কলাগাছের তন্তু ও হাইড্রো অক্সাইড ৬০ গ্রাম এবং রেজিন ৪০ গ্রাম। দীর্ঘ সময় ধরে পণ্যটি যেন না পচে এ জন্য রেজিন ব্যবহার হয়। হাইড্রো অক্সাইড রেজিনের অবস্থানকে আরও শক্তি দেয়। আর পরিবেশবান্ধব পলিথিনের জন্য ব্যবহার হয় বাজারের পরিত্যক্ত সবজি থেকে সংগ্রহ করা শ্বেতসার, অ্যাসিটিক এসিড ও গ্লিসারল।

সাজ্জাদুলের দাবি, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার ফল ও সবজি অপচয় হয়। এই অপচয় করা শস্য থেকে পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরি করা হলে দেশের অর্থনীতিতে আসতে পারে বড় পরিবর্তন। পাশাপাশি কমে আসবে পরিবেশ দূষণ।

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর